দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের কৃতিত্ব এবং দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের চরিত্র এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । মাধ্যমিক এর এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্ট এ আমরা নবরত্ন কাদের বলা হয় এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো

সমুদ্রগুপ্তের পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে ছিলেন সে সম্পর্কে ঐতিহাসিক মহলে মতভেদ আছে । একদল ঐতিহাসিক এর মতে সমুদ্রগুপ্তের পর রামগুপ্ত সিংহাসনে আরোহণ করেন । এই সিংহাসনে আরোহণের বিবরণ পাওয়া যায় বিশাখাদত্তের দেবী চন্দ্রগুপ্তম, বাণভট্টের হর্ষচরিৎ, রামগুপ্তের নামাঙ্কিত কিছু মুদ্রার ওপর নির্ভর করে । তবে রামগুপ্ত ছিলেন দুর্বল ও অযোগ্য শাসক । সেই সুযোগে এক শকরাজ রামগুপ্তকে পরাজিত করে তার মহর্ষি ধ্রুভদেবীকে বিবাহ করেন । রাষ্ট্রকূট রাজ প্রথম সামাঘবর্ষের অনুশাসন লিপিতে উল্লিখিত আছে যে, “এক গুপ্ত যুবরাজকে হত্যা করে তার রাজ্য ও রাজমহর্ষি কে অধিকার করেছিলেন । কিন্তু ঐতিহাসিক সিলভা লেভি প্রমুখ ইউরোপীয় ঐতিহাসিকরাও রামগুপ্তকে সমুদ্রগুপ্তের পরবর্তী গুপ্তসম্রাট বলে মনে করেন ।

ডঃ মজুমদার প্রমুখ ঐতিহাসিক রা উপরিক্ত ঘটনার ঐতিহাসিকতা অগ্রাহ্য করেন । তাদের মতে সমুদ্রগুপ্তের পর দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত গুপ্ত সিংহাসনে বসেন । এ সম্পর্কে কয়েকটি যুক্তি উল্লেখযুক্ত যেমন-

১) সমুদ্রগুপ্তের অনুশাসন লিপিতে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের মনোনয়নের কথা উল্লিখিত আছে ।

২) মৌর্যদের ইতিহাস সম্পর্কে মুদ্রারাক্ষস প্রভৃতি গ্রন্থগুলি যেমন নির্ভরযোগ্য, দেবী চন্দ্রগুপ্তম ও সেরুপ নির্ভরযোগ্য নয় । এই নিরিখে বলা যায় যে ২য় চন্দ্রগুপ্তই সমুদ্রগুপ্তের উত্তারিধাকারি ।

সুতরাং এরুপ ক্ষেত্রে সমুদ্রগুপ্ত ও চন্দ্রগুপ্তের মধ্যে রামগুপ্ত নামে ওপর কেউ সিংহাসন দখল করতে পারেন এরুপ সন্দেহ করার কোন কারণ নেই । তাছাড়া গুপ্ত রাজাদের মুদ্রা ও অনুশাসন লিপিতে রামগুপ্ত নামে কোন রাজার নাম পাওয়া যায় না ।

উপরিক্ত যুক্তি প্রদর্শন করে ডঃ মজুমদার প্রমুখ ঐতিহাসিকরা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকেই সমুদ্রগুপ্তের পরবর্তী গুপ্ত রাজা বলে অভিহিত করেন । দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিভিন্ন নামে নামাঙ্কিত হন যথা – বিক্রমাদিত্য, নরেন্দ্রচন্দ্র, দেবরাজ, দেবশ্রী ইত্যাদি ।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত 380 খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে বসেন এবং 413 খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন । তিনি ছিলেন বীর যোদ্ধা এবং বহুদক্ষ শাসক । ডঃ ভিন্টসেন্ট স্মিথ এর মতে এত বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করার মতো ক্ষমতা তার ছিল । তার রাজত্বকালে সাম্রাজ্য গৌরবের চরম সীমায় উপনিত হয়েছিল । সমুদ্রগুপ্ত বাহুবলে ভারতের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ঐক্য স্থাপন করেছিলেন সেটা সত্য কিন্তু সমগ্র ভারতে একছত্র আধিপত্য স্থাপন করতে পারেননি । দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত পাঞ্জাব ও পশ্চিম ভারতের শক রাজের বিলুপ্তি ঘটিয়ে সমসাময়িক কদম্ব ও নাগবংশের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম ভারতে এক সার্বভৌম রাজশক্তির স্থাপন করতে সক্ষম হন । চিনা পরিব্রাজক ফা হিয়েন তার শাসন ব্যাবস্থার উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা করেছেন । তার শাসনব্যাবস্থা ছিল উদার জনকল্যাণমূলক । ঐতিহাসিক স্মিথ এর মতে ” Probably India has never been governor better after the oriental manner than it has during the reign of Vikramaditya”.

সর্বশেষে বলা যায় যে, সামরিক প্রতিভা ছাড়াও তিনি ছিলেন গুণগ্রাহি নরপতি । যদিও কিংবদন্তি বিক্রমদিত্য ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত অভিন্ন হন তাহলে স্বীকার করতে হবে যে, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজসভা ছিল এক বিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ।

আরও পড়ুন-

খানুয়ার যুদ্ধ কবে হয়, গুরুত্ব ও ফলাফল

গুপ্ত যুগের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য এবং শিল্পকলা

তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহের গুরুত্ব লেখ?

wbupdates.in একটি শিক্ষামূলক ব্লগ পোস্ট এবং এখানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয় । তাই আমাদের ব্লগ টি পারলে বুকমার্ক করে নেন ।

Leave a Comment