ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা কি ছিল তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বার বার ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা

এর আগের পোস্ট এ আমরা ত্রিশক্তি সংগ্রাম কি? কারণ ও ফলাফল তা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম ।

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে খ্রিস্টান মিশনারীদের বিশেষ ভূমিকা ছিল ।

১) খ্রিস্টান মিশনারি উইলিয়াম কেরি ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড এর সহয়তায় একটি ইংরেজি বিদ্যালয় ও ছাপাখানা চালানোর কাজে উদ্যোগ দেন ।

২) স্কটিশ মিশনারী আলেকজান্ডার ডাফ এদেশে ইংরাজি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । তার প্রতিষ্ঠিত জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউসন প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীকালে স্কটিশ চার্চ কলেজ নামে পরিচিত হয়েছে ।

৩) খ্রিস্টান মিশনারীদের প্রচেষ্টায় হাওড়ার শিবপুরে গড়ে উঠেছিল বিশপ কলেজ, বোম্বাই এ উইলসন কলেজ প্রভৃতি ।

৪) শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন এবং মিশনারী সোসাইটি গুলির উদ্যোগে ভারতে বহু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের উদ্দ্যেশ্য

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের প্রধান উদ্দ্যেশ্য ছিল বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করা ।

ফারসি বা আরবি ভাষায় শিক্ষিত ভারতীয়দের দ্বারা কোম্পানির সরকারি দপ্তর পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না । সাধারণ কেরানিদেরও ইংল্যান্ড থেকে আনতে হচ্ছিল । তাই কোম্পানির কর্তৃপক্ষ অনুভব করে এদেশে ইংরেজি শিক্ষিত কিছু কেরানি তৈরি করলে তাদের খুবই সুবিধা হবে ।

ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণী পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠলে ব্রিটিশ প্রশাসন তাদেরও ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রশাসনিক কাজে লাগাতে চেয়েছিল । এই সব কারণের জন্যই ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষে ইংরেজি শিক্ষার প্রবর্তন করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে ।

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব

ভারতীয় সমাজের ওপর পাশ্চাত্য শিক্ষার সুগভীর প্রভাব পড়েছিল –

১) ইংরেজী কলেজ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা– পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের উদ্দ্যেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু কলেজ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় । ব্যাপটিস্ট মিশনারীদের প্রচেষ্টায় ‘ব্যাপটিস্ট মিশন’ আলেকজান্ডার ডাফ এর প্রচেষ্টায় জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় । সরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ৭৯ টি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় এবং কলকাতা, মুম্বাই, মাদ্রাজে গড়ে তোলা হয় চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ।

২) স্ত্রী শিক্ষার প্রসার- পাশ্চাত্য শিক্ষায় প্রভাবিত হয়ে নারীশিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন শ্রীমতী কুক ও লন্ডনের চার্চ মিশনারি সোসাইটি এবং লেডিজ সোসাইটি ফর নেটিভ ফিমেল এডুকেশন । বেথুনের উদ্যোগে ও বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ ।

আরও পড়ুন-

ত্রিশক্তি সংগ্রাম কি? কারণ ও ফলাফল

অস্ত্র আইন কী? অস্ত্র আইন কবে পাশ হয়?

স্বদেশী আন্দোলনের কারণ ও ফলাফল

Leave a Comment