নদী ও হিমবাহের কাজের পার্থক্য

নদী ও হিমবাহের কাজের পার্থক্য গুলি নীচে আলোচনা করা হল –

নদী ও হিমবাহের কাজের পার্থক্য

নদীর কাজহিমবাহের কাজ
নদী দ্বারা গঠিত ভূমিরূপ গুলি বয়েসে অনেক প্রাচীনহিমবাহ গঠিত গঠিত ভুমিরুপগুলি অনেকটাই নবীন
নদীর ক্ষয় কাজের ফলে পদার্থ গুলি গোলাকার ও মসৃণ হয়হিমবাহের ক্ষয় কাজের ফলে সৃষ্ট পদার্থগুলি এবড়ো খেবড়ো ও আকার বিহীন হয়
নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে প্লাবন ভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ ইত্যাদির সৃষ্টি হয় হিমবাহের সঞ্চয় কাজের ফলে গ্রাবরেখা, ড্রামলিন, এসকার প্রভৃতি গঠিত হয়
নদীর ক্ষয় কাজের ফলে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয় হিমবাহের ক্ষয় কাজের ফলে ‘U’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয়
নদীর কাজ নির্ভর করে ভূমির ঢাল, নদীর জলের পরিমাণের ওপরহিমবাহের কাজ নির্ভর করে মূলত বরফের পরিমাণ ও শিলার প্রকৃতির ওপর

হিমবাহ কাকে বলে ?

উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে বা মেরু অঞ্চলে ধীরগতি সম্পন্ন চলমান বিশাল, দীর্ঘস্থায়ী  তুষার বা বরফের স্তুপ কে হিমবাহ বলে। বিজ্ঞানী ফ্লিন্ট এর মতে – হিমবাহ হল এক বিশাল আকৃতির বরফের স্তূপ, যা তুষার জমাট বেঁধে তৈরি হয়ে বিস্তীর্ন অঞ্চল ব্যাপী অবস্থান করছে এবং চলন্ত অবস্থায় রয়েছে বা কোনো এক সময় চলন্ত অবস্থায় ছিল। 

ক্রেভাস কি ?

হিমবাহ যখন নীচের দিকে নেমে আসে তখন তার পৃষ্ঠদেশ বেশ জমাট ও মসৃণ থাকে । এর ফলে বন্ধুর পর্বতের গা বেয়ে নীচের দিকে নেমে আসার সময় ঢালের মুখে মুখে এলে হিমবাহের পৃষ্ঠদেশে যথেষ্ট টান পড়ে এবং সেই অংশে চিড় বা ফাটলের সৃষ্টি হয় । হিমবাহের পৃষ্ঠ দেশের এই চিড় বা ফাটল কেই ক্রেভাস বলে ।

বার্গস্রুন্ড কাকে বলে ?

হিমবাহ যখন নীচের দিকে নেমে আসে, তখন অনেক সময় বন্ধুর পর্বতের খাঁজকাটা গা এবং হিমবাহের মধ্যে ফাঁকের সৃষ্টি হয় । এই ফাঁককে বলা হয় বার্গস্রুন্ড ।

আরও পড়ুন – শীতকালে ভারতে গম চাষ হয় কেন

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশুনা করার জন্য আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন

Leave a Comment