নীল বিদ্রোহের প্রকৃতি আলোচনা কর

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা নীল বিদ্রোহের প্রকৃতি, নীল বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নের উত্তরটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

নীল বিদ্রোহের প্রকৃতি আলোচনা কর

নীল বিদ্রোহের প্রকৃতি

ব্রিটিশ শাসনের শোষণমূলক চরিত্রের বিরুদ্ধে ভারতে যেসব কৃষক অভূথ্যান ঘটে সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল 1859-1860 সালে নীল বিদ্রোহ । এই বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল নীলকর সাহেবরা যারা কৃষকদের জোর করে নীল চাষ করতে বাধ্য করত ।এই বিদ্রোহ জমিদার ও মহাজন বিরোধী ছিল না নীল বিদ্রোহ অন্যান্য কৃষক বিদ্রোহের থেকে স্বতন্ত্র প্রকৃতির ছিল ।

নীল বিদ্রোহ প্রথমে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রথমে আত্মপ্রকাশ করে কিন্তু পরে নীল চাষিরা শান্তিপূর্ণভাবে নীল চাষ বয়কট করে । এই বিদ্রোহে চাষিদের মধ্যে এক দৃঢ় সংকল্প এবং হিন্দু মুসলিম দের মধ্যে ঐক্যের বিশেষ প্রয়াস দেখা যায় । এই বিদ্রোহ ছিল সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত কিন্তু পরে নীলকর এর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার্থে আন্দোলন সশস্ত্র আকার নেয় ।

সর্বভারতীয় আদর্শ ও নেত্রীদের অভাবে এই বিদ্রোহের বিস্তার সীমিত ছিল মূলত বাংলায় । 1860 সালের মধ্যে এই বিদ্রোহ যশোহর, রাজশাহী, পাবনা, নদীয়া, বারাসাত, ফরিদপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা প্রভৃতি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে । নদীয়া জেলায় এই বিদ্রোহে মহিলাদের অংশগ্রহণের কথাও জানা যায় ।

এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে কারা ছিলেন বা যোগদান করেছিলেন সে সম্পর্কে বিতর্ক আছে । চিত্রব্রত পালিতার মতে, এতে নেতৃত্বের পূর্বভাগে এগিয়ে আসে জমিদাররা তবে কৃষক যে উদ্দ্যেশে বিদ্রোহ করে তাতে সবক্ষেত্রে জমি আদায়ের নীলকর বিরোধিতার উদ্দ্যেশ্য তা ছিল না । অনেক ক্ষেত্রে নীলকর এর পীড়নে জমি থেকে খাজনা আদায় কমে গেলে বা নীলকর প্রজার ওপর জমিদারদের আধিপত্যের হস্তক্ষেপ করলে জমিদারা নীলকর বিরধিতায় নামে । রঞ্জিত গুহর মতে জমিদারা সর্বশক্তি দিয়ে নীল বিদ্রোহে যোগ দেয়নি । বিনয়ভূষণ চৌধুরী দেখিয়েছেন জমিদাররা নীল চাষ পছন্দ করত না, নীলকর দের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল না, তাই বিদ্রোহের সংগঠনে জমিদারদের ই হাথ ছিল ।

নীল কমিশনের রিপোর্টে দেখা যায় মূলত সর্বাপেক্ষা খতিগ্রস্থ নীল চাষিদের সংগঠনেই এই নীল বিদ্রোহ গড়ে ওঠে । নীলকর দের সরিয়ে নিয়ে মহাজনি সংঘ আত্মসাৎ এর লক্ষ্যে গ্রামের কিছু ধনী কৃষক ও মোড়ল বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিতে আসে । এই প্রসঙ্গে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, বারাসাত এর ম্যাজিস্ট্রেট প্রমুখের কথা বলা যায় ।

এই বিদ্রোহে কৃষকদের সঙ্গে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ধানচাষ ও ব্যাবসার সূত্রে সমৃদ্ধশালী বিষ্ণুচরন ও দিগম্বর বিশ্বাস এর নাম পাওয়া যায় । এরা একসময় বাঁশবেড়িয়ার নীলকর জন হোয়াইট এর কর্মচারী ছিলেন । তবে সাঁওতাল ও মহাবিদ্রোহ ভিন্ন ভূমিকা নিলেও নীল বিদ্রোহে কিছু জমিদার ও বুদ্ধিজীবী সমর্থন করে ।

তবে বিদেশী উপনিবেশকদের বিরুদ্ধে নয় মূলত আর্থিক সমস্যা নিয়ে নীল চাষিদের সামরিক ঐক্যের ভিত্তিতে নীল বিদ্রোহ গড়ে ওঠে । এই দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক আন্দোলন এর রুপ নিতে পারেনি ।

আরও পড়ুন-

গুপ্ত শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো

গুপ্তযুগের গিল্ড ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর?

একশালা বন্দোবস্ত কি? ত্রুটি ও ফলাফল আলোচনা কর?

আজকের এই পোস্টে আমরা নীল বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করলাম এবং পরের পোস্টে আমরা নীল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করব । আমাদের ওয়েবসাইট এ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয় । তাই আমাদের পেজ টি ফলো করুন এবং বুকমার্ক করে রাখুন ।

Leave a Comment