গুপ্তযুগের গিল্ড ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা গুপ্তযুগের গিল্ড ব্যবস্থা সম্পর্কে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । ইতিহাসের এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এই প্রশ্নটি এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা সঙ্গম সাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম ।

গুপ্তযুগের গিল্ড ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর

গুপ্তযুগের গিল্ড ব্যবস্থা

প্রাচীন ভারতের অর্থনীতি ইতিহাস আলোচনায় গুপ্ত যুগে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য দাবি রাখে । এই যুগের কৃষিকে ভিত্তি করে শিল্প ব্যাপক ভাবে উন্নতি লাভ করেছিল । বিশেষ ভাবে শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সে বিষয়টি অগ্রিম ভূমিকা নিয়েছিল সেটি হল গিল্ড বা নিগম ব্যাবস্থা । একটি নির্দিষ্ট পরিকাঠামো যুক্ত অর্থনীতি ব্যাবস্থা গুপ্ত যুগে দেখতে পাওয়া যায় । এখানে শুধু একথা বলা বাঞ্ছনীয় যে শিল্প ও বাণিজ্য যে মাধ্যমে পরিচালিত হত তা গিল্ড বা নিগম ব্যাবস্থা নামে পরিচিত । এক কোথায় বলা যায় গিল্ড ছিল আধুনিক যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ।

প্রধানত সাহিত্যিক শিল্প ও শিলমোহর এর মত উপাদানে গিল্ড ব্যাবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় । সাহিত্যিক উপাদানের মধ্যে স্মৃতি শাস্ত্র মূলত গ্রন্থ – নারদ স্মৃতি ও বৃহস্পতি স্মৃতি এই ক্ষেত্রে কাজে লাগে ।

গুপ্তযুগের গিল্ড সংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয় ও আলোচনার আগে প্রাচীন ভারতে গিল্ড ব্যাবস্থা কিভাবে উদ্ভব হয়েছিল এবং ক্রম পরিণিতির মাধ্যমে বিকাশ প্রাপ্ত হয়েছিল তা দেখে নেওয়া দরকার ।

প্রাচীন ভারতে বাণিজ্য ও বিকাশ দুই সুসংগঠিত ছিল । এই সংগঠন যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তত্ত্ব প্রকাশ করেছিল, তাকে বলা হত গিল্ড বা শ্রেণী । তবে গিল্ড কিভাবে গঠিত হয়েছিল তা সঠিকভাবে জানা যায়নি । তবে মনে করা হয় যে অতি প্রাচীন কালে কারিগর ও বণিক শ্রেণী ধনীদের অত্যাচারের হাথ থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য ও জীবনে অধিকতর সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য গিল্ড গঠন করেছিল । প্রাচীন সাহিত্যের ওপর নির্ভর করে যে গিল্ড গুলি ছিল তা বৈদেশিক সাহিত্যের গিল্ড এর মতো এর মতো প্রতিষ্ঠানে উল্লেখ্য আছে কিন্তু কিছু বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে ভারতের সব শহরগুলিতে তখন গিল্ড ছিল । বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে জানা যায় গিল্ড বিচারালয়, গিল্ড সদস্য ও পারিবারিক বিবাদে মীমাংসা হত এই গিল্ড বিচারালয়ে । এইভাবে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে গিল্ড রাষ্ট্র কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল । জাতি গত ও স্থান গত বিরোধ অতিক্রম করে গিল্ড প্রাচীন ভারতের সামাজিক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছিল ।

গুপ্ত যুগের গিল্ড সঙ্ক্রান্ত সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে উপলব্ধি করতে গেলে এর আলচনাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া বাঞ্ছনীয় তবে গিল্ড প্রকারভেদ এবং সংবিধান গঠন, প্রণালি গিল্ডের নিয়ম কানুন এবং এর কার্যাবলী প্রভৃতি গুপ্ত যুগে গিল্ডে এই সমস্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত ।

গুপ্ত যুগের গিল্ড ব্যাবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করলে দেখা যাবে যে প্রাক যুগে ১৮টি গিল্ডের অস্তিত্ব এই যুগে বর্তমান ছিল । এগুলি হল রেশম শিল্পিদের সংঘ, সাতবাহন শ্রেণী বা বণিকদের সংঘ এবং কারিগরীদের সংঘ ইত্যাদি ।

গুপ্ত যুগে গিল্ডের সংবিধান ও গঠন প্রনালী সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে নারদ ও বৃহস্পতি স্মৃতি গুলির থেকে অবহিত হওয়া যায় যে প্রতিটি গিল্ডের সমাজে সবার উপরে অবস্থিত ছিল অধ্যাপক গণ । গিল্ডে এর সদস্যরা সমবেত ভাবে কোন ধার্মিক ব্যাক্তিদের কার্য নির্বাহী পদে নিয়োগ করতেন ।

অপরাধীদের তারতম্য অনুযায়ী নিন্দা অথবা বহিষ্কার করতেন । বৃহস্পতি স্মৃতিতে জানা যায় যে অধ্যক্ষগণ এর সিদ্ধান্তে রাজা সম্পত্তি দিত । তবে অধ্যক্ষ খারাপ সিদ্ধান্ত নিলে সেক্ষেত্রে রাজা সেই অধ্যক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে পারত । কোন ব্যাক্তি যখন সদস্য পদ লাভ করতেন তখন তাকে কতগুলি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হত ।

গিল্ড নিয়মাবলী ও বিধানগুলি তৈরি হত প্রাচীন কয়েকটি সম্প্রদায়ের বৃহত্তর সমিতি কর্তৃক এই বৃহত্তর সভার সভাপতি থাকত । দুই একটি ব্যাতিক্রম বাদ দিলে প্রায়ই সমস্ত গিল্ডেই বৃহত্তর সংস্থার সদস্য থাকত

স্কন্দ গুপ্তের ইন্দোর তাম্র শাসন থেকে প্রাচীন ইন্দপুরে একটি তৈলিক শ্রেণীর কথা জানা যায় ।

আরও পড়ুন-

অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ কি?

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন এর প্রেক্ষাপট, বৈশিষ্ট্য, শর্ত, ত্রুটি ও গুরুত্ব

স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা

আজকের এই পোস্টে আমরা গুপ্তযুগের গিল্ড ব্যাবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করলাম । আশা করি এই পোস্ট টি তোমাদের ভালো লেগেছে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন । আমাদের ওয়েবসাইট এ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয় । ধন্যবাদ ।

Leave a Comment