আরবদের সিন্ধু অভিযানের কারণ?

হ্যালো, বন্ধুরা আজকে আমরা সিন্ধু অভিযানের কারণ এই প্রশ্নের উত্তরটি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । সিন্ধু অভিযানের কারণ ও ফলাফল এই প্রশ্নটি খুবই এই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

ইতিহাসের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের ওয়েবসাইট টি বুকমার্ক করুন এবং আমাদের পোস্ট যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করুন । চলুন আর সময় নষ্ট না করে প্রশ্নের উত্তরে যাওয়া হোক ।

আরবদের সিন্ধু অভিযানের কারণ

আরবদের সিন্ধু অভিযানের কারণ

712 খ্রীঃ আরবদের সিন্ধুদেশ বিজয় ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় এর সূচনা করে । আরবদের সিন্ধু অভিযানের পূর্বে যে সমস্ত বৈদেশিক জাতিগুলি অভিযান করেছিল তারা কখনও ভারতবর্ষের রাজনীতিতে স্বতন্ত্রতা রক্ষা করতে পারেননি । অন্যদিকে আরব বা মুসলমান গণের ভারতবর্ষে বসবাস সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং তারা ভারতবর্ষের সভ্যতা ও রাজনীতিতে ক্রমে ধারক ও বাহক এর স্থান অধিকার করে

‘আরবী চাচনামা’ মীর মহম্মদ মাসুম রচিত তারিখ-ই-সিন্ধ এবং আলবিলাদুরির রচনা থেকে সিন্ধু দেশে আরব আক্রমণ ও আরব শাসনের বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায় ।

আরবদের সিন্ধু বিজয়ের প্রেক্ষাপটে যেসমস্ত কারণগুলি কাজ করেছিল তা সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে ।

ধর্মবিস্তার- অনেকের মতে ইসলাম ধর্মের বিস্তারের উদ্দ্যেশেই আরবরা সিন্ধুদেশ আক্রমণ করে । বলা বাহুল্য এই মোট সর্বাংশে গ্রহণযোগ্য নয় । কারণ সিন্ধুদেশ জয়ের পর আরব সেনাপতি বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের নিজ নিজ অধিকার ভোগ করার অবাধ অধিকার দিয়েছিলেন এবং এসময়ে ব্যাপক ধর্মান্তকরণের কোন খবর পাওয়া যায় না ।

আরও পড়ুন- গুপ্তযুগের ভূমিব্যাবস্থা কেমন ছিল?

সম্পদ লুণ্ঠন- ঐতিহাসিক আরনল্ড এর মতে আরবদের রাজ্যবিস্তারে পশ্চাদে ধর্মবিস্তার অপেক্ষা প্রতিবেশীদের সম্পত্তি লুণ্ঠন ও তাদের রাজ্য গ্রাস করাই করায় ছিল প্রধান উদ্দেশ্য ।

রাজ্যবিস্তার- অনেকের মতে আরবদের সিন্ধু জয় এর মূল লক্ষ্য ছিল ভারতে রাজ্যবিস্তার করা । ইরাকের শাসনকর্তা হজ্জাজ প্রথম মুসলমান রাজনিতীক যিনি ভারতবর্ষের সিন্ধু দেশের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং প্রায় ৮০ বছর পর অর্থাৎ 712 খ্রীঃ আরবগণ প্রথম সিন্ধুদেশের বিরুদ্ধে অভিযান করেন । এটাই আরবদের ভারতবর্ষের বিরুদ্ধে প্রথম সফল মুসলমান অভিযান ।

তাৎক্ষনিক কারণ- আরবদের সিন্ধুবিজয় আক্রমণের পাশ্চাত্য যে উদ্দেশ্যে না থাকলেও একটু সামান্য ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে তারা সিন্ধুদেশে আক্রমণ করেন । মুসলিম ঐতিহাসিকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে 708 খ্রীঃ সিংহলের রাজা ইরাক এবং ঘোরসান এর আরব শাসনকর্তা অল হজ্জাজ এর জন্য উপঢৌকন সহ কয়েকটি জাহাজ পাঠান । সিন্ধুদেশের অন্তর্ভুক্ত দেবল বন্দরে জাহাজগুলি জলদস্যুদের দ্বারা লুণ্ঠিত হলে অল হজ্জাজ সিন্ধু শাসনকর্তা দাহির এর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবী করেন । দাহির ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃত হলে অল হজ্জাজ তার বিরুদ্ধে অভিযান পাঠান । ওবেদুল্লা ও বুদাইল নামক দুজন সেনাপতির নেতৃত্বে আরবরা দেবল ও রাওড় সহ সমগ্র সিন্ধুদেশ দখল করেন । 713 খ্রীঃ তিনি মূলতান জয় করেন । অষ্টম শতকের শেষ দিকে সিন্ধু দেশে আরব শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দ্বাদশ শতকের শেষ পর্বে মহম্মদ ঘুরীর আক্রমণে তা বিলুপ্ত হয় ।

ব্যাবসা বাণিজ্য – অষ্টম শতাব্দীর বহু পূর্ব থেকেই ভারতের সঙ্গে আরবদের বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং বাণিজ্য উপলক্ষ্যে আরবরা ভারতে আসাযাওয়া করত । নিজেদের বৈষয়িক বিষয়ের জন্য ভারতের হিন্দু রাজারা আরবদের বহুবিধ সুযোগ সুবিধা প্রদান করত । কিন্তু কালক্রমে আরবরা ব্যাবসা বাণিজ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেনি । এই সুত্রে তারা রাজ্যবিস্তারেও তৎপর হয়ে ওঠে ।

উপরিক্ত কারণগুলি ছাড়াও আরও যেসমস্ত কারণগুলির আরব আক্রমণের প্রেক্ষাপটে কাজ করেছিল সেগুলি হল আরবদের ক্রমাগত প্রচেষ্টা, সাংগঠনিক একাগ্রতা, উন্নত রাষ্ট্রীয় নীতি, মহম্মদ বিন কাশীম এর পরাক্রান্ত সেনাবাহিনী প্রভৃতি ।

আরও পড়ুন-

মুদ্রা থেকে আমরা আদি মধ্যযুগ সম্পর্কে কি জানতে পারি

সম্রাট অশোকের ধর্মনীতির পরিচয় দাও |

Leave a Comment