দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলার দুর্ভিক্ষের কারণ গুলি কি কি?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকের এই পোস্টে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলার দুর্ভিক্ষের কারণ গুলি কি কি ছিল তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । ইতিহাসের এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং খাতায় লিখে রাখুন ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলার দুর্ভিক্ষের কারণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার এর তীব্র অর্থনৈতিক শোষণ অবিভক্ত বাংলায় ১৯৪৩ সালে এক চরম দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করে । ১৯৪৩ সালের শুরুর দিকে এই দুর্ভিক্ষ শুরু হলেও সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক নাগাদ এই বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করে । প্রায়ই এক বছর ধরে চলা এই দুর্ভিক্ষ বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করে । অনাহারে ও অপুষ্টিতে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয় । ১৩৫০ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বলে অনেকেই একে ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ বলা হয় ।

১৯৪৩ সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষের কারণ

১৯৪৩ সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষের কারণগুলি হল-

১) খাদ্য উৎপাদন হ্রাস- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে ব্যাপক ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলস্রোতের কারণে বাংলাতে আমন ধান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এবং তার সাথে সাথে প্রচুর গবাদি পশু ও মারা যায় । যার ফলে মানুষ সঞ্চিত খাদ্য শস্যের ওপর নির্ভর করেই মানুষ বেঁচে থাকে , কিন্তু সঞ্চিত খাদ্য শস্যও ক্রমে শেষ হয়ে গেলে চরম খাদ্য সংকট দেখা যায় ।

২) খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের প্রবল বন্যা ও জলস্রোতের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলি ভেঙে যায় যার ফলে যোগাযোগ ব্যাবস্থা পুরোপুরি ব্যাহত হয় । যোগাযোগ ব্যাবস্থা ঠিক না থাক্র ফলে খাদ্য সরবরাহ তেও সংকট দেখা দেয় ।

৩) বানিজ্যে গণ্ডি প্রথা- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে গণ্ডি প্রথা চালু করে এই প্রথা অনুসারে কোন রাজ্য আলাদা কোন রাজ্য থেকে খাদ্য আমদানি করতে পারবে না, যার ফলে বাংলা অন্য কোন রাজ্য থেকে খাদ্যদ্রব্য আমদানি করতে পারেনি । ১৯৪৩ সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষের এটি একটি খুবই বড় কারণ ।

৪) জাপান আক্রমণের আশঙ্কা- জাপান কর্তৃক বার্মা দখল করলে ব্রিটিশ সরকার আশঙ্কা করেছিল যে জাপান বার্মা হয়ে ভারতে সামরিক অভিযান চালাতে পারে, এই আশঙ্কার কারণে ব্রিটিশ সরকার বার্মার নিকটবর্তী চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে আসার সময় সেখানকার নৌকা, গড়ুর গাড়ি, মোটর যান প্রভৃতি ভেঙ্গে দেয় । যার কারণে বাংলার সীমান্তে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে ।

৫) চার্চিলের ভূমিকা- বাংলার ১৯৪৩ সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষের পেছনে উইনস্টন চার্চিল অনেকখানি দায়ী ছিলেন । বাংলার চরম খাদ্য সংকট এর সময় আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া জাহাজ মারফত খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে চাইলে চার্চিল জাহাজ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দেয় ।

৬) সেনাদের জন্য খাদ্য সরবরাহ- বাংলাতে চরম খাদ্যসংকট থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের সময় ভারত থেকে প্রচুর খাদ্যশস্য বাংলার বাইরে রপ্তানি করে যার ফলে বহু খাদ্যের অপচয় হয় । যার ফলে গভীর খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হয় ।

৭) সরকারের অবহেলা- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ফজলুল হক খাদ্য সংকট বিষয়ে সরকারকে অভিযোগ জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি ।

৮) চালের মজুতদারি- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান আক্রমণ এর ভয়ে সেনাবাহিনীর জন্য আগে থেকেই প্রচুর চাল মজুত ওরে রাখা হয় । বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রায় ৯০ হাজার টন চাল পচে যাওয়ায় ফেলে দিতে হয় । চালের ঘাটতি দেখে অনেক ব্যাবসায়ী ও চাল মজুত করে রাখে এবং পড়ে তা অনেক বেশী দামে বিক্রি করে ।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এর মতে ১৯৪১ সালে যখন দুর্ভিক্ষ ছিল না তখনকার তুলনাই ১৯৪৩ সালে অনেক বেশী বাংলায় খাদ্যের জোগান ছিল । কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির কারণে একশ্রেণীর মানুষ অনেক বেশী চাল মজুত করে রেখে নেয়, যার কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয় ।

আরও পড়ুন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর?

‘আফ্রিকা কাড়াকাড়ি’ বলতে কি বোঝ?

উপনিবেশবাদ বলতে কী বােঝ? উপনিবেশবাদের ধ্বংসের কারণ কি?

আজকের এই পোস্টে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলার দুর্ভিক্ষের কারণ কি কি ছিল তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করেছি । আশা করি পোস্ট টি তোমাদের ভালো লেগেছে এবং যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে পোস্ট টি বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন । আমাদের ওয়েবসাইটে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তরগুলি আলোচনা করা হয় ।

Leave a Comment