জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন (১৯০৭)

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্ট এ বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । এর পরের পোস্টে আমরা জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনের গুরুত্ব কি এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করবো । ইতিহাসের এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্ট এ আমরা দ্বিতীয় নগরায়ন | দ্বিতীয় নগরায়ন বলতে কী বোঝো এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন

জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন

1885 খ্রীঃ কংগ্রেস দলের উদ্ভব হয় এবং কংগ্রেস এর উদ্ভবের ২০ বছরেও অর্থাৎ 1885 থেকে 1905 খ্রীঃ পর্যন্ত কংগ্রেস ব্রিটিশদের কাছ থেকে কোন দাবীই গ্রহণ করতে পারেনি । এই ২০ বছর কংগ্রেস ব্রিটিশদের ওপর কোন প্রভাব ই ফেলতে পারেনি । এমন অবস্থায় 1905 খ্রীঃ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সূচনা ঘটে এবং এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়েই কংগ্রেসের এক অংশের মধ্যে বিক্ষোভ দানা বেঁধে ওঠে । এই বিক্ষোভের চরম শিখরে ঘটে 1907 খ্রীঃ কংগ্রেস দলের মধ্য দিয়ে এবং যার পরিণতি হিসেবে কংগ্রেস দলের ভাঙ্গনের মধ্য দিয়ে উদ্ভব হয় দুটি দলের চরমপন্থী ও নরমপন্থী ।

কংগ্রেস এর বিভাজনের মূল কারণ ছিল দুই দলের মধ্যে থাকা নীতিগত বিভেদ । কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতৃবর্গ চেয়েছিলেন ইংল্যান্ড তথা ব্রিটিশদের সভ্যতার অনুসরণে শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্রিটিশ আন্দোলন পরিচালনা করতে অপরপক্ষে চরমপন্থী নেতৃবর্গ চেয়েছিলেন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতবাসীর অধিকার আদায় করতে ।

দুই দলের মতাদর্শ ভিন্ন হওয়ায় দুই দলের মধ্যে প্রস্তাব সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দেয় । চরম্পন্থী দল স্বরাজ, বয়কট, স্বদেশী ও জাতীয় শিক্ষা এই প্রস্তাব গুলি আগেই পাস করিয়ে নেয় কারণ তাদের ভয় ছিল যে নরমপন্থী দল এই প্রস্তাবের ব্যাপারে জানলে এই প্রস্তাব নাকচ করে দেবে তাই চরমপন্থী দল নরমপন্থী দের কাছে সেই প্রস্তাব না দেখিয়েই তা পাশ করিয়ে নেয় । এই সব দেখার পর চরমপন্থীরা ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের সুরাট অধিবেশনে কংগ্রেস এর মঞ্চ দখল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বিরোধ চরমে পৌঁছায়

নরমপন্থী ও চরমপন্থীর ভাঙন

১৯০৭ খ্রীস্টাব্দের সুরাট অধিবেশনে সুরাট অধিবেশনে ১৬০০ জন প্রতিনিধির সম্মুখে লালা লাজপত রায়কে সভাপতি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন চরমপন্থীরা কিন্তু লালা লাজপত রায় সভাপতি হতে রাজি না হলে চরমপন্থীরা বাল গঙ্গাধর তিলককে সভাপতি করার দাবী করেন । কিন্তু নরম্পন্থী নেতারা চালাকি করে মধ্যপন্থী নেতা রাসবিহারী বসুকে সভাপতি মনোনীত করেন । এতে কংগ্রেস এর নরমপন্থী ও চরমপন্থী দের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয় এবং ‘ভারতমাতা’ গোষ্ঠী নামে একটি সভা গঠন করে । এর ফলে চরমপন্থীরা কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যায় এবং নরমপন্থী ও চরমপন্থী দের এই বিচ্ছেদ সুরাট বিচ্ছেদ বা সুরাট ভাঙন নামে পরিচিত ।

সুরাট বিচ্ছেদের ফলে কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় জাতীয় কংগ্রেসের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় । এই প্রসঙ্গে বড়োলাট লর্ড মিন্টো এক চিঠিতে লেখেন “কংগ্রেসের বিচ্ছেদ আমাদের পক্ষে এক বিরাট জয় ” । আবার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর মতে “সুরাট ঘটনার ফলে জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাসে এক স্বরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় এর সূচনা ঘটে ।

আরও পড়ুন-

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গঠন ও কার্যাবলী বর্ণনা কর?

আরবদের সিন্ধু অভিযানের কারণ?

প্রাচীন ভারতের দাসপ্রথা সম্পর্কে আলোচনা কর?

Leave a Comment