নানা রঙের দিন নাটকে কালীনাথ চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা নানা রঙের দিন নাটকে কালীনাথ চরিত্রটি নিয়ে আলোচনা করছি ।

নানা রঙের দিন নাটকে কালীনাথ চরিত্র

নানা রঙের দিন নাটকে কালীনাথ চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো

নাট্যকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুদিত নাটক নানা রঙের দিন নাটক এ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো কালিনাথ সেন। গভীর রাতে অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় যখন নেশার ঘোরে মত্ত হয়ে একা একা পাগলের মত মঞ্চের মধ্যে বকে চলেছেন ঠিক তখনই ময়লা পাজামা পরা কালো চাদর গায়ে এলোমেলো চুলের কালিনাথ সেনের প্রবেশ ঘটে।

  নিজস্ব বাসস্থানহীন কালিনাথ এর ব্যক্তিগত জীবনে রজনীকান্তের মত ই দুঃখের। কিন্তু সারা জীবনের সমস্ত হতাশা, না পাওয়া, আক্ষেপের সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এখানেই হয়তো এই চরিত্র দুটির মধ্যে পার্থক্য। গভীর রাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে যখন রজনীকান্তের গলায় হতাশার সুর বেজে উঠেছে, তখন কালিনাথ বাবু থাকে পুরনো দিনগুলোর কথা মনে না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

     কালিনাথ সেন আসলে নাট্যমঞ্চের একজন প্রম্পটার, তিনিও নাটককে জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। তার ভালোবাসার কারণেই অনেক সহজেই রজনী বাবুর সঙ্গে তিনি মঞ্চের উপর উঠে নাটকের সংলাপ দক্ষতার সাথে অভিনয় করে তুলেছিলেন।

    কালিনাথ সেনের চরিত্রে এক মানবিকতার লক্ষণ ফুটে উঠেছে। অবসাদগ্রস্ত রজনীকান্তের অবস্থা বুঝতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। এমনকি গভীর রাতে রজনী বাবুকে সে বাড়ি পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। রজনী বাবুকে অতি নিচে শ্রদ্ধা সহকারে ভালোবাসতেন তা আমরা বুঝতে পারি। নানা রঙের দিন নাটকের প্রধান চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় কে উজ্জ্বল করে তোলার জন্য কালিনাথ সেনের এই পার্শ্ব চরিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নানা রঙের দিন নাটকের নামকরণের সার্থকতা

একাঙ্ক নাটক হিসেবে সার্থকতা মাত্র একটি অঙ্ক বা সর্গ পরিচ্ছেদে সমাপ্ত, দ্রুতসংঘটিত নাটকই হল একাঙ্ক নাটক। এটি এমন এক ধরনের নাটক যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল একমুখিতা। অবশ্য আদর্শ নাটকের সমস্ত লক্ষণ একাঙ্ক নাটকেও উপস্থিত থাকে।

অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটি হল প্রবীণ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের ফেলে আসা অভিনয়জীবনের স্মৃতিরােমন্থন। মঞ্চে দেখা যায়, দিলদারের পােশাক পরে মধ্যরাতের শূন্য প্রেক্ষাগৃহে এই মানুষটি নেশার ঘােরে রয়েছেন। আসলে তিনি রয়েছেন স্মৃতির ঘােরে। পঁয়তাল্লিশ বছরের অভিনয়জীবনের স্বর্ণযুগ পেরিয়ে এসেছেন সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ এই সু- অভিনেতা। অভিনয়ের জন্য সব কিছু ত্যাগ করা এই মানুষটি হতাশাদীর্ণ হয়ে বলেছেন, “অভিনেতা মানে একটা চাকর, একটা জোকার, একটা ক্লাউন।” তাঁর মনে হয়েছে, “যারা বলে ‘নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প’—তারা সব গাধা- গাধা।” কিন্তু জীবনসায়াহ্নে উপনীত অভিনেতা সেই অভিনয়ের মধ্যেই আত্মতৃপ্তি এবং গর্বের উপাদান খোঁজেন। অতীতকে সম্বল করে, মঞ্চের রঙিন দিনগুলিকে আঁকড়ে ধরে এই নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ অনুভব করেন, “স্মৃতি সততই সুখের।”

সুতরাং, এক এবং অভিন্ন বিষয় নিয়েই এই নাটকটি রচিত হয়েছে। আর নাটকের প্রাণ হল দ্বন্দ্ব, সেই নাট্যদ্বন্দ্বও এই নাটকটিতে উপস্থিত রয়েছে। অভিনেতা রজনীকান্তের অন্তর্দ্বন্দ্ব নাটকটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ‘ঘটনার ঘনঘটা’ এখানে অনুপস্থিত। মাত্র দুটি চরিত্রের (কালীনাথ ও রজনীকান্ত) সংলাপের মধ্য দিয়ে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। রজনীকান্ত চরিত্রটির দীর্ঘ সংলাপ মাঝেমধ্যেই নাটকটির গতি রুদ্ধ করে দিলেও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠক বা দর্শক টানটান অবস্থায় উপভােগ করতে পারেন। এর নাট্যরস। সুতরাং, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’-কে আমরা শিল্পসার্থক একাঙ্ক নাটক বলতেই পারি।

আরও পড়ুন –

নানা রঙের দিন নাটক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ & SAQ) ছোট ও বড়

বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়াে প্রশ্ন উত্তর (একাদশ শ্রেণী)

‘জ্ঞানচক্ষু‘ গল্প অনুসরণে তপন চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো

কর্তার ভূত গল্পের নামকরণের সার্থকতা

‘শিক্ষার সার্কাস’ একাদশ শ্রেণী (MCQ) ও বড় প্রশ্ন

Leave a Comment