ক্যাকটাসের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা কর

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা ক্যাকটাসের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি তা নিয়ে এজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । জীবনবিজ্ঞানের এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং খাতায় লিখে রাখুন ।

ক্যাকটাসের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা কর

এর আগের পোস্টে আমরা রেনাল করপাসল কাকে বলে? বৃক্কীয় নালিকা কি? নিয়ে আলোচনা করেছিলাম ।

ক্যাকটাস কে জাঙ্গল বা জেরোফাইট উদ্ভিদ বলা হয় । ক্যাকটাস বৃষ্টিহীন বা কম বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলের শুষ্ক এবং মরুভূমি অর্থাৎ বালুকাময় অঞ্চলেই জন্মায়, তাই ক্যাকটাস কে জাঙ্গল বা জেরোফাইট উদ্ভিদ বলা হয় ।

ক্যাকটাসের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য

ক্যাকটাসের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য গুলি হল-

১) মূল- ক্যাকটাসের মূল সুগঠিত এবং সূদীর্ঘ থাকে যা মাটির অনেক নীচ পর্যন্ত চলে যায় যার ফলে মাটির অনেক নীচ থেকে জল সংগ্রহ করতে পারে । ক্যাকটাসের মূলে মূলরোম ও মূলত্রাণ থাকে ।

২) কান্ড- ক্যাকটাসের কান্ড খর্বাকার ও কাষ্ঠল প্রকৃতির হয় । এছাড়া কান্ড পুরু বাকল এবং মোম জাতীয় পদার্থ দ্বারা আবৃত থাকে ।

ক্যাকটাসের কান্ড সংবহন কলা এবং যান্ত্রিক কলা দ্বারা সুগঠিত ।

কান্ডের ত্বকে পুরু কিউটিকল থাকে, যা বাষ্পমোচন রোধ করতে সাহায্য করে ।

কোশে মিউসিলেজ নামক পিচ্ছিল পদার্থ থাকায় ক্যাকটাসের কান্ডের জলধারণ ক্ষমতা বেশী থাকে ।

ফণীমনসার কাণ্ড পুরু, রসালো, সবুজ এবং চ্যাপ্টা পাতার মতো যা পর্ণকাণ্ড নামে পরিচিত ।

পাতা- ক্যাকটাসের পাতা ক্ষুদ্র এবং সংখ্যায় ছোট । ফণীমনসা গাছের পাতা বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য কাঁটায় রুপান্তরিত হয়েছে ।

ক্যাকটাসের শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন বৈশিষ্ট্য

১) ক্যাকটাসের কাণ্ড পুরু হওয়ায় কাণ্ডে প্রচুর পরিমাণে জল সঞ্চয় থাকে ।

২) ক্যাকটাসের কাণ্ডে পাতার পরিবর্তে কাঁটা থাকায় কাণ্ড চ্যাপ্টা ও প্রসারিত ও সবুজ বর্ণের হয় । যার ফলে এই জাতীয় পর্ণকাণ্ডে সহজেই সালোকসংশ্লেষ ঘটতে পারে ।

লবণাম্বু উদ্ভিদ বা হ্যালোফাইট উদ্ভিদ কাকে বলে?

সাধারণত আদ্র পরিবেশে লবনাক্ত মৃত্তিকায় যেসব উদ্ভিদ জন্মায় তাদের লবণাম্বু বা হ্যালোফাইট উদ্ভিদ বলে ।

যেমন- সুন্দরী, গরান, গোলপাতা, গোলপাতা প্রভৃতি ।

লবণাম্বু উদ্ভিদ যথাক্রমে দুই প্রকার এর হয়

১) জলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ

২) স্থলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ

১) জলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ- যেসব উদ্ভিদ লবনাক্ত উদ্ভিদ জলাশয় অথবা নদীর মোহনা অঞ্চলে জন্মায় তাদের জলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ বলে । যেমন- ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ

২) স্থলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ- যেসব লবনাক্ত উদ্ভিদ খুবই অল্প জলের জোগানে স্থলভূমিতে জন্মায় তাদের স্থলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ বলে । যেমন- সুন্দরী, পাথরকুচী ইত্যাদি ।

আরও পড়ুন-

ক্রোমোজোম কাকে বলে? ক্রোমোজোমের গঠন ও কাজ বর্ণনা কর

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কাকে বলে? গঠন ও কাজ বর্ণনা কর?

ইন সিটু সংরক্ষণ কি? ইন সিটু সংরক্ষণের গুরুত্ব

Leave a Comment