মিউনিখ চুক্তি কি – টিকা লেখ

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা মিউনিখ চুক্তি কি অথবা মিউনিখ চুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো । ইতিহাসের এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এই প্রশ্নটি এসে থেকে । তাই আর সময় নষ্ট না মিউনিখ চুক্তি সম্পর্কে জেনে নাও ।

মিউনিখ চুক্তি কি - টিকা লেখ

মিউনিখ চুক্তি

চেকোশ্লাভাকিয়ার জার্মান-অধ্যুষিত সুদেতান অঞ্চলকে জার্মানির অন্তরভুক্ত করার জন্য হিটলার চেক সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করালে বিরাট যুদ্ধের সমাবেশ দেখা দেয় । এই অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য সম্পাদিত হয় মিউনিখ চুক্তি । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের জার্মান তোষণ নীতির এক চরম প্রকাশ হল ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের মিউনিখ চুক্তি । ঐতিহাসিক ল্যাংসাম এর মতে “মিউনিখ চুক্তি ছিল জার্মান তোষণ নীতির এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ”

চুক্তি সম্পাদনা –

১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ শে সেপ্টেম্বর ইতালির মুসোলিনি, ফরাসী প্রধানমন্ত্রী দালাদিয়ের এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলেন জার্মানির মিউনিখে হিটলারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে স্বাক্ষর করেন মিউনিখ চুক্তি । চেম্বারলেন এই চুক্তি সম্পর্কে বলেন যে, ” এটা বিশ্বাস এটা আমাদের সময়কার শান্তিরক্ষক”

চুক্তির শর্ত –

মিউনিখ চুক্তিতে স্থির হয় –

১) ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১ থেকে ১০ অক্টোবর এর মধ্যে সুদেতান জেলা থেকে চেক সেনা ও চেক সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে ।

২) ব্রিটেন, ইতালি ও ফ্রান্স সুদেতান অঞ্চলের ও অবশিষ্ট চেকস্লাভিয়ার সীমানা স্থির করে দেবে ।

৩) উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে জার্মান বাহিনী ধাপে ধাপে সুদেতান অঞ্চলের দখল করে নেবে ।

৪) চার সপ্তাহের মধ্যে চেক সরকার সুদেতানের জার্মানদের চেক পুলিশ ও সেনাদল থেকে মুক্তি করে দিবে ।

৫) ব্রিটেন ও ফ্রান্স অবশিষ্ট চেকস্লাভিয়ার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করবে ।

হিটলারের মিউনিখ চুক্তি লঙ্ঘন

হিটলার মাত্র ছ মাসের মধ্যেই মিউনিখ চুক্তিকে তোয়াক্কা না করেই সমগ্র চেকস্লাভিকিয়া (১৯৩৯খ্রিঃ) অধিকার করে নেয় । এরপর হিটলার পোল্যান্ড এর ডানজিগ বন্দর দাবি করলে পোল্যান্ড এই দাবি অগ্রাহ্য করে যার ফল স্বরুপ হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করেন ।

মিউনিখ চুক্তির গুরুত্ব

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে মিউনিখ চুক্তির গুরুত্ব অনেক বেশী ছিল –

১) এই যুদ্ধের ফলে হিটলারের কূটনৈতিক জয় হয়েছিল, এই চুক্তিতে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স হিটলারের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ নীতিকে বাধা না দিয়ে মেনে নিয়েছিল ।

২) অস্ট্রিয়া সংলগ্ন সুদেতান অঞ্চলগুলিকে দখল করে প্রাকৃতিক সম্পদ ও উৎপাদক সংস্থাগুলিকে কাজে লাগিয়ে জার্মানি তার অর্থনৈতিক ভীত মজবুত করে তুলেছিল ।

৩) মিউনিখ চুক্তিতে ইঙ্গ – ফরাসী তোষণনীতি জার্মানির রাজ্যক্ষুধাকে বাড়িয়ে দিয়ে পৃথিবীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে আরও ঠেলে দেয় ।

আরও পড়ুন –

স্বাধীন ভারতের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা -(১৯৫১-১৯৫৬ খ্রিঃ)

ইউরােপের ধর্মসংস্কার আন্দোলনে মার্টিন লুথারের অবদান

ক্যান্টন বাণিজ্য কি? ক্যান্টন বাণিজ্যের অবসানের কারণ কি?

Leave a Comment