তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের গুরুত্ব লেখ?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের গুরুত্ব এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । তিতুমির এর বারাসাত বিদ্রোহ এটি একটি ইতিহাসের খুবই উল্লেখযোগ্য ঘটনা এবং এই প্রশ্নটি পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন (১৯০৭) এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের গুরুত্ব

তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের গুরুত্ব

তিতুমির এর বারাসাত বিদ্রোহ ইতিহাসের একটি খুবই উল্লেখযোগ্য ঘটনা । তিতুমির বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশ সরকার কে অবাক করে দিয়েছিল । পরাধীন ভারতের তিতুমিরের উদ্যোগেই সর্বপ্রথম জমিদারশ্রেণী ও ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে এক তীব্র আন্দোলন দেখা দিয়েছিল । এত বড় আন্দোলন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আর এর আগে কখনও ঘটেনি । ঐতিহাসিক ডঃ শশীভূষণ রায়চৌধুরীর মতে – “এই আন্দোলন ছিল জমিদার বিরোধী ও ব্রিটিশ সরকার বিরোধী গণসংগ্রাম” ।

জমিদারদের প্রতি বিরোধিতা- তিতুমির ছিল পিরবাদ ও জমিদার শ্রেণীর বিরোধী । ২৪ পরগণা জেলার পুঁড়া গ্রামের জমিদার কৃষ্ণদেব রায় তিতুমিরের অনুগামীদের মুখে দাঁড়ি রাখার বিনিময়ে বার্ষিক আড়াই টাকা করে কর ধার্য করেন । এই কর ধার্যের পর তিতুমির সেই জমিদারের বিরোধিতা করে । কৃষ্ণদেব রায় আবার ওয়াহাবিদের আরবি নাম গ্রহণের ওপর ৫০ টাকা কর চাপান এতে তিতুমির আরও বেশী ক্ষুদ্ধ হন এবং ৩০০ জন অনুগামী নিয়ে জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের বাড়ি আক্রমণ করেন এবং তিনি গোবরডাঙ্গা ও টাকির জমিদারদের কাছে খাজনার দাবী করেন ।

ব্রিটিশদের প্রতি বিরোধীতা- তিতুমির বারাসাতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ব্রিটিশ রাজত্বের অস্তিত্ব মুছে ফেলেন এবং নিজেকে বাদশাহ বলে দাবী করেন । এতে ব্রিটিশরা আরও বেশী খুদ্ধ হন এবং লর্ড বেন্টিং তিতুমিরের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী পাঠান ।

কৃষকদের সমর্থন- তিতুমিরের বিদ্রোহের সূচনাই ঘটেছিল বারাসাত বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে । তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের মূল চালিকাশক্তি ই ছিল মুসলিম কৃষ্ণবর্গ । এই বিদ্রোহ ছিল গরীব কৃষকদের উদ্দ্যেশ্যে এবং অত্যাচারিতা নীলকর চাষি ও জমিদারদের বিরুদ্ধে । সমাজের নিম্নবর্গের মানুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিল । নিম্নবর্গের হিন্দু কৃষকগণ ও এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেছিল ।

বাঁশের কেল্লা- তিতুমির নিজেকে বাদশাহ বলে ঘোষণা করে নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন এবং বারাসাত থেকে বসিরহাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চলা কোম্পানির অপশাসনের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন ।

বিদ্রোহের অবসান- যশোহরের ম্যাজিস্ট্রেট এক বিরাট সেনাবাহিনী নিয়ে তিতুমিরের ঘাঁটি আক্রমণ করলে প্রথমে তিতুমিরের বাহিনী সরকারি সৈন্যদের পরাজিত করে কিন্তু পড়ে বেন্টিং পরে বিশাল সেনাবাহিনী পাঠিয়ে তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা ধূলিসাৎ করলে তিতুমির বীরের মতো মৃত্যুবরণ করে । তিতুমিরের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই এই বিদ্রোহের অবসান ঘটে ।

প্রয়োজনীয় শক্তি ও অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত তিতুমিরের বিদ্রোহ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল । সমাচার পত্রিকায় তিতুমিরের বিদ্রোহকে হিন্দু বিরোধী মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে উল্লেখ করেছেন ।

ডঃ বিনয়ভূষণ চৌধুরী বলেছেন – “তিতুমিরের সংগ্রাম ছিল জমিদার বিরোধী ও ব্রিটিশ সরকার বিরোধী গণসংগ্রাম ।

আরও পড়ুন-

দ্বিতীয় নগরায়ন | দ্বিতীয় নগরায়ন বলতে কী বোঝো

হরপ্পা সভ্যতার সময়কাল নির্ণয় কর

প্রাচীন ভারতের দাসপ্রথা সম্পর্কে আলোচনা কর?

আজকে আমরা তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের গুরুত্ব এই প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা করলাম । আশা করি পোস্ট টি আপনাদের ভালো লেগেছে । আমাদের ওয়েবসাইট এ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত বিষয়ের ওপর শিক্ষামূলক পোস্ট করা হয় । আপনাদের যদি পোস্ট টি ভালো লেগে থাকে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং কোন প্রশ্নের উত্তর জানার থাকলে নীচে কমেন্টে জানান ।

Leave a Comment