আধুনিক ইতিহাসের লিখন পদ্ধতি আলোচনা কর

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা আধুনিক ইতিহাসের লিখন পদ্ধতি অথবা আধুনিক ইতিহাস উপাদান গুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । উচ্চমাধ্যমিক এর এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষাতে এই প্রশ্নটি প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা মার্কেনটাইল মতবাদ বলতে কি বোঝ? এর বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা কর এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

আধুনিক ইতিহাসের লিখন পদ্ধতি আলোচনা কর

আধুনিক ইতিহাসের লিখন পদ্ধতি

আধুনিক ইতিহাসের লিখন পদ্ধতি একটি নির্দিষ্ট আইন মেনেই চলতে হয় ।

মানব সমাজ ও সভ্যতার ধারাবাহিক বিবর্তন ও মানুষের অতীতকালের কাজের ওপর গবেষণার ফসল হল ইতিহাস । আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে মানব সভ্যতার উদ্ভব হলেও ইতিহাস লেখার সুত্রপাত ঘটে বহুকাল পরে । সর্বপ্রথম যথার্থ ইতিহাস লেখা শুরু করেন ইতিহাসের জনক হিসেবে পরিচিত গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস । এরপর বৈজ্ঞানিক ইতিহাস লেখার সুত্রপাত ঘটে থুকিডিডিস এর হাথ ধরে । আর আধুনিক ইতিহাস লেখনের সুত্রপাত ঘটান ইবন খাতুন । উনবিংশ শতকে র‍্যাঙ্কে ইতিহাস চর্চায় বিজ্ঞানসম্মত পথ দেখান । তা অনুসরণ করেন প্রদেল-ই-এইচ কারম। মার্ক ব্লক প্রমুখ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার মতো যথার্থ ইতিহাস রচনা করতে গেলে ঐতিহাসিক কে ইতিহাসের নিজস্ব লিখন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে ।

উপাদান- ইতিহাস রচনায় কয়েকটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ এগুলি হল ঐতিহাসিক, ঐতিহাসিক উৎস ও তথ্য এবং সুসংবদ্ধ পদ্ধতি ।

উৎস সংগ্রহ- ইতিহাসের বিষয়বস্তুর মূল নীতি হল ঐতিহাসিক উৎস । যথার্থ ইতিহাস রচনায় উপযোগী ঐতিহাসিকের প্রথম কাজ হল বিভিন্ন ধরণের উৎসের সন্ধান করা, এই উৎস বিভিন্ন রকমের হতে পারে যেমন-

১) প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস (অস্ত্র শস্ত্র, জীবাশ্ম, হাড়গড়, লেখামুদ্রা প্রভৃতি)

২) মৌখিক উৎস (পৌরাণিক কাহিনী, রুপকথা, কিংবদন্তি প্রভৃতি)

৩) যুক্তিভিত্তিক উৎস (চিত্রকলা, মানচিত্র, নক্সা প্রভৃতি)

৪) লিখিত বিবরণ (প্রাচীন পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি)

উৎসের শ্রেণীবিভাগ- ঐতিহাসিক এর কাজ হল উৎস সংগ্রহ করার পর সেই উৎসগুলির গুরুত্ব অনুসারে অতি প্রয়োজনীয়, মোটামুটি প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় উৎসগুলিকে চিহ্নিত করে সেই উৎসগুলি সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান লাভ করতে ।

উৎস সম্পর্কে গবেষণা- উৎস থেকে তথ্য উদঘাটন করার জন্য উৎস নিয়ে গভীর ও নিরপেক্ষ গবেষণা করতে হবে ।

তথ্য এর যাচায়করণ– ঐতিহাসিক তথ্যগুলি গ্রহণ করার পর সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে যাচাই করা প্রয়োজন । এক্ষেত্রে দুটি কাজ হল তথ্যের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনা । যার দ্বারা জালিয়াতি বা প্রকৃতরুপ ও মৌলিকত্ব যাচায় করা হয় ।

আরও পড়ুন-

গুপ্ত যুগের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য এবং শিল্পকলা

অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ কি?

সামন্ততন্ত্র বলতে কি বোঝ? সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

Leave a Comment