ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য গুলি কি কি ?

1757 খ্রিস্টাব্দে পলাশী যুদ্ধের পর থেকে ভারতে ব্রিটিশ শক্তির প্রসার ঘটতে থাকে। ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব। এই সময় মোটামুটি সচ্ছল আর্থিক অবস্থা সম্পন্ন ও আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে তাকে সাধারণভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বলা হয়।

ব্রিটিশ শাসনকালে পাশ্চত্য শিক্ষার প্রসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল ছিল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান। মধ্যবিত্তদের মধ্যে বাংলার গন্ধবণিক, মাদ্রাজের চেট্টি, গুজরাটের হিন্দু বণিক, কেরলের মােপলা, রাজস্থানের মাড়ােয়ারি প্রভৃতি বণিক সম্প্রদায়গুলি ছিল খুবই ধনী।

ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য গুলি কি কি

ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির লক্ষ্য

সরকারি অফিসের কর্মী :
ভারতে ব্রিটিশদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে এ দেশের সরকারি স্কুল, কলেজ, আদালত, হাসপাতাল প্রভৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মে নিযুক্ত ভারতীয় মানুষ মধ্যবিত্ত নামে পরিচিত।

করণিক:
ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ধারাবাহিক প্রচারের ফলে এক বিরাট প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এই প্রশাসনের কাজ কর্মের জন্য উচ্চপদ গুলিতে ইংরেজি রান্নাঘরে ও নিম্নস্তরের পদগুলিতে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতীয়দের নিয়োগ করা হয় । এইসব মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

সামরিক বিভাগের কর্মী :
ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উন্নতির জন্য ব্রিটিশ সরকার বিশাল সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছিল। সামরিক বিভাগের নিম্ন পদগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ভারতীয়দের নিয়োগ করা হতো। এই সামরিক কর্মীরা মধ্যবিত্ত ভারতীয় নামে পরিচিত।

রাজনৈতিক উচ্চাকাক্ষা:

পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা প্রথমদিকে ভারতে ব্রিটিশ শাসনকে স্বাগত জানালেও কিছুকাল পর তারা ভারতীয়দের রাজনৈতিক অধিকার অর্জনে সরব হয়। তারা ব্রিটিশ ভারতের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের দাবি জানায়। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার ১৮৬১ ও ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত আইনে ভারতীয়দের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি খুব বেশি নজর না দেওয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্ষুব্ধ হয়।

ভূমিকেন্দ্রিক পেশা:

১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করলে বহু মধ্যবিত্ত অকৃষি জমিকে কৃষিজমিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়। কৃষিপণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির ফলে এই মধ্যবিত্তদের কাছে জমিদারি পরিচালনা একটি লাভজনক ব্যাবসায় পরিণত হয়। শহুরে বাঙালি চাকরিজীবী ও অন্যান্য ধনী মধ্যবিত্তদের কেউ কেউ নিলামে জমি কিনে লাভজনক ব্যাবসায় প্রবেশ করতে থাকে।

শহর কেন্দ্রিকতা :
কোম্পানির শাসনকালে ভারতে বহু নতুন শহর প্রতিষ্ঠা হয়। এছাড়াও সরকারি অফিস-আদালত বিচারপতি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বদের বাসভবন রাস্তাঘাট প্রভৃতি গড়ে ওঠে। এই শহরগুলি কে কেন্দ্র প্রাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে এবং মধ্যশ্রেণী এই শিক্ষার সুযোগ পায়।

বাণিজ্যের কাজে যুক্ত কর্মী :
ইংরেজরা ভারতে এসেছিল মূলত বাণিজ্য করতে। বাণিজ্যের প্রসার ঘটার ফলে এই বিশাল আকার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রচুর কর্মচারীর প্রয়োজন হয়। ব্রিটিশ বণিকদের তাদের বাণিজ্যিক কাজকর্ম শেখানোর জন্য শিক্ষিত ভারতীয়দের নিয়োগ করত। এই ভারতীয়রা মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

আরও পড়ুন –

পলাশির যুদ্ধ কবে হয় ?

পলাশির যুদ্ধ হয় ১৭৫৭ সালে ।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কবে চালু হয় ?

১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করে ।

Leave a Comment