মার্কেনটাইল মতবাদ বলতে কি বোঝ? এর বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা কর

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা মার্কেনটাইল মতবাদ বলতে কি বোঝ এবং মার্কেনটাইল বাদের বৈশিষ্ট্য কি তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । উচ্চমাধ্যমিক এর এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল তা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম ।

মার্কেনটাইল মতবাদ বলতে কি বোঝ

মার্কেনটাইল মতবাদ বলতে কি বোঝ?

মার্কেনটাইল বাদ বা সংরক্ষণবাদী মতবাদটি হল একটি অর্থনৈতিক মতবাদ । এই অর্থনৈতিক মতবাদ কোন সুসংবদ্ধ তথ্য হিসেবে গড়ে ওঠেনি । প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ তাঁর ‘Wealth of Nation’ গ্রন্থে মার্কেনটাইল বাদ কথাটি প্রথম ব্যাবহার করেন । ভৌগলিক আবিষ্কারের পর ইউরোপীয় বণিকরা বিভিন্ন দেশে ব্যাবসার জন্য যাত্রা শুরু করলে এই মতবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । ঐতিহাসিক লর্ড অ্যাক্টন এর মতে মার্কেনটাইল বাদ ছিল আলোকিত স্বৈরতন্ত্রের অনুরুপ অর্থনৈতিক মতবাদ । এই মতবাদের মূল দিক ছিল দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং রাষ্ট্রের অধীনে আনা । এই অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের স্বার্থ, বণিকের স্বার্থ ও উৎপাদকের স্বার্থ অভিন্ন হয় । মার্কেনটাইল বাদের বৈশিষ্ট্য গুলি হল-

মার্কেনটাইল বাদের বৈশিষ্ট্য

১) কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়- মার্কেনটাইল বাদে বিশ্বাসী দেশগুলি কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট থাকে ।

২) কৃষি অর্থনীতি- মার্কেনটাইল বাদেরা বিশ্বাস করত যে দেশের বাইরে খাদ্য শস্য রপ্তানি করলে খাদ্য সংকট দেখা দিবে এজন্য সরকার দেশের খাদ্য শস্য দেশের বাইরে রপ্তানি নিসিদ্ধ করে, যার পরিণাম স্বরুপ দেশের কৃষকশ্রেণী এই মতবাদের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ।

৩) অবাধ বাণিজ্য বিরোধিতা– মার্কেনটাইল বাদের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল অবাধ বাণিজ্যের বিরোধিতা । তারা মনে করতেন যে অন্য দেশের স্বার্থ শূন্য করে সব দেশের সমৃদ্ধি সাধন সম্ভব । জাতীয় অর্থনীতির অবনমন বোধে সরকারী হস্তক্ষেপ কে তারা অত্যাবশীয় প্রয়োজন বলে মনে করতেন ।

৪) আমদানি হ্রাস ও রপ্তানি বৃদ্ধি- মার্কেনটাইল বাদের অপর বৈশিষ্ট্য আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি করা । এই মতবাদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল দেশীয় সম্পদের সদ ব্যাবহার করে রপ্তানি বাড়ানো এবং আমদানি কমানো ।

৫) সোনা ও রুপার ওপর গুরুত্ব- মার্কেনটাইল বাদ নীতি অনুসারে সোনা ও রুপা স্ফীতিতর করার ওপর জাতীয় সমৃদ্ধি নির্ভরশীল । যেসব দেশের এই ভাণ্ডার কম তাদের আমদানি বৃদ্ধি করতে হবে ।

৬) অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ- মার্কেনটাইলরা ছিলেন অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের সমর্থক । এই মতবাদ রাষ্ট্রের স্বার্থ, বণিক, উৎপাদকের স্বার্থ অভিন্ন বলে বিবেচনা করত ।

৭) ঔপনিবেশিক স্থাপনের জন্য লড়াই- মার্কেনটাইল বাদীরা ইউরোপীয় দেশগুলির কাঁচামাল সংগ্রহ ও শিল্পজাত পণ্য বিক্রির বাজার দখলের উদ্দেশ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করবে এই নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন ।

৮) একচেটিয়া বাণিজ্যের সমর্থ- মার্কেনটাইল বাদীরা যারা ছিল একচেটিয়া বাণিজ্যের প্রসারক তারা মনে করত সরকারী হস্তক্ষেপের দ্বারাই জাতীয় অর্থনীতি পরিচালিত হয় । আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, বিভিন্ন শিল্প দ্রব্যের ভর্তুকি এবং রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করার পক্ষপাতী ছিল । যার ফলাফল ছিল War for trade.

মার্কেনটাইল বাদের ত্রুটি

সাফল্য থাকলেও এই অর্থনৈতিক মতবাদ একেবারে ত্রুটিমুক্ত ছিল না । অ্যাডাম স্মিথ, মার্শাল, মরিশ প্রভৃতি ঐতিহাসিকগণ এই মতবাদের সমালোচনা করেছেন যেমন-

১) সঞ্চিত অর্থ যে শুধুমাত্র সম্পদের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করে তা নয়, তা পুনরায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় যা মার্কেনটাইল বাদে ছিল না ।

২) অবাধ বাণিজ্যের বিরোধীতা করায় এই নীতির কবলে পড়ে দেশীয় উন্নয়ন স্তব্দ হতে শুরু করে ।

৩) মার্কেনটাইল বাদ নীতি অনুসারে বৈদেশিক বাণিজ্য বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক গতি কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছিল ।

আরও পড়ুন-

অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ কি?

প্রার্থনা সমাজ টিকা? প্রার্থনা সমাজের আদর্শ, লক্ষ্য ও কার্যাবলী

সামন্ততন্ত্র বলতে কি বোঝ? সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

Leave a Comment