কোঠারি কমিশনের মতে শিক্ষার লক্ষ্য

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা কোঠারি কমিশনের মতে শিক্ষার লক্ষ্য এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । উচ্চমাধ্যমিক এর এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্য এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর ভারতের শিক্ষাব্যাবস্থা কে ঢেলে সাজাতে এক নতুন জাতীয় শিক্ষা ব্যাবস্থার প্রয়োজন বোধ হয় । ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন এর সভাপতিত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয় । এই কমিশনে স্থির করা হয় যে ভারতবর্ষে এক শক্তিশালী ও উচ্চমানের মাধ্যমিক শিক্ষার প্রয়োজন । ডঃ রাধাকৃষ্ণন এর এই মন্তব্যের পর ডঃ মুদালিয়ার নেতৃত্বে ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর একটি কমিশন গঠন করা হত । দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৯৬৪ সালের ১৪ই জুলাই ভারত সরকার এর উদ্যোগে ১৭ জন ভারতীয় ও কিছু বিদেশী শিক্ষাবিদকে নিয়ে গঠিত হয় কোঠারি কমিশন । এই কমিশনে সভাপতিত্ব করেন ডঃ ডি এস কোঠারি ।

কোঠারি কমিশনের সুপারিশসমূহ

কোঠারি কমিশনের সুপারিশগুলি হল-

১) দশম শ্রেণী পর্যন্ত সকলের জন্যই একইরকম পাঠক্রম ।

২) সকলের জন্য ৭ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ।

৩) উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন করা ।

৪) শিক্ষায় ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আসা ।

৫) কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ নজন দেওয়া ।

৬) দশম শ্রেণীর পর বিশেষীকরণ ।

কোঠারি কমিশনের মতে শিক্ষার লক্ষ্য

কোঠারি কমিশনের মতে মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য হল-

১) শিক্ষাকে জাতীয় উৎপাদনমুখী করতে হবে । অর্থাৎ শুধুমাত্র তাত্ত্বিক বুদ্ধি সরবরাহ করলে শিক্ষার লক্ষ্য হবে না । সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যাবস্থা যাতে সচল থাকতে পারে এবং শিক্ষা যাতে জাতির সম্পদ বৃদ্ধিতে সহয়তা করতে পারে তাঁর জন্য বিজ্ঞানসম্মত সব রকমের জ্ঞান এবং কর্ম প্রশিক্ষণ দেওয়াই হবে শিক্ষার মূল লক্ষ্য ।

২) জনগণের প্রতি শিক্ষা ও জাতীয় সংহতি সাধন করা । জাতীয় শিক্ষা সাধন শিক্ষার একটি প্রধান লক্ষ্য । কোঠারি কমিশন এই লক্ষ্যটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করার কথা বলেছে । একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় সংহতির মনোভাব গড়ে তোলা সম্ভব । তাই কমিশন মনে করেন যে, শিক্ষার লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় সংহতিবোধ গড়ে তোলা ।

৩) বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষায় একটি উপযুক্ত ভাষা শিক্ষার নীতি প্রয়োগ করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পারিক সংযোগস্থাপনের কাজ সহজ হয় । স্কুল ও কলেজ স্তরে মাধ্যমরূপে মাতৃভাষার দাবী বাধ্যতামূলক এবং সর্বভারতীয় শিক্ষাকেন্দ্র সমূহে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি থাকবে, কিন্তু ভবিষ্যতে হিন্দিকেই শিক্ষার মাধ্যমরূপে গ্রহণ করা হবে ।

৪) শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পাশাপাশি জাতি ও সমাজসেবামূলক কাজ বাধ্যতামূলক হবে । প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী নিজ নিজ ছাত্রদের নিয়ে সামাজিক জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা করবে । স্কুল কলেজের খেলার মাঠের কাজ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কাজ ছাত্র ছাত্রীদের নিয়েই করা হবে ।

৫) শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ভাবধারা এবং সমাজব্যাবস্থার প্রতি আস্থাভাব গড়ে তোলা । ভারতবর্ষ একটি গণতান্ত্রিক দেশ, এক্ষেত্রে গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে যদি প্রত্যেক ভারতবাসী গণতান্ত্রিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যাক্তিগত জীবনকে পরিচালিত করে ।

৬) কোঠারি কমিশনের মতে শিক্ষাব্যাবস্থার মূল উদ্দেশ্য হল সামাজিক পরিবর্তনে সাহায্য করা এবং সামাজিক পরিবর্তন যাতে উন্নয়নমুখী হয় সেদিকে নজর রাখা ।

৭) কমিশনের মতে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তর থেকেই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কে সম্মান করতে শিখতে হবে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব বজায় রাখতে হবে।

৮) শিক্ষার্থীদের শ্রমের প্রতি মর্যাদার মনোভাব গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মমূলক কাজে দক্ষতা অর্জনে সহয়তা করা ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-

১) ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস চালু করার সুপারিশ কে দেন?

উত্তর- ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস চালু করার সুপারিশ দেন কোঠারি কমিশন ।

২) কোঠারি কমিশনে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার নুন্যতম বয়স কত ধার্য করা হয়?

উত্তর- প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার নুন্যতম বয়স ৬ বছর ধার্য করা হয় ।

৩) কোঠারি কমিশনের বিবরণী কত সালে জমা পড়ে?

উত্তর- কোঠারি কমিশনের বিবরণী জমা পড়ে ১৯৬৬ সালে ।

৪) কোঠারি কমিশনের মূল সুপারিশ সংখ্যা কতগুলি ছিল?

উত্তর- কোঠারি কমিশনের মূল সুপারিশ সংখ্যা ছিল আঠারো টি ।

আরও পড়ুন-

প্রার্থনা সমাজ টিকা? প্রার্থনা সমাজের আদর্শ, লক্ষ্য ও কার্যাবলী

সামন্ততন্ত্র বলতে কি বোঝ? সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

Leave a Comment