দ্বিতীয় নগরায়ন | দ্বিতীয় নগরায়ন বলতে কী বোঝো

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা দ্বিতীয় নগরায়ন বলতে কী বোঝো তা নিয়ে আজকের এই পোস্ট এ বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো । ইতিহাসের এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং এরকম এর আরও পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট টি বুকমার্ক করুন ।

এর আগের পোস্ট এ আমরা হরপ্পা সভ্যতার সময়কাল নির্ণয় কর এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

দ্বিতীয় নগরায়ন বলতে কী বোঝো

দ্বিতীয় নগরায়ন বলতে কী বোঝো?

খ্রীস্টপূর্ব ষষ্ট শতকে কৃষি অর্থনীতির ব্যাপক প্রসারের ফলে উদ্ভূত উৎপাদন, কারিগরি শিল্পের বিস্তার, ব্যাবসাবাণিজ্যের বিকাশে এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রব্যাবস্থার উত্থান মধ্যগাঙ্গেয় উপতক্যায় হরপ্পা সভ্যতার পর আবার নতুন করে নগর জীবনের উদ্ভবকে সম্ভব করেছিল । এই নগরায়ন ঐতিহাসিক মহলে দ্বিতীয় নগরায়ন নামে পরিচিত ।

দীর্ঘ নিকায় এর মহাপরিনির্মাণ সুত্ত অনুসারে বুদ্ধের সমসাময়িক উত্তর ভারতে ৬০ টি নগর ছিল যার মধ্যে বারাণসী, কৌশাম্বী, চম্পা, রাজগৃহ, শ্রাবস্তি ও কুশিনগর । পালি সাহিত্যে সব নগরকেই এককভাবে বর্ণনা করা হয়েছে । বিশালায়তন চারপাশে উঁচু প্রাচীর এবং গভীর পরিখা, অট্টলিকা ও প্রসাদ দ্বারা সুসজ্জিত সুন্দর নগর বিন্যাস, প্রভৃতি নগরগুলি ছিল উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ।

D.D কৌশাম্বী বারাণসী, বৈশালী, রাজগৃহ, চম্পা প্রভৃতি স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনন চালিয়ে পালি সাহিত্যে উল্লিখিত নগরগুলি সম্পর্কে অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট ধারণা লাভ করে যায় । খ্রীস্টপূর্ব ষষ্ট শতকে মধ্যে গাঙ্গেয় উপতক্যায় নগরগুলিতে বস্তুগত সংস্কৃতির মান খুব উন্নতি হয়নি । প্রাক মৌর্য যুগের স্তরে খড়ের ছাউনি মাটির ও কাঠের তৈরী গৃহের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে । রামসরণ শর্মার মতে মৌর্য যুগ থেকেই গৃহ নির্মাণে পোড়ামাটির ইটের ব্যাবহার শুরু হয়েছিল । তবে অত্রানজিখেদা, বৈশালী এবং রাজগৃহের মত নগরগুলিতে উত্তরের উজ্জ্বল কৃষ্ণবর্ণ, মৃৎপাত্র, রোপ্যমুদ্রা, পাথরের তৈরি ক্ষুদ্র পুঁতি, লোহার হাতিয়ার ও ছোট আকারের ইট ভাটার নিদর্শন মিলেছে । যা উন্নতমানের নাগরিক বস্তুগত সংস্কৃতির পরিচয় ।

D.D কৌশাম্বী উৎখনন থেকে উন্নত কারিগরি, শিল্প দ্রব্য, বাটালি, ছুরি, খুর, পেরেক্‌ কাস্তে এবং বিলাশ দ্রব্যের উৎপাদন এর হাতির দাঁতের বিভিন্ন জিনিসপত্র, নানান দামি পাথরের পুঁথি ও গয়না প্রভৃতির সাক্ষ্য পাওয়া যায় । খ্রীস্টপূর্ব ষষ্ট শতকের স্তরে অত্রানজিখেদার আয়তন বৃদ্ধি, বারাণসী, রাজগৃহ, উজ্জয়নী অ কৌশাম্বীতে নগর প্রাচীরের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে নগরায়ণের বিকাশকে সূচীত করে ।

কারিগরি, বণিক, সৈনিক, রাজকুল ও প্রশাসনিক কর্মচারীবৃন্দ এবং সন্যাসী প্রভৃতি বৃত্তিগুলিকে কেন্দ্র করে নগর এর বিকাশকে সূচীত করেছিল । D.D কৌশাম্বী রামসরণ শর্মার মতে গাঙ্গেয় উপত্যকার উর্বর মৃত্তিকা নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ক্রমবর্ধমান লৌহ প্রযুক্তি ব্যাবহারের ফলে গ্রামাঞ্চলে শস্য উৎপাদনের ব্যাপক হার বৃদ্ধি হয়েছিল । এই কৃষি উদ্বৃত্তই ছিল দ্বিতীয় নগরায়নের মূল ভিত্তি ।

অন্যদিকে প্রত্নতত্ত্ববিদ অমলানন্দ ঘোষ মনে করেন এই দ্বিতীয় নগরায়নের সাফল্য শুধুমাত্র উদ্বৃত্ত উৎপাদনের ওপর নির্ভর করেনি আলোচ্য সময়ে কাশী, কৌশল, মগধ প্রভৃতি মহাজনপদ বা রাষ্ট্রব্যাবস্থার দ্রুত উত্থান নগরের উদ্ভব ও অস্তিত্বকে ধরে রেখেছিল । এই রাজতান্ত্রিক রাজ্যগুলির বিপুল বিভব ও পরিপূর্ণ কোষাগারের উল্লেখ ও নাগরিক সভ্যতাকে বিশেষভাবে সূচীত করেছিল ।

আরও পড়ুন-

প্রাচীন ভারতের দাসপ্রথা সম্পর্কে আলোচনা কর?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গঠন ও কার্যাবলী বর্ণনা কর?

আজকের পোস্ট এ আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করলাম সেটা হল দ্বিতীয় নগরায়ন । আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে যদি আপনারা চাইলে পোস্ট টি শেয়ার ও করতে পারেন । আপনাদের মনে যদি আরও কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে সেটা কমেন্টে জানান ।

Leave a Comment