মহুয়ার দেশ কবিতার প্রশ্ন উত্তর MCQ & SAQ

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা উচ্চমাধ্যমিক এর মহুয়ার দেশ কবিতার প্রশ্ন উত্তর গুলি নীচে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । মহুয়ার দেশ কবিতাটি থেকে পরীক্ষাতে প্রায়ই প্রশ্ন ও উত্তর এসে থাকে , তাই তোমরা প্রশ্ন ও উত্তর গুলি ভালো করে পড়ে নাও ।

মহুয়ার দেশ কবিতার প্রশ্ন উত্তর MCQ & SAQ

মহুয়ার দেশ কবিতার প্রশ্ন উত্তর

মহুয়ার দেশ কবিতাটি কার লেখা

মহুয়ার দেশ কবিতাটি কবি সমর সেনের লেখা ।

মহুয়ার দেশ কবির কাছে কীভাবে উপলব্ধ হয়েছিল?

মেঘমদির মহুয়ার দেশ কবির কাছে নগরের ক্লান্তি থেকে মুক্তির আশ্রয় হিসেবে উপলদ্ধ হয়েছিল।

“অনেক, অনেক দূরে আছে…” -কী অনেক দূরে আছে?

‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় কবি সমর সেন বলেছেন মেঘমদির মহুয়ার দেশ অনেক দূরে আছে।

“এখানে অসহ্য, নিবিড় অন্ধকারে” -‘এখানে’ বলতে কোথাকার কথা বলা হয়েছে?

‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় কবি সমর সেন এখানে বলতে শহরজীবনের কথা বলেছেন ।

‘শিশির-ভেজা সবুজ সকালে’ কবি কী দেখেন?

‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় সমর সেন শিশির-ভেজা সবুজ সকালে কবি কয়লাখনির অবসন্ন শ্রমিকদের শরীরে ধুলাের কলঙ্ক দেখেন।

‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় কবি সমর সেন ‘মহুয়ার দেশ’ বলতে কোন্ স্থানকে বুঝিয়েছেন?

‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় ‘মহুয়ার দেশ’ বলতে কবি সাঁওতাল পরগনাকে বুঝিয়েছেন।

“এখানে অসহ্য, নিবিড় অন্ধকারে” -এখানে অন্ধকার নিবিড় ও অসহ্য কেন?

সমর সেনের ‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় অন্ধকার নিবিড় ও অসহ্য কারণ তা শহরজীবনের যানবাহনের আওয়াজ ও দূষণ ।

“মাঝে মাঝে শুনি” -বক্তা কখন কী শােনেন?

‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় বক্তা শহরের অসহ্য নিবিড় অন্ধকারে মাঝে মাঝে মহুয়া বনের ধারের কয়লাখনির গভীর, বিশাল শব্দ শােনেন।

“অবসন্ন মানুষের শরীরে দেখি” -কবি কী দেখেন?

কবি অবসন্ন মানুষের শরীরে ধুলাের কলঙ্ক দেখেন।

“ঘুমহীন তাদের চোখে হানা দেয়” -কাদের চোখে কী হানা দেয়?

কয়লাখনির অবসন্ন শ্রমজীবী মানুষদের চোখে ক্লান্ত ও দুঃস্বপ্ন হানা দেয়।

‘দেবদারুর দীর্ঘ রহস্য’ কোথায় ছায়া ফেলে?

কবি সমর সেন রচিত ‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় ‘দেবদারুর দীর্ঘ রহস্য’ সুদূর মহুয়ার দেশে পথের দুধারে ছায়া ফেলে।

বড় প্রশ্ন –

মহুয়ার দেশ কবিতায় কবি মহুয়ার দেশের যে চিত্র অঙ্কন করেছেন তা বর্ণনা করো।

কবি কল্পনা কাব্য রচনার অন্যতম বিষয়, কারণ কবির কল্পনা কোন কাব্যের আলংকারিক অর্থ দান করে, আর পাঠকের সেই কাব্য লোকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। আলোচ্য মহুয়ার দেশ কবিতাটিতে কবি সমর সেন ঠিক একই রকমভাবে আমাদের মহুয়ার দেশে নিয়ে গেছেন।

বস্তুতপক্ষে মহুয়ার দেশের চিত্র যে কবি কল্পনায় অন্য কোন বিচিত্র রূপ লাভ করেছে তা নয়, মহুয়ার দেশ তা যেন কবিতায় আপন মহিমায় আমাদের সামনে ফুটে উঠেছে। নগরকেন্দ্রিক যান্ত্রিক সভ্যতা থেকে কবি যেহেতু মুক্তি পেতে চেয়েছেন তাই তার মুক্তির অন্যতম স্থান হয়ে ধরা দিয়েছে তার কাব্য লোকের এই মহুয়ার দেশ টি।

সেই কারণে সাধারণভাবেই মহুয়ার দেশ কে তিনি কবিতাতে অসাধারণ ভাবে চিত্রিত করেছেন।

মহুয়ার দেশ এর শুরুতে তিনি বর্ণনা করেছেন সমস্ত রাস্তার দুধারে দীর্ঘ প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে থাকা দেবদারু গাছের দীর্ঘ রহস্য কে। যে রহস্যের জন্ম হয়েছে অরন্যের গভীরতা থেকে, যাকে তিনি নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা তে খুঁজে পাননি।

কিন্তু পরক্ষনেই কবি মহুয়ার দেশের এক ভিন্ন চিত্র এঁকেছেন ।যা নির্মম এবং ভয়ঙ্কর। মানুষের লোভ আর বর্বরতায় ধ্বংস হয়েছে তার অনাবিল সৌন্দর্য আর স্নিগ্ধতা। এখন সে দেশ “অসহ্য ,নিবিড় অন্ধকারে “আচ্ছন্ন। লোভী মানুষ সেখানে সন্ধান করেছে কয়লাখনি। বড় বড় যন্ত্র বসিয়ে শুরু হয়েছে কয়লা তোলার কাজ। মহুয়ার দেশ এর আকাশ বাতাস কম্পিত তারই গভীর বিশাল শব্দে ।সেখানে শিশির ভেজা সকাল আসে। কিন্তু ফিরে আসেনা প্রাণোচ্ছলতা। প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা আরণ্যক সন্তানরা আজ খনি শ্রমিক। সবুজ সকালেও তাদের চোখ নিদ্রাহীন। শরীর ধুলোর কলঙ্ক মাখা। জীবন দুঃস্বপ্ন গ্রস্ত। এভাবেই যন্ত্রসভ্যতার আঘাতেই মহুয়ার দেশ এর বিবর্তন এর চিত্র রূপটি ফুটে উঠেছে সমর সেনের “মহুয়ার দেশ” কবিতায়।

“ঘুমহীন তাদের চোখে হানা দেয় / কিসের ক্লান্ত দুঃস্বপ্ন।” – আলোচ্য লাইনটিতে কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের ঘুমহীন চোখে ক্লান্ত দুঃস্বপ্ন হানা দেয় কেন ?

উল্লিখিত লাইনটিতে তাদের বলতে কবি সমর সেন মহুয়ার দেশের কয়লা খনির শ্রমিকদের কথা বলেছেন।

কবি সমর সেন যখন যান্ত্রিক সভ্যতার কালো ধোঁয়ায় নিজেকে বিপন্ন বলে মনে করেছেন, ঠিক তখন তিনি তার ক্লান্ত জীবনকে খানিকটা স্নিগ্ধতা দেওয়ার জন্য যেতে চেয়েছেন অনেক দূরের মহুয়ার দেশে। তার কাছে মহুয়ার দেশ অনেকটা স্বপ্নের আবেশ এর মত বলে মনে হয়েছে।

যে স্বপ্নের মহুয়ার দেশে তিনি দীর্ঘ শাল আর দেবদারু গাছের নিচে মহুয়া ফুলের গন্ধে শরীরকে ক্লান্তি দিতে চান, সেখানে তিনি যেতে চাইছেন কারণ নাগরিক সভ্যতা কে তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না। নাগরিক সভ্যতায় শীতের রাতের স্বপ্ন গুলো যেন কবির কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

কবি যেন গভীর রাতে শুনতে পেয়েছেন সেই বহুদূরের মহুয়ার দেশের ক্লান্ত স্বপ্নগুলোর মাঝেও যেন কয়লাখনির গভীর শব্দ, যে শব্দ কবিকে আরো বেদনাময় করে তুলেছে। কারণ তিনি অনুভব করেছেন যান্ত্রিক সভ্যতা শুধু নগরে নয় ধীরে ধীরে সেখানেও পৌঁছে গিয়ে শান্ত সভ্যতাকে গ্রাস করতে শুরু করেছে।

মহুয়ার দেশের এই বিপন্ন অবস্থা তে কবি অনুভব করেছেন শিশির ভেজা সবুজ সকালে মহুয়ার দেশের মানুষদের অবসন্ন শরীরে যেন লেগে আছে ধুলোর কলঙ্ক। তাদের বাস্তব জীবনের স্বপ্ন গুলো যেন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত। যন্ত্র সভ্যতার যে আবাহন তা যেন তাদের ঘুমহীন চোখে দুঃস্বপ্ন এঁকে দিয়েছে।

আরও পড়ুন –

বিভক্তি কাকে বলে? বিভক্তি কয় প্রকার ও কি কি?

শিকার কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর MCQ & SAQ ক্লাস 12

ধ্বনি কাকে বলে? ধ্বনি কয় প্রকার ও কি কি?

নানা রঙের দিন নাটকে কালীনাথ চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো

নানা রঙের দিন নাটক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ & SAQ) ছোট ও বড়

বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়াে প্রশ্ন উত্তর (একাদশ শ্রেণী)

Leave a Comment