ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার সূচনা ও প্রসার সম্পর্কে লেখ?

হ্যালো, আজকের এই পোস্টে আমরা ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার সূচনা ও প্রসার এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । উচ্চমাধ্যমিক এর এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তেই প্রশ্নের উত্তরটি মন দিয়ে পড়ুন এবং খাতায় লিখে রাখুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা ঠান্ডা যুদ্ধের কারণ ও পটভূমি আলোচনা কর এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার সূচনা ও প্রসার সম্পর্কে লেখ

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার সূচনা ও প্রসার

ইংরেজ শাসনের সূচনা পর্বে ভারতবর্ষে প্রাচ্য শিক্ষা বা দেশীয় শিক্ষা ব্যাবস্থা প্রচলিত ছিল । হিন্দু মুসলিম ভারতবাসী পাঠশালা, মাদ্রাসায় আরবি, ফরাসী ও সংস্কৃতের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করত । পরবর্তীকালে ইংরেজ সহযোগী মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগী হন । প্রাথমিক অবস্থায় ইংরেজরা প্রদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষায় আগ্রহী ছিল না । কারণ, তাদের ধারণা ছিল ভারতীয়দের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠবে এবং ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটবে তবে এই ধারণার পরিবর্তন ঘটতে থাকবে ।

১) পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রচলন- চার্লস গ্র্যান্ড নামে কোম্পানির এক অবসরপ্রাপ্ত করমচারি এদেশে সর্বপ্রথম একটি সুসংবদ্ধ শিক্ষা ব্যাবস্থার দাবী জানান । ইংরেজদের রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সরকারী অফিস, আদালত, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এর অধীনে কর্মরত ভারতীয়দের ইংরেজি প্রয়োজন ছিল । তার উদ্দ্যেশে মধ্যবিত্ত বাঙালি পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে । কলকাতায় বেশকিছু ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । যেমন- মেলবোর্নে মার্টিন, ডেভিড প্রমুখ প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় ।

২) মিশনারীদের উদ্যোগ- ভারতীয়দের ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে মিশনারীদের ভূমিকা ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ । খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশে তারা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে থাকেন । 1800 খ্রীঃ মার্শম্যান ও উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠা করেন । তাদের ওপর বাংলা ও অপরাপর ২৬ টি ভাষায় বাইবেলের অনুবাদ, মুদ্রন যন্ত্রের প্রবর্তন ও প্রথম বাংলার সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ প্রকাশিত হয় ।

৩) অন্যান্য মিশনারীদের উদ্দ্যেগ- শ্রীরামপুর মিশনারী ছাড়াও আরও কয়েকটি মিশনারীর উদ্দ্যগে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । রবার্ট কে এর উদ্যোগে চুঁচুড়ায় লন্ডন মিশনারী সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার উদ্যোগে ইংরেজি শিক্ষার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । স্বাধীন মিশনারী আলেকজান্ডার ডাফ প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন’ । এছাড়াও মিশনারিদের উদ্যোগে শিবপুরে বিশপ কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ।

৪) ব্যাক্তিগত উদ্যোগ- ভারতীয় ও বিদেশীদের ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – রাজা রামমোহন রায়ের আমলের হিন্দু স্কুল, ডেভিড হেয়ারের আমলে হিন্দু কলেজ এবং ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি ।

৫) সরকারী উদ্যোগ- ব্রিটিশ সরকারের কয়েকটি ঘোষণা পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটান । ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইন ভারতে প্রতিবছর শিক্ষার জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেন । যার জন্য জনশিক্ষা কমিটি গঠিত হয় । পরবর্তীকালে বেন্টিঙ্কের আইন সচিব ম্যাকলে, ম্যাকলে মিনিট প্রকাশিত করেন । ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে এই কমিটির দ্বারাই ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারী নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং বলা হয় উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তৃত হলে তা স্বাভাবিকভাবেই নিম্নশ্রেণীর মধ্যে দাঁড়িয়ে পড়বে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদী দের মতে এই শিক্ষা বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব বাঁধে ।

৬) উডের প্রতিবেদন- ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অব রেভেনিউ এর সভাপতিত্বে চার্লস উড তার নির্দেশনামা প্রকাশ করে । এই নির্দেশনামায় ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক ভারতের শিক্ষা ব্যাবস্থা গড়ে ওঠে যার জন্য তা পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ম্যাগমা কাঁটা নামে পরিচিত ।

লর্ড ডালহৌসি প্রত্যেক প্রদেশ ও শিক্ষা দপ্তর স্থাপন করলে পাশ্চাত্য শিক্ষা দ্রুতগতিতে বিস্তার ঘটে । কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । ইংরেজি শিক্ষার সংস্পর্শে এসে ভারতবাসী পাশ্চাত্য যোগ্যতা, জ্ঞানবিজ্ঞান, জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র, স্বাধীনতা আদর্শের সাথে পরিচিত হয় । জীবনের সর্বক্ষেত্রেই নবচেতনার সঞ্চার করে ।

আরও পড়ুন-

বাবর কি মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন

বক্সারের যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল এবং গুরুত্ব

চিনের ওপর আরোপিত বিভিন্ন অসম চুক্তি গুলি বিবরণ দাও?

Leave a Comment