পলাশির যুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা কর

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা পলাশির যুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা কর এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । মাধ্যমিক এর এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশ্নটি পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা আধুনিক ইতিহাসের লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম ।

পলাশির যুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা কর

পলাশির যুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা কর

1756 খ্রিস্টাব্দের 10 ই এপ্রিল নবাব আলিবর্দি খাঁ মারা যাওয়ার পর তাঁর কনিষ্ঠা কন্যা আমিনা বেগমের পুত্র সিরাজ উদ্দৌল্লা বাংলার সিংহাসনে বসেন । সিরাজ উদ্দৌল্লা তাঁর সিংহাসন আরোহণ করার কয়েকমাসের মধ্যে সিরাজের সাথে ইংরেজদের সম্পর্ক তিপ্ত হয়ে উঠতে থাকে । যার চুরান্ত পরিণিতি ছিল 1757 খ্রিস্টাব্দে 23 শে জুন বৃহস্পতিবার সংঘটিত পলাশির যুদ্ধ, সিরাজের সাথে ইংরেজদের এই বিরোধের কারণগুলি ছিল নিম্নরূপ-

১) সিরাজকে অপমান- প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী কোন নবাব সিংহাসনে বসলে বিদেশ থেকে আগত কোম্পানিগুলি নবাবকে উপঢৌকন পাঠাত । আনুগাত্যের স্বীকৃতি স্বরুপ সিরাজ নবাব হওয়ার পর ফরাসী ও বাংলার জমিদাররা নজরানা দিয়ে আনুগত্য স্বীকার করলেও, ইংরেজ কর্তৃপক্ষ অনেক দেরীতে নজরানা পাঠিয়ে ইংরেজদের এই ব্যাবহারে সিরাজ অত্যন্ত অপমানিত বোধ করে ।

২) দুর্গ সংস্কার- ফরাসী ও ইংরেজরা বাণিজ্যিক ও যুদ্ধের স্বার্থে কোন দূর্গ নির্মাণ আবার কোথাও সংস্কার শুরু করেন । নবাব উভয়কে এই কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলে ফরাসী রা তা বন্ধ করে কিন্তু ইংরেজরা নবাবের নির্দেশকে অমান্য করে, যার জন্য সিরাজ ইংরেজদের প্রতি খুদ্ধ হয় ।

৩) দস্তকের অপব্যাবহার- ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট ফারুকশিয়ার কোম্পানিকে বাংলার বণ্ঠন শুক্লে বাণিজ্যের অধিকার এবং দস্তক বা ছারপত্র প্রদান করে । কিন্তু কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যাক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই দস্তক ব্যাবহার শুরু করে, যার ফলস্বরুপ নবাব রাজত্ব থেকে বঞ্চিত হয় । দস্তক ব্যাবহার এবং শুল্ক দাবী করলে ইংরেজরা সিরাজের প্রতি খুদ্ধ হয় ।

৪) নারায়ণ দাসকে বহিষ্কার- কলকাতার ইংরেজদের এই নির্মাণে এবং কৃষ্ণদাসকে নবাবের হাতে ফেরত দেওয়া প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে সিরাজ তাঁর দূত নারায়ণ দাসকে ইংরেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠালে ইংরেজরা নারায়ণ দাসকে গুপ্তচর বলে অভিহিত করে এবং কলকাতা থেকে বহিষ্কার করেন এতে নারায়ণ দাস অপমানিত বোধ করেন ।

৫) সিরাজের বিরোধে ষড়যন্ত্র- সিরাজ বাংলার নবাবের সিংহাসনে বসার সময় থেকেই সিংহাসন লাভের বিরোধিতা করেন ও ঘসেটি বেগমের চার পুত্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় । গোপন সূত্রে সিরাজের কাছে এই ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ পেলে সিরাজ অত্যন্ত্য রাগান্নিত বোধ করেন ।

৬) সিরাজের কলকাতা আক্রমণ- সিরাজের নির্দেশ অমান্য করে কোম্পানি বাংলায় দূর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখায় সিরাজ খুদ্ধ হয়ে কলকাতায় অভিযান চালায় । কাশিম বাজারের কুটির দখল করার পর তিনি কলকাতায় পৌঁছান এবং সেনাপ্রধান, গভর্নর ড্রেক সেখান থেকে পালিয়ে যান । কলকাতা দখলের পর সিরাজ তাঁর নাম দেন আলিনগর ।

আরও পড়ুন-

মার্কেনটাইল মতবাদ বলতে কি বোঝ? এর বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা কর

গুপ্ত যুগের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য এবং শিল্পকলা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

আমাদের ওয়েবসাইট wbupdates.in একটি শিক্ষামূলক ব্লগ পোস্ট এখানে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয় । আপনারা চাইলে আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে পারেন সেখানে সমস্ত আপডেট এর নোটিফিকেশন পাওয়া যায় ।

Leave a Comment