উপনিবেশবাদ বলতে কী বােঝ? উপনিবেশবাদের ধ্বংসের কারণ কি?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাসের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উপনিবেশবাদ বলতে কী বােঝ এবং উপনিবেশবাদের ধ্বংসের কারণ কি তা নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

উপনিবেশবাদ বলতে কী বােঝ? উপনিবেশবাদের ধ্বংসের কারণ কি?

উপনিবেশবাদ বলতে কী বােঝ

উপনিবেশবাদ শব্দটি ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Colo-nialism’ থেকে এসেছে । আবার উপনিবেশবাদ বা ‘Colo-nialism’ কথাটি এসেছে লাতিন শব্দ ‘Colonia’ থেকে যার অর্থ হল বিশাল সম্পত্তি ।

সংজ্ঞা: কোনো দেশ যদি অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড দখল করে নেয় তবে সেই দেশের ওই অঞ্চলটিকে উপনিবেশ বলা হয় । এবং উপনিবেশবাদ হল দখল করা সেই ভৌগলিক অঞ্চলের ওপর শাসন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ।

উপনিবেশবাদের ধ্বংসের কারণ কি অথবা উপনিবেশবাদ অবসানের কারণ কি

উপনিবেশবাদ এর অবসানের কারণগুলি হল নিম্নরুপ –

মুক্তি আন্দোলন – প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বের সমগ্র উপনিবেশে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন শুরু হয় । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এই আন্দোলন শুরু হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তা আরও চরম পর্যায়ে বৃদ্ধি পায় । এই মুক্তি আন্দোলন উপনিবেশকবাদ দের উপনিবেশ এর ওপর কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে । স্পেনীয়, ব্রিটিশ, ডাচ ও ফরাসী শক্তিগুলি উপনিবেশগুলিকে স্বাধীনতা প্রদানে বাধ্য হয় । এশিয়া, ল্যাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বহু দেশ এইভাবেই উপনিবেশকবাদ দের হাত থেকে রক্ষা পায় ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাব – ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মিত্রশক্তি জোটের রাখা প্রতিশ্রুতি তে বলা হয়েছিল যে – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর উপনিবেশবাসীরা স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার লাভ করবে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি পালন না করলে উপনিবেশ বাসীরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করলে উপনিবেশক শক্তিগুলি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্রমে তাদের শক্তি দুর্বল হয়ে জাওয়ায় উপনিবেশ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় ।

নির্জোট আন্দোলন : নির্জোট আন্দলনে উপনিবেশবাদের বিরোধিতা করা হয় । এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলি থেকে উপনিবেশবাদ কে মুছে ফেলতে নির্জোট আন্দোলন বিশেষ ভূমিকা পালন করে । নির্জোট দেশগুলির নেতৃবর্গ উপনিবেশবাদ এর স্বাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্ভূত হতে সাহায্য করে ।

রাষ্ট্রসংঘের উদ্ভব – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা রাষ্ট্রসংঘের উদ্ভব ঘটলে উপনিবেশবাদের বিলুপ্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় । রাষ্ট্রসংঘের গৃহীত কর্মসূচিতে উপনিবেশগুলির বিলুপ্তির প্রক্রিয়াকে দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে বলা হয় প্রতিটি জাতি এবং রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও অধিকার লাভ করবে। উপনিবেশগুলির স্বাধীনতা লাভের লড়াইয়ে রাষ্ট্রসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু দেশ এগিয়ে আসে। ফলে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি নিজ নিজ উপনিবেশ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

জাতীয়তাবাদী চেতনা: ঔপনিবেশিকতাবাদ অবসানের একটি মূল কারণ হল জাতীয়তাবাদী চেতনার জাগরণ। জাতীয় মুক্তির বাসনা উপনিবেশবাদ বিরােধী মানসিকতাকে তীব্র করে তােলে। এই জন্যই এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাতিন আমেরিকার বহু দেশ উপনিবেশবাদ দের হাত থেকে নিজেদের স্বাধীন করে তুলতে সক্ষম হয় ।

উপনিবেশবাদের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের সম্পর্ক কি

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ এর মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় । কি কি সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় তা নীচে আলোচনা করা হল-

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ এর মধ্যে সাদৃশ্য-

১) উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ দু এর ই প্রধান লক্ষ্য হল, নিজেদের থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলিকে আক্রমণ করা এবং সেই সব দেশে কর্তৃত্ব স্থাপন করা ।

২) উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ এর নীতি প্রায়ই একই অন্যান্য দেশকে আক্রমন করে সেখানে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা ।

৩) উপনিবেশবাদ হল সাম্রাজ্যবাদ এর ই একটি অংশ । কিন্তু আগ্রাসন এর দিক দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ এর উপনিবেশবাদ এর তুলনায় অনেক তীব্র ।

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ এর মধ্যে বৈসাদৃশ্য-

উপনিবেশবাদের মূল লক্ষ্য হল কোনো একটি ভূখণ্ড আক্রমন করে সেখানে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং অধিকারপ্রাপ্ত অঞ্চলকে নিজেদের স্বার্থে ব্যাবহার করা ।

কিন্তু, সাম্রাজ্যবাদ এর প্রধান লক্ষ্য শুধু সেই ভূখণ্ডের খনিজ সম্পদ অধিকার আদায় করা নয় বরং সেই অঞ্চলকে অধিকার করে দেশের সীমানা বাড়ানো ।

ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র থেকে বহু মানুষ উপনিবেশে এসে বসবাস করে কিন্তু তাদের আনুগত্য থাকে নিজেদের দেশের প্রতিই ।

অপরদিকে, সাম্রাজ্যবাদী অঞ্চলের মানুষ শুধু সাম্রাজ্যবাদ অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে না বরং সেই অঞ্চলে নিজেদের দেশের অংশ বলে মনে করে থাকে ।

আরও পড়ুন –

মিউনিখ চুক্তি কি – টিকা লেখ

ইউরােপের ধর্মসংস্কার আন্দোলনে মার্টিন লুথারের অবদান

ক্যান্টন বাণিজ্য কি? ক্যান্টন বাণিজ্যের অবসানের কারণ কি?

নাতসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

Leave a Comment