আগ্নেয়গিরি কাকে বলে? আগ্নেয়গিরি কয় প্রকার ও কি কি?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা আগ্নেয়গিরি কাকে বলে এবং আগ্নেয়গিরি কয় প্রকার ও কি কি তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । মাধ্যমিক স্তরের এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই উত্তরটি মন দিয়ে পড়ুন এবং খাতায় লিখে রাখুন ।

আগ্নেয়গিরি কাকে বলে? আগ্নেয়গিরি কয় প্রকার ও কি কি?

এর আগের পোস্টে আমরা গ্রিন হাউস গ্যাস কি? গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাব লেখ তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম ।

আগ্নেয়গিরি কাকে বলে?

ভূ-অভ্যন্তরে উত্তপ্ত বিভিন্ন গলিত পদার্থ, পাথর এবং গ্যাস ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে বেরিয়ে ভূপৃষ্ঠের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে ফাটলের চারপাশে ধীরে ধীরে জমা হয়ে মৌচাক আকৃতির আকার ধারণ করে একে আগ্নেয়গিরি বলে ।

আগ্নেয়গিরি কয় প্রকার ও কি কি?

আগ্নেয়গিরিকে যথাক্রমে তিনভাগে ভাগ করা হয়-

১) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি

২) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি

৩) মৃত আগ্নেয়গিরি

১) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি- যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে সারাবছর প্রায়ই নিয়মিত ভাবেই অগ্ন্যুৎপাত হয় তাদের সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে ।

সক্রিয় আগ্নেয়গিরিকে আবার দুইভাগে ভাগ করা হয় । ১) অবিরাম আগ্নেয়গিরি ও ২) সবিরাম আগ্নেয়গিরি ।

  • অবিরাম আগ্নেয়গিরি- যেসব আগ্নেয়গিরিতে প্রায়ই প্রতিদিনই অগ্ন্যুৎপাত হয় তাকে অবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে ।
  • সবিরাম আগ্নেয়গিরি- যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে কিছুদিন অন্তর অন্তর অগ্ন্যুৎপাত হয় তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে ।

২) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি- যেসব আগ্নেয়গিরি সুপ্ত অবস্থায় আছে অর্থাৎ যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে অনেকদিন অগ্ন্যুৎপাত হয়নি এবং ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে ।

উদাহরণ- ইতালির ফুজিয়ামা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির একটি উদাহরণ ।

৩) মৃত আগ্নেয়গিরি- মৃত আগ্নেয়গিরি বলতে সেইসব আগ্নেয়গিরিকে বোঝায় যেখানে অতীতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে কিন্তু এখন মৃত অবস্থায় আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যুৎপাতের কোন সম্ভাবনা নেই তাদের মৃত আগ্নেয়গিরি বলে ।

উদাহরণ- মায়ানমারের মাউন্ট পোপো হল একটি মৃত আগ্নেয়গিরি ।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণ কি

ভূত্বকের কোন দুর্বল স্থানে ফাটল বা ছিদ্রপথ ভেদ করে ভূগর্ভের ধোঁয়া, জলীয় বাষ্প, ম্যাগমা প্রচণ্ড বেগে উৎক্ষেপিত হয়ে ভূপৃষ্টের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে তখন তাকে অগ্ন্যুৎপাত বলে । অগ্ন্যুৎপাতের কারণগুলি হল-

উত্তপ্ত ভূত্বক- পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগ প্রচণ্ড গরম অবস্থায় রয়েছে । কেন্দ্রমন্ডল ও গুরুমন্ডলের বিভিন্ন পদার্থ উত্তপ্ত হয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয় । এই ম্যাগমাগুলিই পরবর্তীকালে ভূপৃষ্ঠের ওপরে লাভা রূপে বেরিয়ে আসে ।

পাত সংস্থান তত্ত্ব- পাত সংস্থান তত্ত্ব অনুসারে পৃথিবীর একটি পাতের নীচে অপর পাতের অনুপ্রবেশ ঘটলে ভূপৃষ্ঠের ম্যাগমা ওই ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায় ।

রাসায়ানিক প্রক্রিয়া- ভূ গর্ভের বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ রাসায়ানিক বিক্রিয়ার ফলে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থের সৃষ্টি করে । পরবর্তীকালে সেই গ্যাসীয় পদার্থগুলি ভূ অভ্যন্তরে চাপের সৃষ্টি করলে তা ভূপৃষ্ঠের বাইরে ম্যাগমা বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায় ।

তেজস্ক্রিয় পদার্থের চাপ- ভূপৃষ্ঠের মধ্যে থাকা বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন রেডিয়াম, থোরিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পদার্থ পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচুর পরিমাণে তাপ সৃষ্টি করে যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর ভূভাগে চাপ সৃষ্টি হয় এবং ভূপৃষ্ঠের লাভা বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায় ।

আরও পড়ুন-

গ্রিন হাউস গ্যাস কি? গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাব লেখ

আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য লেখ?

ভারতীয় কৃষিতে জলসেচের প্রয়োজনীয়তা ও কারণ

Leave a Comment