জোট নিরপেক্ষ নীতি কি? জোট নিরপেক্ষ নীতির কারণ

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা জোট নিরপেক্ষ নীতি কি এবং জোট নিরপেক্ষ নীতির কারণ কি তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । ইতিহাসের এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

জোট নিরপেক্ষ নীতি কি? জোট নিরপেক্ষ নীতির কারণ

এর আগের পোস্টে আমরা সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি আলোচনা করেছিলাম ।

জোট নিরপেক্ষ নীতি কি?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী জোট ও সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী জোটের কোন একটি জোট যোগ না দিয়ে নিরপেক্ষ থাকার নীতিই হল জোটনিরপেক্ষ নীতি । এই জোটনিরপেক্ষ দেশগুলি নিজেদের স্বার্থে যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা নির্জোট আন্দোলন নামে পরিচিত ।

জোটনিরপেক্ষ নীতির প্রবক্তা?

জোট নিরপেক্ষ নীতির প্রবক্তা হল ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহওরলাল নেহেরু এবং যুগোস্লাভিয়ার প্রধানমন্ত্রী মার্শাল টিটো ।

জোট নিরপেক্ষ নীতির কারণ

জোটনিরপেক্ষ নীতির কারণ বা উদ্দেশ্য গুলি হল-

১) জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষা- সুপ্রাচীন কাল থেকেই ভারতবর্ষ অহিংসা, শান্তি, সহনশীলতার আদর্শে বিশ্বাসী ছিল । হিংসায় জর্জরিত এই পৃথিবীতে অশোক ও বুদ্ধের বাণী ভারতবর্ষ থেকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল । ক্ষমতার শীর্ষে আকবর ও শিবাজি ও সহনশীলতার কথা প্রচার করেন । এই সুমহান আদর্শ ও ঐতিহ্য বহন করার উদ্যোগেই ভারত জোটনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণে অগ্রসর হয় ।

২) আর্থসামাজিক উন্নতি- স্বাধীনতা লাভের পরেই ভারত গভীর অর্থনৈতিক সংকট এর মুখে পড়ে । দেশভাগ, বেকারত্ব, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, খাদ্যাভাব, কালোবাজারি প্রভৃতির ফলে ভারতীয় অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়লে নেহেরু আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণের দ্বারা আর্থসামাজিক পরিস্থিতির উন্নতিতে সচেষ্ট হন ।

৩) রাজনৈতিক স্বতন্ত্রতা- রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ভারতবর্ষ পুঁজিবাদ ও সাম্যবাদ কোনটিই সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করেনি । এর কারণ হল ভারত প্রথম থেকেই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিল । নেহেরু নিজেই সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছিল । নেহেরুর মতে বিশ্বের পক্ষে এবং ভারতের পক্ষে যা ক্ষতিকর তা আমরা নিন্দা করবই ।

৪) নিরপেক্ষতা- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাম্যবাদী ও ধনতন্ত্রবাদী এই দুই শক্তিজোট যখন ঠাণ্ডার লড়াইয়ে মত্ত তখন ভারত কোন দিকেই যোগ না দিয়ে নিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করে ।

জোটনিরপেক্ষ নীতির গুরুত্ব

জোট নিরপেক্ষ নীতির প্রধান গুরুত্ব হল-

বিশ্ব শান্তিপ্রতিষ্ঠা- সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবৈষম্য, ঔপনিবেশিকবাদ বাদ দিয়ে এবং আণবিক ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা ।

তৃতীয় বিশ্বের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা- জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন এর পূর্বে একমাত্র পৃথিবীর শক্তিধর রাষ্ট্রগুলিই বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত । কিন্তু এই আন্দোলনের পর তৃতীয় বিশ্বের গরীব, সদ্য স্বাধীন ও অনুন্নত দেশগুলির আত্মমর্যাদা সচেষ্ট হয়েছে ।

জোটনিরপেক্ষ নীতির সাফল্য

কোরিয়া সমস্যার সমাধান- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ সংক্রান্ত জটিল সমস্যা সমাধানে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির সামনে রুখে দাঁড়িয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িয়ে পড়ে । যুদ্ধের প্রথমে কোন পক্ষই ভারতকে পাত্তা না দিলেও যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে উভয় শক্তিই মেনে নেয় । যুদ্ধবিরতির পর বন্দি বিনিময় নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে ভারতের মধ্যস্থথায় এই সমস্যার সমাধান হয় ।

চিনকে জাতিপুঞ্জের সদস্য মনোনয়নে- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে চিনে সাম্যবাদী প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হলে মার্কিনজোট প্রজাতন্ত্রী চিনকে জাতিপুঞ্জের সদস্য বানাতে চায়নি এবং ভারত চিনকে জাতিপুঞ্জের সসস্য করার পক্ষে সমর্থন করলে চিনকে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য রূপে গ্রহণ করা হয় ।

আরও পড়ুন-

অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ কি?

উপনিবেশবাদ বলতে কী বােঝ? উপনিবেশবাদের ধ্বংসের কারণ কি?

পাঁচসালা বন্দোবস্ত কি? পাঁচসালা বন্দোবস্তের ত্রুটি আলোচনা কর ।

Leave a Comment