প্রাচীন ভারতের দাসপ্রথা সম্পর্কে আলোচনা কর?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা প্রাচীন ভারতের দাসপ্রথা এই প্রশ্নের উত্তরটি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । “প্রাচীন ভারতের দাসপ্রথা সম্পর্কে আলোচনা কর” এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নের উত্তরটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

আমাদের ওয়েবসাইট একটি শিক্ষামূলক ব্লগ এবং এখানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরগুলি আলোচনা করা হয় ।

প্রাচীন ভারতের দাসপ্রথা

প্রাচীন ভারতের দাসপ্রথা সম্পর্কে আলোচনা কর?

অতি প্রাচীন কাল থেকেই পশ্চিম এশিয় এবং ভূমধ্যসাগরীয় কিছু দেশের সমাজব্যাবস্থায় দাসগণ মূর্খ চালিকাশক্তির এই ভূমিকা গ্রহণ করেছিল । ইতিহাসের এই সময়টিকে মার্ক্সবাদী ঐতিহাসিকগণ ‘দাসত্বের যুগ’ নামে অভিহিত করেছেন । কিন্তু ভারতের ইতিহাসেও তা বিদ্যমান আছে ।

১) হরপ্পা সভ্যতার দাসব্যাবস্থা- হরপ্পার উন্নত পৌরব্যাবস্থা কে সচল রাখার জন্য পণ্য পরিবহণ শস্য মাড়াই প্রভৃতি শ্রম সাধ্য কাজে দাসরাই প্রধানভূমিকা নিয়েছিল । হরপ্পীয় নগরগুলিতে যেমন প্রাসাদের অস্তিত্ব ছিল তেমন কিছু ক্ষুদ্র ‘শ্রমিক ব্যারাক’ এর মতো বসতিরও ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে । যেগুলিকে অনেকেই দাসশ্রমিকের বসতি বলে মনে করেন ।

২) বৈদিক যুগের দাসব্যাবস্থা– বৈদিক যুগের দাসপ্রথার চিত্রটি পরিষ্কার নয় । ঋকবেদে বেশ কয়েকবার দাস শব্দটি উল্লেখ করা হলেও তাদের অবস্থান চিহ্নিত করা কঠিন । ঋকবেদে দাস বা দস্যু বলতে শত্রু জাতিকে বোঝানো হয়েছে । যারা ছিল কৃষ্ণ, চাপা নাকযুক্ত, লিঙ্গ পুজারি তবে ‘অজস্ত্র’ শিগ্নুস প্রভৃতি দাস উপজাতি ইংলিসি, ধুনি, সম্বর, প্রভৃতি দাস উপজাতি, প্রধানের উল্লেখ ও ঋকবেদে পাওয়া যায় । ঋকবেদে একটি সুক্তের রচয়িতা কবস, ঐলুস ছিলেন দাসীপুত্র, বৃহদ আরণ্যক এবং ছান্দগ্য উপনিষদত্র ও দাস এবং দাসী শব্দগুলি ব্যাবহার হয় । অপস্তম্ভ ও গৌতম ধর্মসূত্রে বলা হয়েছে দাসরা সাধারণত উচ্চবর্ণের পাদুকা বস্ত্রের ব্যাবহার করবে । দাসভোগ শব্দটি থেকে মনে হয় দাসদের সম্পত্তি ছিল । মহাকাব্যদ্বয় ও পুরাণগুলির আখ্যা অনুসারে অসংখ্যকর দাসদাসীর উল্ল্যেখ আছে । কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর ধৃতরাষ্ট্র পুত্রদের শ্রাদ্ধকাজে ব্রাহহ্মণদের প্রচুর দাসদাসী দক্ষিণা স্বরুপ দান করেছিল ।

৩) প্রাক মৌর্যযুগ ও মৌর্যযুগের দাসব্যাবস্থা- বেদত্তোর যুগে লোহার ব্যাবহার এর ফলে যে কৃষির উন্নতি ও বাণিজ্যের বিকাশ পরিলক্ষিত হয় তা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সরবরাহ অবিচ্ছন্ন রাখা হয়েছিল । সম্ভবত দাস প্রথাকে প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে । দেবরাজ চানানার মতে ‘ গোষ্ঠী শাসনতন্ত্রে দাসপ্রথা ছিল জন্মগত’ আবার অন্যদিকে বৌদ্ধ সাহিত্যে দাস প্রথার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় । যেমন ‘দীর্ঘনিকায়’ তে অজীবিক ধর্মের প্রবক্তা গোপালকে পলাতক দাস বলা হয়েছে । ত্রিপিটকে চার ধরণের দাসের উল্লেখ পাওয়া যায় যেমন অন্তজাতক ও ধনক্কীরত ।

মৌর্য আমলের সমসাময়িক বৌদ্ধ সাহিত্য উপাদান কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে দাসব্যাবস্থার উল্ল্যেখ আছে । এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার বলেছেন ধ্রুপদী গ্রিসের দাসদের অবস্থা ছিল অনেক ভালো তাই হয়তো মেগানিস্থিনিস দাসদের অস্তিত্ব লক্ষ্য করেনি । কৌটিল্য ও নয়প্রকার দাসদের কথা উল্লেখ করেছেন । অশোকের একাধিক প্রস্তর অনুশাসন এবং সপ্তম স্তম্ভ অনুশাসনে ও দাস এবং ভৃত্যের প্রতি দয়া প্রদর্শনের নির্দেশ রয়েছে া

মৌর্য যুগে দাস ব্যাবস্থা সম্পর্কে আমাদের মুখ্য উপাদান ধর্মশাস্ত্র ও স্মৃতিশাস্ত্র । প্রাচীন স্ম্রিতিকার মনু দাসদের ৭ টি শ্রেণিতে ভাগ করে কপালা, জার সঙ্গে কৌটিল্য নির্দেশিত দাসদের যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে । তিনি দাসদের সম্পত্তি অধিকার ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সাক্ষ্যদানের অধিকার নির্দিষ্ট করেছেন । সামসাময়িক বিভিন্ন সাহিত্য দাসদের পরিবারের কথা, দাসদের প্রতি দুরব্যাবহার করা হত না । প্রয়োজনের রাজা ও দাসদের রক্ষা করতেন ।

৪) গুপ্ত কালের দাসব্যাবস্থা- গুপ্ত ও গুপ্তত্তোরকালে স্ম্রিতিকার দের মধ্যে নারদ, কাত্যায়ন, বৃহস্পতি প্রমুখ দাসপ্রথা সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন । নারদ ১৫ ধরণের দাসের উল্লেখ করেছেন এবং তিনি দাসমুক্তির বিভিন্ন উপায়ও নির্দেশ দিয়েছেন । এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে নারদ দাসমুক্তির একটি অনুষ্ঠানের উল্লেখ করেছেন । প্রভু তার দাসের কাছ থেকে একটি জলপূর্ণ মৃত্তিকা কলস গ্রহণ করে সেটিকে পূর্ণ করবেন এবং পূর্ব দিকে মুখ করে পুষ্প মিশ্রিত সেই জল দাসদের মাথায় ছিটিয়ে দিয়ে তিন বার উচ্চারন করবেন ‘তুমি আর দাস নও’ এভাবে একজন করে দাস মুক্ত হবে ।

আরও পড়ুন

আরবদের সিন্ধু অভিযানের কারণ

গুপ্তযুগের ভূমিব্যাবস্থা কেমন ছিল?

মুদ্রা থেকে আমরা আদি মধ্যযুগ সম্পর্কে কি জানতে পারি

Leave a Comment