কোষ ও কোষ বিভাজন -প্রশ্ন ও উত্তর

আজকে আমরা কোষ ও কোষ বিভাজন থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর গুলি নীচে আলোচনা করলাম ।

কোষ কাকে বলে – অর্ধভেদ্য বা প্রভেদক ভেদ্য আবরণী দ্বারা বেষ্টিত, প্রোটোপ্লাজম দ্বারা নির্মিত, স্বপ্রজননশীল, জীবদেহের কার্যগত ও গঠনগত একক কে কোষ বলে।

কোষ কয় প্রকার ও কি কি ?

নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ তিন প্রকারের – ১) প্রোক্যারিওটিক কোষ ২) ইউক্যারিওটিক কোষ এবং ৩) মেসোক্যারিওটিক কোষ

প্রোক্যারিওটিক কোষ কাকে বলে ?

সেলুলোজবিহীন কোষ প্রকারযুক্ত, আদর্শ নিউক্লিয়াস বিহীন ও পর্দাবেষ্টিত অঙ্গাণু বিহীন আদিম কোষকে প্রোক্যারিওটিক কোষ বলে ।

ক্রোমোজোম কাকে বলে ?

ইউক্যারিওটিক কোশের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নিউক্লিয় প্রোটিন দ্বারা গঠিত সূত্রাকার বা দন্ডাকার আত্মপ্রজননশীল যে সজীব সংগঠন জীবের যাবতীয় বংশগতি বিশিষ্টের ধারক, বাহক ও নিয়ন্ত্রক রূপে কাজ করে তাকে ক্রোমোজোম বলে

ক্রোমোজোম শব্দটি প্রথম ব্যাবহার করেন বিজ্ঞানী ওয়ালডেয়ার

ক্রোমোজোম কয় প্রকার ও কি কি ?

ক্রোমোজোম দুই প্রকার – ১) অটোজোম এবং ২) সেক্স ক্রোমোজোম

অটোজোম কাকে বলে ?

নিউক্লিয়াসে অবস্থিত যে ক্রোমোজোম গুলি জীবের দেহজ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাদের অটোজম বলে । মানুষের দেহকোষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া হল অটোজোম ।

সেক্স ক্রোমোজোম কাকে বলে ?

অটোজোম ছাড়া অন্যান্য যে ক্রোমোজোম জীবের লিঙ্গ নির্ধারণে সহায়তা করে তাদের অ্যালোজোম বা সেক্স-ক্রোমোজোম বলে । এগুলি সাধারণত একজোড়া হয় এবং XY বা XO বা XX ধরনের হয় । স্ত্রীদেহের সেক্স-ক্রোমোজোম দু’টি ‘X’ ক্রোমোজোম অর্থাৎ XX নিয়ে গঠিত, কিন্তু পুরুষ দেহে এরা XY ধরনের হয়, এদের হেটারোক্রোমোজোম বলে ।

কোষ বিভাজন কাকে বলে ?

একটি মাতৃকোষ থেকে দুই বা ততোধিক সমতুল বা ভিন্ন গুন সম্পন্ন অপত্য কোষ সৃষ্টির জৈবনিক পদ্ধতিকে কোষ বিভাজন বলে

কোষ বিভাজন কয় প্রকার ও কি কি ?

কোষ বিভাজন তিন প্রকার – ১) আম্যাইটোসিস , মাইটোসিস ও মিয়োসিস ।

আরও পড়ুন – প্রোজেস্টেরনের এর উৎস ও কাজ কি

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে ?

যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম কোনো জটিল মাধ্যমিক পর্যায় ছাড়াই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে ?

যে বিভাজন প্রক্রিয়ায় দেহ-মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে সমসংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট এবং সমগুন সম্পন্ন দুটি নতুন অপত্য কোষ এর সৃষ্টি করে তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে

মিয়োসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে ?

যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় জীবের জনন মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসের পরপর দুই বার বিভাজন ঘটার ফলে জনন মাতৃকোষের অর্ধেক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট চারটি পৃথক অপত্য জননকোষ বা গ্যামেটের সৃষ্টি হয়, তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলে ।

সাইটোকাইনেসিস কাকে বলে ?

যে প্রক্রিয়ায় ক্যারিওকাইনেসিসের পর কোষের সাইটোপ্লাজম সমান দু ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে, তাকে সাইটোকাইনেসিস বলে

মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাস মূলক বিভাজন বলা হয় কেন ?

মিয়সিসে সৃষ্ট অপত্য কোশ গুলি মাতৃকোষের তুলনায় অর্ধ সংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হয় বলে মিয়োসিস কে হ্রাস বিভাজন বলা হয় ।

আরও পড়ুন – ডারউইনের বিবর্তন মতবাদ

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট্য

১) অ্যামাইটোসিস এ নিউক্লিয় পর্দার বিলুপ্তি ঘটে না এবং বেমতন্তু গঠিত হয় না । ২) এই বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াস টি ডাম্বেলের আকার ধারণ করে এবং মাঝবরাবর স্থানে সংকুচিত হয় ও পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুটি অপত্য কোশে পরিণিত হয় ।

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বিভিন্ন দশা কি কি

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বিভিন্ন দশা হল প্রোফেজ, মেটাফেজ , অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ ।

স্টেম বডি কাকে বলে ?

প্রানিকোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় বেমের মাঝে অবস্থিত ইন্টারজোনাল তন্তুগুলিকে একত্রে স্টেম বডি বলে ।

বেম তন্তু কী

কোষ বিভাজন কালে বেম, টিউবিউলিন-প্রোটিন দ্বারা নির্মিত যে তন্তুগুলি ক্রোমোজোমীয় সংযুক্তি ও ক্রোমোজোমীয় চলনে সহায়তা করে তাদের বেমতন্তু বলে

ক্রসিং ওভার কি ?

মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রথম প্রোফেজের প্যাকিটিন উপদশায় বাইভ্যালেন্টের নন-সিস্টার ক্রোমাটিদ্বয়ের মধ্যে ক্রোমোজোমীয় অংশের পারস্পারিক বিনিময়ের ঘটনাকে ক্রসিং ওভার বলে ।

জীবদেহ কি দিয়ে গঠিত?

জীবদেহ কোষ দিয়ে গঠিত ।

RNA এর পুরো নাম কি ?

RNA এর পুরো নাম হল Ribonucleic acid

নিউক্লিওটাইড কি ?

DNA অণুতে একটি n2 ক্ষারক, একটি ফসফেট ও একটি দি-অক্সিরাইবোজ শর্করা দ্বারা গঠিত গঠনগত একক কে নিউক্লিওটাইড বলে ।

আরও পড়ুন

রক্তজালক কাকে বলে ? ফাইব্রিনোজেন কি?

নেফ্রন ও নিউরনের মধ্যে পার্থক্য কি কি

বৃক্ক কি ?। বৃক্কের গঠন ও কাজ কি?

যৌন জনন ও অযৌন জনন এর পার্থক্য

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশুনা করার জন্য আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন

Leave a Comment