গুপ্তযুগের ভূমিব্যাবস্থা কেমন ছিল?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা গুপ্তযুগের ভূমিব্যাবস্থা কেমন ছিল তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । ইতিহাসের এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে বরাবর ই এসে থাকে তাই পোস্ট টি মন দিয়ে পড়ুন এবং নিজেদের বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

আমাদের এই ওয়েবসাইট এ ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয়েছে আপনারা চাইলে তা দেখে নিতে পারেন ।

গুপ্তযুগের ভূমিব্যাবস্থা কেমন ছিল

গুপ্তযুগের ভূমিব্যাবস্থা কেমন ছিল?

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে গুপ্ত যুগেই কৃষি ব্যাবস্থায় অধিকতর উন্নতি ঘটেছিল, কারণ এই সময়েই প্রথম অপতিত জমি সংস্কার করে পতিত জমিতে পরিণত করা হয় । ছোট ছোট খাঁড়ি বা জঙ্গলাকৃত এবং জলমগ্ন জমিকে কৃষিজমির আয়তায় আনা, নতুন নতুন কৃষিপদ্ধতির প্রয়োগ, কৃষিজমির পরিমাণ বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণের ফলে কৃষিজাত দ্রব্যের উৎপাদন শুরু হয় । এই সব কাজে রাষ্ট্র বা শাসকরা কৃষকদের নানাভাবে সাহায্য করত । তাই এই যুগে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষিজমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জমির ওপর মালিকানাসত্ত আরোপিত হতে থাকে ফলে সামন্ততান্ত্রিক ব্যাবস্থার জন্ম নেয় ।

জমির মালিকানার প্রশ্নে বলা যেতে পারে শাস্ত্র সমূহে উল্লেখ আছে যে, যে যত সম্পত্তি বা জমির ক্রয়ের ওপর অধিকারী সে তত সম্পত্তির মালিক হয়েছে এবং ব্যাক্তিগণের সম্পত্তি আইন স্বীকৃত ও অধিকার অর্জনের ফলে মালিকানার সৃষ্টি হয় যার ফলস্বরূপ সামন্ততান্ত্রিক ব্যাবস্থার জন্ম নেয় । আবার এই সময় আবাদি জমিকে মূল্যবান সম্পত্তি হিসেবে ধরা হয় তা মনুসংহিতায় উল্লেখ আছে ।

গুপ্তযুগে ব্যাক্তিগত, সামাজিক ও রাজার খামারজাত জমি এই তিনটি শ্রেণিতে ভুসম্পত্তি বিভক্ত ছিল । ধনী ভূস্বামীদের জমি বেশী থাকায় চাষআবাদ করার জন্য তার ক্ষেত মজুর ও কৃতদাসের দিয়ে চাষ করত । আবার অন্যদিকে ছোট ছোট জমির মালিক নিজ নিজ পরিবারের সাহায্যে চাষ করত । এই সময় জমির মালিক জমি কেনাবেচা করতে পারত । রাষ্ট্র জমির মালিকদের কাছ থেকে জমির পরিমাণ অনুযায়ী খাজনা ধার্য করত । জমি ও চাষাবাদের ব্যাপারে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হত ।

তবে দেশের সমগ্র জমির একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় জমি ও রাজার খাসজমি ছিল । রাষ্ট্রীয় জমি বলতে বন জঙ্গল খনি পতিত জমি ও রাজার খাস জমিকে বোঝাত । এই সব খাস জমি রাজার বিভিন্ন গ্রামের ব্যাক্তিদের পছন্দ অনুযায়ী দান, বিন্দি বা ইজারা দিত । তাদের কাছ থেকে রাজা ‘সীতা’ ও ‘ভাগ’ নামে দুই প্রকার কর আদায় করত ।

যাইহোক এইসময় ব্যাক্তিগত মালিকানা বলে কিছুই ছিল না, রাজাই ছিল এর প্রধান তবুও সম্পত্তিতে তারা নিয়মমাফিক চাষাবাদ করত । রাজা সম্পত্তি রক্ষা ও রাষ্ট্রকে সার্বভৌম স্বীকৃত দিত ।

আরও পড়ুন-

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ ও ফলাফল

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা

ত্রিশক্তি সংগ্রাম কি? কারণ ও ফলাফল

Leave a Comment