দূরশিক্ষার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা দূরশিক্ষার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য কি কি তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । দূরশিক্ষার বৈশিষ্ট্য এটি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের এবং বি এড এর একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশ্নটি পরীক্ষায় প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা কোঠারি কমিশনের মতে শিক্ষার লক্ষ্য এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

দূরশিক্ষার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য

প্রফেসর হোমবারগ ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে দূরশিক্ষার সম্পর্কে বলেছেন যে, যে শিক্ষা সর্বস্তরে বিভিন্ন প্রকৃতির শিখন যা ধারাবাহিক ভাবে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের তাৎক্ষণিক তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় না তাকে দূরশিক্ষা বলে ।

দূরশিক্ষার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য

দূরশিক্ষার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল-

১) নন ফর্মাল শিক্ষা- দূরশিক্ষা একটি নন ফর্মাল শিক্ষার মধ্যেই পড়ে কারণ এটি কোন প্রথাগত যুক্ত শিক্ষা নয় । দূরশিক্ষা মুক্ত শিক্ষা, মুক্ত শিক্ষণ, মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি নামেও পরিচিত ।

২) পরোক্ষ শিক্ষা- দূরশিক্ষাতে সরাসরি শিক্ষার ওপর কোন গুরুত্ব নেই । এই প্রকার এর শিক্ষাকে পরোক্ষ শিক্ষাও বলা হয় ।

৩) নমনীয়তা- দূরশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক নমনীয়তা রয়েছে । এছাড়া এই শিক্ষার ক্ষেত্রে সময় বা সংস্থানের কোন বাধ্যবাধকতা নেই, শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামতো স্থানে নিজের সময় অধ্যয়ন করতে পারে ।

৪) কম খরচে শিক্ষা- দুরাগত শিক্ষার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দূরাগত শিক্ষা প্রথাগত শিক্ষার তুলনায় অনেক কম খরচে শিক্ষাগ্রহণ করা যায় ।

৫) শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক- এই শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় ।

৬) সহজলভ্য- অনেক জায়গা আছে যেখানে এখনও স্কুল অথবা কলেজ গড়ে ওঠেনি সেখানকার শিক্ষার্থীরা দূরায়িত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে । অথবা শারীরিক দিক থেকে ও মানসিক দিক থেকে দুর্বল শিক্ষার্থীরাও দূরশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে ।

৭) গণশিক্ষা- দূরাগত শিক্ষাকে গণশিক্ষা ও বলা হয় । কারণ এই শিক্ষার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী খুব সহজেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে ।

৮) গণমাধ্যমের ব্যাবহার- দূরশিক্ষায় বিভিন্ন গণমাধ্যম যেমন রেডিয়ো, পত্রপত্রিকা, স্মার্টফোন ইত্যাদি ব্যাবহার করা হয় ।

৯) স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার এর মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব ।

১০) বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় যেকোন জায়গায় দূরাগত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব ।

১১) এই শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়াতে পারে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারে ।

১২) শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব ।

১৩) এই শিক্ষাব্যাবস্থায় স্কুল ঘর, শ্রেণীকক্ষ এবং ছাত্রাবাস ইত্যাদির কোন দরকার নেই ।

১৪) চাকুরীরত ব্যাক্তিরাও এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আরও বাড়ানোর জন্য ।

১৫) একজন ভালো শিক্ষক দিয়েই অনেক শিক্ষার্থীকে পড়ানো সম্ভব । এই শিক্ষা অনেক সস্তা, সহজ ও সরল ।

দূরাগত শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত

দূরাগত শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাক্তি বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন । কিন্তু প্রফেসর কিগান এর মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ । ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে কিগান দূরশিক্ষা সম্পর্কে কতগুলি মত প্রকাশ করেন সেগুলি হল-

১) এই ধরণের শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি ও ব্যাক্তিগত কোন সম্পর্ক থাকেনা । এই সব শিক্ষা সেই সব অঞ্চলেই বেশী প্রয়োজন যেখানে যাতায়াতের সু-ব্যাবস্থা নেই ।

২) দূরাগত শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিদিনের সংযোগ না থাকলেও প্রয়োজনে তারা দেখা করতে পারে ।

৩) এই শিক্ষাব্যাবস্থা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে কিন্তু সিক্ষাব্যাবস্থা প্রথাগত পদ্ধতি তেই চলে না । আবার এটি ব্যাক্তিগত শিক্ষাও নয়, বিশ্ববিদ্যালয় এর সঙ্গে যুক্ত থেকেই এই শিক্ষাব্যাবস্থা কে পরিচালনা করতে হয় ।

আরও পড়ুন-

কোঠারি কমিশনের মতে শিক্ষার লক্ষ্য

বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্য

বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক পরিবর্তন | বয়ঃসন্ধিকালে সামাজিক পরিবর্তন

আজকের এই পোস্টে আমরা দূরশিক্ষার কয়েকটি বৈশিষ্ট্যদূরাগত শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্ট এ আলোচনা করলাম । আশা করি পোস্ট টি তোমাদের ভালো লেগেছে । আমাদের ওয়েবসাইট এ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শিক্ষামূলক পোস্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হয় ।

Leave a Comment