স্বাধীন ভারতের তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬১-৬৬ খ্রিঃ)

আজকে আমরা, স্বাধীন ভারতের তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করছি ।

তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

এই পরিকল্পনা মােটামুটিভাবে দ্বিতীয় পঞ্বার্ষিকী পরিকল্পনার অনুকরণে তৈরি হয়। তবে দ্বিতীয় পরিকল্পনায় কৃষির উন্নতি ব্যাহত হওয়ায় তৃতীয় পরিকল্পনায় কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

স্বাধীন ভারতের তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা লক্ষ্য –

কর্মসংস্থানের সুযােগ বৃদ্ধি করা।

খাদ্য উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়া।

জাতীয় আয় প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা।

মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৩১০ টাকা থেকে ৩৮৫ টাকা করা।

শিল্পের কাঁচামাল ও রপ্তানিযােগ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা,

অর্থনৈতিক শক্তির সুষম বণ্টনের মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য হ্রাস করা।

ইস্পাত, রাসায়নিক দ্রব্য, শিল্প-যন্ত্রপাতি, শক্তি প্রভৃতি উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি করা।

তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সাফল্য –

গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ, সমবায় সমিতি প্রভৃতির সম্প্রসারণ ঘটানাে হয়।

শিক্ষার প্রসার ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব বাড়ানাে হয়।

কৃষি উৎপাদন বাড়ানাে হয়।

তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ক্রুটি

কৃষিক্ষেত্রে শােচনীয় ব্যর্থতা দেখা দেয়। খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি টন। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৬ কোটি ৩০ লক্ষ টন উৎপাদিত হয়।

সেচ, বিদ্যুৎ, গৃহনির্মাণ, সংগঠিত শিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা সম্ভব হয়নি।

ইস্পাত, কয়লা, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ প্রভৃতি উৎপাদনও আশানুরূপ হয়নি।

এই পরিকল্পনাকালে যথেষ্ট পরিমাণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। দ্রব্যমূল্য কোনো কোনাে ক্ষেত্রে ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন –

ঠান্ডা যুদ্ধের কারণ ও পটভূমি আলোচনা কর

সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও দেশভাগ

ভারতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা

বাবর কি মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন

Leave a Comment