মুদ্রা থেকে আমরা আদি মধ্যযুগ সম্পর্কে কি জানতে পারি

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা মুদ্রা থেকে আমরা আদি মধ্যযুগ সম্পর্কে কি জানতে পারি অথবা আদি মধ্যযুগে মুদ্রার গুরুত্ব এই প্রশ্নের উত্তরটি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি প্রায়ই পরীক্ষায় এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

চলুন আর সময় নষ্ট না করে সরাসরি উত্তর টি দেখে নিন ।

মুদ্রা থেকে আমরা আদি মধ্যযুগ সম্পর্কে কি জানতে পারি

মুদ্রা থেকে আমরা আদি মধ্যযুগ সম্পর্কে কি জানতে পারি?

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদান হিসেবে লেখসমূহের পরেই মুদ্রার স্থান । আদি মধ্যযুগের ইতিহাস পুনরুদ্ধার এর কাজে মুদ্রার গুরুত্ব অপরিসীম । বিশেষ করে মুদ্রার সাহায্যে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব । এযুগের মুদ্রায় সাধারণত মূর্তি বিশেষ কোন আকৃতির ছবি অথবা কোন প্রতীক অঙ্কিত থাকত । অনেকসময় এই মুদ্রায় বিভিন্ন সময়ের মুদ্রিত বিভিন্ন প্রতীক দেখা যায় । সম্ভবত মুদ্রার বিশুদ্ধতা প্রমাণ করার জন্য এই পদ্ধতি গৃহীত হয় ।

রাজারা ছাড়াও ব্যাক্তিগত ভাবে দক্ষিণ ভারতে তিন শতাধিক বছর ধরে তিনটি প্রভাবশালী রাজবংশ রাজত্ব করলেও আজ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয় যে, কোন মুদ্রা পাল বা রাষ্ট্রকূট দের দ্বারা প্রচলিত হয়েছে । প্রতিহার রাজাদের মুদ্রা পাওয়া যায় এই সময় কিন্তু তার সংখ্যা কম হলেও সেগুলি অধিকাংশই নবম শতকের পরবর্তীকালের জাঠিয়া মুদ্রা । যার ওপর অগ্নিদেবী অঙ্কিত হয়েছে । তাতে রাজস্থান ও প্রতিবেশী অঞ্চলের কথা জানা যায় এবং এগুলি এখান থেকেই আবিষ্কৃত হয়েছে ।

কাশ্মীরে ষষ্ঠ থেকে দশম শতক পর্যন্ত ধরে মুদ্রার প্রচলনের এক অভিছন্ন পরম্পরা বজায় ছিল । এরকম অভিছন্নতা পাঞ্জাব ও আফগানিস্থানের শাহী রাজাতে দেখতে পাওয়া যায় যায় । এই অঞ্চলের রাজাদের প্রচলিত মুদ্রা স্পষ্টতই ব্যাবসা ও বিভিন্ন প্রকার চাকরিতে শ্রমিক দের বেতন দিতে ব্যাবহার করা হত ।

আরও পড়ুন-

সম্রাট অশোকের ধর্মনীতির পরিচয় দাও |

একথা বলা ঠিক যে গুপ্তোত্তর যুগে সোনার জোগান ছিল খুবই সীমিত । স্বর্ণমুদ্রা সাধারণত ভারতেই দুর্লভ হয়নি অন্তত আমরা আরও দুটি দেশের কথা জানতে পারলাম । সেখানে সেই একই সময়ে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন ছিল না । এসময় রুপার ব্যাবহার করা হত । ব্রতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতক থেকে ত্রয়োদশ শতক পর্যন্ত রুপার মুদ্রা প্রচলিত ছিল ।

ব্রতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় প্রমাণ করেছেন যে, বাণিজ্যিক ইতিহাসের উপকরণ হিসেবে মুদ্রাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । পাহাড়পুর এলাকা থেকে খলিফা, গোলাকৃতি পাতলা রোপ্যমুদ্রা ও আবু আব্দুল্লাহ অল মুন্তাসির বিল্লাহ স্বর্ণমুদ্রার আবিষ্কার হরিকেল অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকার পরিচয় দেয় ।

তবে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে এই যুগের মুদ্রার গুরুত্ব যতই হোক না কেন এক্ষেত্রে লেখর গুরুত্ব অতিক্রম করা মুদ্রার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয় ।

বন্ধুরা, তাহলে তোমরা আজকের এই পোস্ট থেকে আদি মধ্য যুগে মুদ্রার গুরুত্ব এই প্রশ্নের উত্তরটি পেয়ে গেলে । আশা করি তোমাদের এই উত্তরটি খুবই কাজে লাগবে । তোমাদের মনে যদি আরও কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে নীচে কমেন্টে জানান ।

আমাদের পেজ টি তে শিক্ষামূলক সংক্রান্ত ব্লগ পোস্ট করা হয় । মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয় তাই পেজ টি বুকমার্ক করে নাও ।

আরও পড়ুন-

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ ও ফলাফল

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা

Leave a Comment