মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় কেন?

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় কেন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । মাধ্যমিক এর ভূগোল এর এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই প্রশ্নের উত্তরটি মন দিয়ে পড়ুন ।

মিশরকে নীলনদের দান

মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় কেন?

মরুভূমির দেশ মিশর সাহারা মরুভূমির পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত । নীলনদ না থাকলে সাহারা মরুভূমি মিশরকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলত । এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ে ১২.৫ সেন্টিমিটার এর ও কম । তাই এরকম শুষ্ক পরিবেশে ও বালুময় জমিতে কৃষিকাজ করা খুবই কষ্টকর । মিশরের মধ্য দিয়ে নীলনদ বয়ে গেছে বলেই মিশর এত শস্যশ্যামলা । মিশরকে নীলনদের দান বলার কারণগুলি নিম্নরূপ-

উর্বর পলিগঠিত সমভূমি- নীলনদের গতিপথের দু-পাশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে উর্বর পলি সঞ্চয় করে বিস্তৃত পলিগঠিত সমভূমি সৃষ্টি করেছে যা, চাষের পক্ষে খুবই উপযুক্ত ।

সেচের প্রয়োজনীয় জল- নীলনদের জল সেচের কাজে ব্যাবহার করে সারাবছর কৃষিজমিতে প্রচুর শস্য উৎপাদন করা হয় । জলসেচের মাধ্যমে এখানে দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলো, গম, ধান, সবজি প্রভৃতি চাষ করা হয় । মূলত মিশরের প্রায়ই সমগ্র কৃষিজমিই এই নীলনদের উপত্যকায় অবস্থিত ।

পরিবহণ মাধ্যম- নীলনদের ওপর দিয়ে নৌকার মাধ্যমে পরিবহণ করা সম্ভবপর হয় ।

জলবিদ্যুৎ উৎপাদন- নীলনদের ওপর বাঁধ দিয়ে জল আঁটকে রেখে জলবিদ্যুত উৎপাদনের কাজে ব্যাবহার করা হয় ।

জনবসতি- জীবিকার সুব্যাবস্থার ফলে নীলনদীর দুপাশে জনবসতি ও নগরায়ন দেখা যায় ।

উপরিক্ত, আলোচনা থেকে জানা যায় যে নীলনদ সঞ্জীবনী ধারার মতো মরুভূমির দেশ মিশরকে প্রাণময় করে রেখেছে ।ঐতিহাসিক হেরোডেটাস বলেছিলেন – ‘Egypt is the gift of the Nile’ মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় ।

আরও পড়ুন-

এশিয়ার জলবায়ুর বৈচিত্রের কারণ গুলি লেখ

নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলি আলোচনা কর

জীববৈচিত্রের বিলুপ্তির প্রধান কারণগুলি কি কি লেখ

Leave a Comment