ভৌমজলের কার্য ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ- দ্বাদশ শ্রেণী দ্বিতীয় অধ্যায়

নমস্কার বন্ধুরা আজকে আমরা ভৌমজলের কার্য ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ অধ্যায়ের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন ও বড় প্রশ্ন গুলি কে আলোচনা করছি । এটি দ্বাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় অধ্যায়

ভৌমজল কি ?

ভূ-অভ্যন্তরে কিংবা মৃত্তিকা, রেগােলিথ এবং শিলারন্প্রে যে জল অবস্থান করে, তাকে ভৌমজল বলে। ভৌমজলের প্রধান উৎস হল বৃষ্টি ও তুষারগলা জল। বৃষ্টিপাত ও তুষারগলা জলের সামান্য অংশ পৃথিবীর অভিকর্ষজ টানে মাটির মধ্য দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরে অপ্রবেশ্য স্তর পর্যন্ত পৌঁছায় এবং অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের ওপরে মৃত্তিকা ও শিলারন্ধকে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত করে রাখে।

ভৌমজলের বিভিন্ন উৎস গুলি কি কি ?

ভৌমজলের বিভিন্ন উৎস গুলি হল – বর্ষার জল, তুষার গলা জল, পাললিক শিলায় আবদ্ধ সমুদ্র ও হ্রদের জল ইত্যাদি ।

আবহিক জল – আবহিক জল রূপে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত ভৌম জলের প্রধান উৎস ।

মহাসাগরীয় জল – অনেক সময় সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের জল শিলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে মহাসাগরীয় জল রূপে ভূ-অভ্যন্তরে ভৌম জলের সৃষ্টি করে ।

সহজাত জল – পাললিক শিলায় আবদ্ধ সহজাত জল হল ভৌম জলের আরেকটি উৎস

উৎস্পন্দ জল – ম্যাগমার মধ্যে সঞ্চিত উত্তপ্ত ও খনিজ সমৃদ্ধ জল ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এসে
উৎস্পন্দ জল রূপে ভৌম জলের ভাণ্ডার পরিপূর্ণ করে ।

সিঙ্কহোল কাকে বলে ?

চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে জলের দ্রবণ কার্যের ফলে যে গোলাকার অসংখ্য ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে সিঙ্কহোল বলে।

ক্লিন্টস কি ?

দ্রবন কার্যের ফলে চুনাপাথরের সন্ধিস্থল বরাবর গভীর রৈখিক ও দীর্ঘ গর্ত সৃষ্টি হলে, তাকে গ্রাইকস বলে আবার দুটি গ্রাইকসের মধ্যবর্তী প্রায় সমতল পৃষ্ট বিশিষ্ট আয়তাকার উঁচু শিলাখন্ডকে ক্লিন্টস বলে।

টেরারোসা কি ?

টেরারোসা শব্দের অর্থ হল লাল বর্ণের মৃত্তিকা। সাধারণত মৃদু ঢাল যুক্ত চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে কার্বনিক অ্যাসিড মিশ্রিত জলে বিশুদ্ধ চুনাপাথর দ্রবীভূত হলে অদ্রাব্য শুষ্ক লৌহের যৌগ ভূপৃষ্টের ওপরে পরে থেকে কালক্রমে আম্লিক লাল অবক্ষেপ্নের সৃষ্টি হয়। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে একে টেরারোসা বলা হয়।

ডুরিক্রাস্ট কি ?

উষ্ণ আর্দ্র ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে যেখানে বৃষ্টিপাতের ঋতুভিত্তিক বণ্টনে তারতম্য লক্ষ্য করা যায় সেখানে মৃত্তিকার উপরিভাগ থেকে ক্ষারীয় পদার্থ ও সিলিকা অপসারিত হয়ে লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের অক্সাইড যুক্ত যে লাল বর্ণের কঠিন ভূত্বক সৃষ্টি হয় তাকে ডুরিক্রাস্ট বলে।

ডুরিক্রাস্ট কোন মৃত্তিকায় দেখা যায়?

ডুরিক্রাস্ট ল্যাটেরাইট মৃত্তিকায় দেখা যায় ।

কারেন কি ?

চুনাপাথরগঠিত অঞ্চলে দ্রবণ খাতবিশিষ্ট কাস্ট ভূমিরূপকে জার্মানিতে কারেন বলে।

প্রবেশ্য শিলা কাকে বলে ?

যে সমস্ত শিলার মধ্য দিয়ে জল খুব সহজেই ভূগর্ভে প্রবেশ করে, তাকেই প্রবেশ্য শিলা বলে ।

ভারতের কোথায় উয় প্রস্রবণ দেখা যায় ?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বক্রেশ্বর, হিমাচল প্রদেশের তাতাপানি, ঝাড়খণ্ডের রাজগির, এবং বিপাশার উপনদী পার্বতীর পূর্ব তীরে মণিকরণে উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়।

রুফ পেনডেন্ট কী ?

চুনাপাথরের গুহার ছাদ থেকে কীলকের মতাে বা ছুরির ফলার মতাে আকৃতির অভিক্ষিপ্ত প্রস্তরখণ্ডকে রুফ পেনডেন্ট বলে।

ড্রিপস্টোন কাকে বলে ?

চুনাপাথরের ছাদ থেকে জল চুইয়ে সৃষ্ট সঞ্চিত ভূমিরূপকে ডেভিস ড্রিপস্টোন বলে উল্লেখ করেছেন।

ভৌমজলের প্রধান উৎস কী ?

ভৌমজলের প্রধান উৎস হল বৃষ্টিপাতের জল ও তুষারগলা জল ।

আর্টেজীয় কূপ কাকে বলে ?

আবদ্ধ জলবাহী স্তরে সঞ্চিত ভৌমজল পাম্পের সাহায্য ছাড়াই যে কূপ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফোয়ারার মতাে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে তাকে আর্টেজীয় বলে।

মিটিওরিক জল কাকে বলে ?

বৃষ্টিপাত ও তুষারগলা জল ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভৌমজলে পরিণত হয়, একে বলে মিটিওরিক জল।

স্থায়ী সম্পৃক্ত স্তর কাকে বলে ?

সবিরাম সম্পৃক্ত স্তরের নীচের স্তরটি সবসময় জলপূর্ণ অবস্থায় থাকে, একে সম্পৃক্ত স্তর বলে ।

সম্পৃক্ত স্তর কাকে বলে ?

মৃত্তিকা বা শিলাস্তরের ছিদ্র বা রগুলি যখন জলে পরিপূর্ণ হয় তখন তাকে সম্পৃক্ত স্তর বলে। এই সম্পৃক্ত স্তরেই ভৌমজল অবস্থান করে।

সহজাত জল কি ?

সমুদ্র বা হ্রদে সঞ্চিত পলিরাশি জমাট বেঁধে পাললিক শিলা সৃষ্টি হওয়ার সময় কখনো কখনো ওই পাললিক শিলাস্তরের মধ্যে কিছু পরিমাণ জল আবদ্ধ অবস্থায় থেকে যায়, একেই সহজাত জল বলে ।

রিমস্টোন কি ?

গুহাবক্ষে উপচেপড়া জলের দ্বারা গুহার দুই কিনারায় সৃষ্ট ভূমিরূপকে রিমস্টোন বলে ।

কার্স্ট শব্দের অর্থ কী ?

কার্স্ট শব্দের অর্থ উন্মুক্ত উদ্ভিদহীন প্রস্তরময় ভূমি ।

কার্স্ট ভূমিরূপ কোথায় দেখা যায় ?

কার্স্ট ভূমিরূপ দেখা যায় যুগােস্লাভিয়ার অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে ।

অসম্পৃক্ত স্তর কাকে বলে?

মৃত্তিকা বা শিলাস্তরের যে স্তরের মধ্য দিয়ে জল সহজেই নীচে চলে যায় অর্থাৎ যে স্তর জল ধরে রাখতে পারে না, তাকে অসম্পৃক্ত স্তর বলে।

আবহিক জল কি ?

বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত থেকে যে জল প্রবেশ্য শিলার মধ্য দিয়ে অনুস্রাবন প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভৌমজল রূপে সঞ্চিত হয়, তাকে আবহিক জল বলে।

মিটিওরিক জল কাকে বলে ?

ভূগর্ভে সঞ্চিত বৃষ্টির জল ও তুষার গলা জলকে একত্রে মিটিওরিক জল বলে। এই মিটিওরিক জলই হলো ভৌমজলের প্রধান উৎস।

সোয়ালো হোল কাকে বলে ?

কার্স্ট অঞ্চলে ভৌমজলের দ্রবন প্রক্রিয়ায় ক্ষয়কার্যের ফলে ভূপৃষ্ঠের উপর সৃষ্ট ছোট ছোট গর্তগুলিকে সোয়ালো হোল বলে

অ্যাকুইফার কাকে বলে ?

যে ভূতাত্মিক স্তরের মধ্যে দিয়ে জল পরিবাহিত, ক্ষরিত ও পরিপূরিত হয় তাকে অ্যাকুইফার বলে ।

আর্টেজীয় কূপ কোন ধরনের শিলাস্তরে দেখা যায় ?

আর্টেজীয় কূপ ভাঁজযুক্ত শিলাস্তরে দেখা যায় ।

অবিরাম প্রস্রবণ বলে কালে বলে ?

অসংখ্য প্রস্রবণ থেকে যখন ছোটো ছোটো জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়, তখন তাকে অবিরাম প্রস্নবন বলে ।

অ্যাকুইটার্ড কি ?

যে শিলাস্তর অপ্রবেশ্য হলেও খুব সামান্য পরিমাণ জল সঞ্চয় এবং ক্ষরণে সক্ষম তাকে, অ্যাকুইটার্ড বলে ।

ভারতের কোথায় অসংখ্য ডােলাইনের অবস্থান লক্ষ করা যায় ?

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ এর বােরা গুহা অঞ্চলে অসংখ্য ডােলাইনের অবস্থান লক্ষ করা যায়।

ড্রেপ কী ?

গুহার ছাদে চুন জমে জমে তা যখন ঝােলানাে পর্দার মতাে দেখতে লাগে, তাকে বলে ড্রেপ।

সলিউশন প্যান কাকে বলে ?

কার্স্ট ভূমিতে জলের দ্রবণ কার্যের ফলে এমন অনেক গর্ত সৃষ্টি হয় যেগুলি ডােলাইনের তুলনায় অগভীর, কিন্তু আয়তনে বিশাল হয়। এদের সলিউশন প্যান বলা হয়।

কার্স্ট জানালা কী ?

কাস্ট অঞ্চলে সুড়ঙ্গের ছাদ স্থানে স্থানে ধসে গিয়ে সেখান থেকে ভৌম নদী দেখা গেলে তাকে কাস্ট জানালা বলে।

টেরা রােসা কী ?

ভূপৃষ্ঠে অদ্রাব্য লৌহযৌগ সঞ্চিত হয়ে লাল কর্দমযুক্ত যে মৃত্তিকা সৃষ্টি হয়, তাকে টেরা রােসা বলে।

ভাদোস স্তরের সর্বনিম্ন অংশ কোনটি ?

ভাদোস স্তরের সর্বনিম্ন অংশ কৈশিক স্তর ।

আরও পড়ুন – নদী ও হিমবাহের কাজের পার্থক্য

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশুনা করার জন্য আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন

Leave a Comment