আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল PDF

বন্ধুরা, আজকে আমরা আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করছি । এটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই উত্তর টি ভালোভাবে পড়ুন । এই উত্তর এর PDF টি নিচে দেওয়া আছে

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল PDF

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

পটভূমি

কলম্বাসের ১৪৯২ সালে আমেরিকা আবিষ্কারের পর ইংরেজরাই সর্বপ্রথম সেখানে ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে উপনিবেশ গড়ে তুলে । সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে স্টুয়ারট রাজবংশের রাজত্বকালে স্টুয়ারট শাসকগণ পিউরিটানদের ওপর অত্যাচার শুরু করলে তারা ইংল্যান্ড ছেড়ে আমেরিকার বিভিন্ন উপনিবেশ এ বসবাস শুরু করে ।

আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন মূলত উত্তর আমেরিকার ব্রিটিশ শাসিত ১৩ টি উপনিবেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা থেকে সৃষ্টি হয়। ১৭৭৫ সালের এপ্রিলে লেক্সিংটন এবং কনকর্ডে ব্রিটিশ সৈন্য এবং উপনিবেশ সৈনিকদের মধ্যে সংঘর্ষ পরবর্তীতে সশস্ত্র সংঘাতের সূচনা করে। স্থানীয় বিদ্রোহীরা ‍উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হতে স্বাধীনতার ডাক দেয়।

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণ

কর বৃদ্ধি – সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইংল্যান্ডের ঋণ বেড়ে গেলে সেই ঋণ এর সামাল দিতে অথবা মুক্তি পেতে ইংল্যান্ড আমেরিকার তেরোটি উপনিবেশ এ একাধিক কর চাপায় । আমেরিকার তেরোটি উপনিবেশ নেভিগেশন আইন (১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে), সুগার অ্যাক্ট (১৭৬৪ খ্রিঃ), স্ট্যাম্প অ্যাক্ট (১৭৬৫ খ্রিঃ) ইত্যাদির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায় । যার কারণে ১৭৭৩ খ্রিঃ বোস্টন হত্যাকাণ্ড এর মতো ঘটনা লক্ষ্য করা যায় । চা এর ওপর তিন পেনি কর বহাল রাখার জন্য শুরু হয় । এভাবেই শুরু হয় ব্রিটিশদের সঙ্গে আমেরিকার ঔপনিবেশিকদের লড়াই ।

ফরাসীদের পরাজয় – সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধে ফরাসীদের পরাজয় ঘটে এবং কানাডা ইংরেজ দের হস্তক্ষেপ হলে আমেরিকা বাসীর মন থেকে ফরাসী আক্রমণ এর ভীতি দূর হয় ।

সামাজিক বৈষম্য – ইংরেজ বাসীরা সরকারের সমস্ত আভিজাত্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করত । সেখানে আমেরিকার ঔপনিবেশিকদের নিম্নশ্রেণীর চোখে দেখা হত । ঔপনিবেশিকদের প্রতি এই সামাজিক বৈষম্য এর কারণেই তারা আন্দোলনের প্রক্রিয়া শুরু করতে থাকে ।

সামাজিক বিচ্ছিনতা – ইংরেজদের জাতি ধর্ম কোনোভাবেই আমেরিকার ঔপনিবেশিকদের সঙ্গে মিল হয়ে উঠতে পারছিল না । যার ফলে একটি বিচ্ছিনতা বাদী মনোভাব তাদের মধ্যে দেখা যায় । মার্কিন চিন্তাবিদ টমাস পেইন লেখেন – “ভাবতে অবাক লাগে যে একটি ছোট দ্বীপ কিভাবে একটি মহাদেশ কে অনন্তকাল ধরে শাসন করে যাবে “

১৭৭৫ সালের এপ্রিলের কয়েকশ ব্রিটিশ সেনা বোস্টন থেকে ম্যাসাচুসেটস-এর নিকটবর্তী কনকর্ডে উপনিবেশিক মিলিশিয়ারা ব্রিটিশ বাহিনীকে বাধা দেওয়ার জন্য একত্রিত হতে শুরু করে। ১৯ এপ্রিল, ম্যাসাচুসেটস এর লেক্সিনটন এবং কনকর্ডের যুদ্ধে স্থানীয় মিলিশিয়ারা ব্রিটিশ সেনাদের সাথে সংঘর্ষ লিপ্ত হয়। এর মাধ্যমে বিপ্লব সূচনার শুরু হয়।

ফিলাডেলফিয়ায় দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস বসলে প্রতিনিধি বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন এবং টমাস জেফারসন সহ কন্টিনেন্টাল আর্মি গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ১৭ জুন বিপ্লবের প্রথম লড়াইয়ে উপনিবেশিক বাহিনী বোস্টনের ব্রিডস হিলের জেনারেল উইলিয়াম হাওয়ের ব্রিটিশ বাহিনকে প্রচুর হতাহত করেছিল যা বাঙ্কার হিলের যুদ্ধ নামে পরিচিত।

১৭৭৬ সালের জুনের মধ্যে বিপ্লব পুরোদমে শুরু হওয়ার সাথে সাথে ক্রমবর্ধমান সহিংসের মধ্যে উপনিবেশিকরা ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার পক্ষে মত দেয়। ফলে ৪ জুলাই, ১৭৭৬ সালে কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রধান সেনাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং টমাস জেপারসনের রচিত ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে অবশেষে আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।

প্রায় ৮ বছর ধরে চলা আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন অবশেষে ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশরা স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়।

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলাফল

সমাজে নতুন শ্রেণীর প্রাধান্য – আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আভিজাত্য শ্রেণীর প্রাধান্য হ্রাস পায় এবং বুর্জোয়া দের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায় । সমাজে নতুন ব্যাবসায়ী দের প্রাধান্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পায় ।

অর্থনৈতিক উন্নতি – আমেরিকা তাদের নিজ দেশের ব্যাবসা তে নিবেশ করার সুযোগ পায় এবং পরোক্ষ ভাবে আমেরিকার অর্থনৈতিক উন্নতি বৃদ্ধি পেতে থাকে ।

নতুন রাষ্ট্র ব্যাবস্থা – জনগণের সার্বভৌমত্ব এর আদর্শ কে ভিত্তি করে শুরু হয় এক নতুন রাষ্ট্র ব্যাবস্থা – গনতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ।

আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি – স্বাধীনতা যুদ্ধের দ্বারা ইংল্যান্ড সার্বাধিক প্রভাবিত হয়েছিল । এই যুদ্ধের ফলে গৌরব ম্লান হয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে আমেরিকার আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায় । আমেরিকার হাত ছাড়া হওয়ায় ইংল্যান্ডের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঔপনিবেশিক নীতির পরিবর্তন – আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলে ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশিক নীতিতেও পরিবর্তন আসে । মার্কেনটাইল মতবাদ অর্থাৎ ব্যাবসা বানিজ্যে অত্যধিক গুরুত্বের নীতি পরিত্যক্ত হয় ।

আরও পড়ুন –

লং মার্চ কি ? মনরো নীতি কি ?

নবরত্ন কাদের বলা হয়

ঠান্ডা যুদ্ধের কারণ ও পটভূমি আলোচনা কর

বাবর কি মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ?

Leave a Comment