প্রার্থনা সমাজ টিকা? প্রার্থনা সমাজের আদর্শ, লক্ষ্য ও কার্যাবলী

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা প্রার্থনা সমাজ কি এবং প্রার্থনা সমাজের আদর্শ, লক্ষ্য ও কার্যাবলী এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । মাধ্যমিক এর এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই প্রশ্নটি পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

প্রার্থনা সমাজের আদর্শ, লক্ষ্য ও কার্যাবলী

প্রার্থনা সমাজ কি

ব্রাহ্মসমাজের নেতা কেশবচন্দ্র সেন এর আদেশে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ডঃ আত্মারাম পান্ডুরঙ্গ মহারাষ্ট্রে প্রার্থনা সমাজের প্রতিষ্ঠা করেন । ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে আত্মারাম পান্ডুরঙ্গ মহারাষ্ট্রে চলে গেলে তিনি প্রার্থনা সমাজকে আরও শক্তিশালী করে তোলে । ব্রাহ্মণ সমাজের মতো প্রার্থনা সমাজের সদস্যগণ নিজেদের শিক্ষাবিস্তার ও সমাজসংস্কার কাজে নিজেদের নিযুক্ত রাখতেন । পরবর্তীকালে ঐতিহাসিক রামকৃষ্ণ ভাণ্ডারকর এবং বিচারপতি মহাদেব গোবিন্দ রানাডে প্রার্থনা সমাজে যোগ দেন এবং এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে তোলেন ।

প্রার্থনা সমাজের আদর্শ

১) প্রার্থনা সমাজ পাশ্চাত্য আদর্শ ও ভাবধারায় প্রভাবিত হলেও এই প্রতিষ্ঠানটি সনাতন হিন্দু সংস্কৃতি ও রীতিনীতি মেনে কাজ করত ।

২) এর সদস্যরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন ।

৩) প্রার্থনা সমাজ বেদকে অভ্রান্ত বলে মনে করতেন ।

৪) মানবজাতির ভ্রাতৃত্বের সপক্ষে এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতার নীতিতে আস্থাশীল ছিল ।

প্রার্থনা সমাজের লক্ষ্য

কেশবচন্দ্র সেনের পৃষ্টপোষকতায় ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রার্থনা সমাজের প্রতিষ্ঠা হয় । মহাদেব গোবিন্দ রানাডে এবং রামকৃষ্ণ গোপাল ভাণ্ডারকর প্রার্থনা সমাজের দুই প্রাণপুরুষ ছিলেন । হিন্দু ধর্ম ও সমাজ থেকে ধর্ম ও সমাজের সংস্কার এবং জাতিভেদ প্রথা, কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, অস্পৃশ্যতা প্রভৃতি দূর করায় ছিল প্রার্থনা সমাজের মূল লক্ষ্য ।

প্রার্থনা সমাজের কার্যাবলী

জাতিভেদ প্রথার অবসান এবং পুরোহিতদের প্রাধান্য খর্ব করা এছাড়া বিধবাবিবাহ প্রচলন, স্ত্রীশিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ রোধ, পর্দাপ্রথার অবসান ঘটানো প্রভৃতি সংস্কারমূলক কাজে প্রার্থনা সমাজ এগিয়ে এসেছিল । প্রার্থনা সমাজের সদস্যদের মূল লক্ষ্য ছিল জন্মান্তরবাদ ও পৌত্তলিকতাবাদ এর অসারতা প্রসারের পাশাপাশি বিভিন্ন কুসংস্কার সমাজ থেকে বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মকে পুনঃজীবিত করা

মহাদেব গোবিন্দ রানাডে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে পুনাতে সার্বজনিক সভা গঠন করেন । জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা তেও তিনি প্রেরণা জাগিয়ে ছিলেন ।

মহারাষ্ট্রের পুনা শহরে তিনি একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন । এছাড়া তিনি কোন সরকারী সাহায্য ছাড়ায় পুনাতে ফারগুসন কলেজ এবং সাংলাতে উইলিংডন কলেজ ও অনেক ছোট ছোট স্কুল তৈরি করেন । মহাদেব গোবিন্দ রানাডে কে প্রার্থনা সমাজের প্রাণপুরুষ বলা হয় ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর

১) প্রার্থনা সমাজ কে কবে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর- কেশবচন্দ্র সেনের আদেশে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ডঃ আত্মারাম পান্দুরঙ্গ প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন

২) প্রার্থনা সমাজ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর- প্রার্থনা সমাজ মহারাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয় ।

৩) প্রার্থনা সমাজের একজন নেতার নাম?

উত্তর- প্রার্থনা সমাজের একজন নেতা হল মহাদেব গোবিন্দ রানাডে ।

আরও পড়ুন-

সামন্ততন্ত্র বলতে কি বোঝ? সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রকৃতি আলোচনা কর?

Leave a Comment