দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । মাধ্যমিক এর এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই প্রশ্নটি পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের প্রশ্নে আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র ২০ বছরের মধ্যেই অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব শেষ হতে না হতেই বিশ্ববাসী আরও এক ভয়ানক ও বিধ্বংসী যুদ্ধের সম্মুখীন হয় । ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১লা সেপ্টেম্বর জার্মানির হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় । ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ অর্থাৎ দীর্ঘ ছয় বছর এই দ্বিতিয় বিশ্বযুদ্ধ স্থায়ী ছিল ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি রুখে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়ে যায় । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণগুলি হল-

১) ভার্সাই সন্ধির ত্রুটি- ভার্সাই সন্ধিতে জার্মানির অবস্থা শোচনীয় করে দেওয়া হয়েছিল । ভার্সাই সন্ধিতে বা চুক্তিতে মোট ৪০০ টি ধারা ছিল এবং এই ৪০০ টি ধারার বেশীরভাগ এই রচিত হয়েছিল জার্মানিকে স্থায়ীভাবে সামরিক ও আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল করে দেওয়া । এছাড়া এই সন্ধিতে জার্মানির ওপর বিশাল অঙ্কের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।

২) উগ্র জাতীয়তাবাদ- জার্মানির একনায়কতন্ত্রী হিটলার মনে করতেন সমগ্র বিশ্বে একমাত্র জার্মানরাই বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী । আর এরাই হল বিশ্বের একমাত্র শ্রেষ্ঠ জাতি । জার্মান দের ই একমাত্র অধিকার আছে অন্যান্য জাতির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা । হিটলারের এই মন্তব্য হেরেনভক তত্ত্ব নামে পরিচিত । হিটলারের এই হেরেনভক তত্ত্বে উগ্র সাম্রাজ্যবাদের উদ্ভব হয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কে আরও ত্বরান্বিত করেছিল ।

৩) ইতালি ও জাপানের আগ্রাসান নীতি– ইতালি ও জাপানের আগ্রাসান নীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ বপন করে । ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ এবং ইতালির আবিসিনিয়া দখল দ্রুত বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় ।

৪) অর্থনৈতিক মন্দা- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রায় সব দেশই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়ে । এসময় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি চরম স্তরে পৌঁছায় । কিছু কিছু দেশের নেতারা জনগণের ক্ষোভ কে আঁটকে রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধের পরিকল্পনা শুরু করে ।

৫) ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্ব- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভার্সাই সন্ধির বলে মিত্রশক্তি জোট ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও আমেরিকা উপনিবেশ গুলি দখল করতে থাকে । এভাবেই অক্ষশক্তি জোট ইতালি, জার্মানি ও জাপান উপনিবেশ দখল এর কর্মসূচী গ্রহণ করে । ইতালি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করতে গেলে ইঙ্গ ফরাসী বাধা দেয়, একইভাবে জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের প্রভাব বাড়াতে গেলে মার্কিন শক্তি বাধা দেয় । এরফলে মিত্রশক্তি ও অক্ষশক্তির মধ্যে ঔপনিবেশিক দ্বন্দের সৃষ্টি হয় ।

৬) জাতিসংঘের ব্যর্থতা– প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পর শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা করা হয়, কিন্তু বৃহৎ শক্তিবর্গের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয় । ইতালির আবিসিনিয়া দখল, জাপানের মাঞ্চুরিয়া দখল এছাড়া জার্মানির চেকোস্লাভিয়া দখল প্রভৃতির ওপর জাতিসংঘ রুখে দাঁড়াতে পারেনি, যার ফলস্বরুপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুত্রপাত ঘটে ।

৭) নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের ব্যর্থতা– লীগ অফ নেশনস এর তত্ত্বাবধানে জেনেভায় নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন আহূত হয় । এই সম্মেলনে সকল রাষ্ট্রকে যতসম্ভব অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয় এবং প্রতিনিধিগণ সংকীর্ণ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে না পারায় জার্মানি এই সম্মেলন ছেড়ে চলে যায় । যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয় ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল

১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল খুবই ভয়ানক ছিল । প্রথম বিশ্বযুদ্ধ অপেক্ষা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আরও বেশী অস্ত্র শস্ত্র ব্যাবহার করা হয়েছিল । এমনকি পারমাণবিক বমার মতো বিধ্বংসী বোমাও এই যুদ্ধে ব্যাবহার করা হয় । আমেরিকা ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৬ই আগস্ট সকালে জাপানের হিরোশিমায় এবং ৯ই আগস্ট নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে ।

এই যুদ্ধের ফলস্বরূপ-

১) জার্মানির পরাজয়- এই যুদ্ধের পর জার্মানি চরম ভাবে পরাজিত হয় এবং জার্মানির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক ক্ষমতা একে বাড়ে ভেঙ্গে পড়ে ।

২) জাপানের ওপর পরমাণু বোমা নিক্ষেপ- জাপান ভুলবশত আমেরিকার পার্ল হারবার আক্রমণে জড়িয়ে পড়লে আমেরিকা তার প্রতিক্রিয়া স্বরুপ জাপানের ওপর ‘ফ্যাট ম্যান’ নামক পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে ।

৩) মার্কিন আধিপত্য শুরু- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পড়ে বিশ্বদরবারে আমেরিকার প্রভাব বাড়ে এবং বিশ্বের দরবারে আগমন করে ।

৪) ঠাণ্ডার লড়াই- বিশ্বের দুই শক্তিধর রাষ্ট্র আমেরিকা ও রাশিয়া কোন প্রতক্ষ্য যুদ্ধ না করেও দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধের আবহাওয়ার মধ্যে থাকে ।

আরও পড়ুন-

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রকৃতি আলোচনা কর?

সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি লেখ

আজকের এই পোস্টে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করলাম । আশা করি উত্তরটি তোমাদের ভালো লেগেছে । আমাদের ওয়েবসাইট এ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয় ।

Leave a Comment