রেচন কাকে বলে ? রেচন এর গুরুত্ব লেখ ?

নমস্কার বন্ধুরা, আজকে আমরা রেচন কাকে বলে এবং রেচন এর গুরুত্ব কি কি তা নিয়ে আলোচনা করছি ।

রেচন কাকে বলে ? রেচন এর গুরুত্ব লেখ ?

রেচন কাকে বলে

যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেন ঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থগুলো দেহের বাইরে বের হয়ে যায়, তাকে রেচন বলে ।

দেহ থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ গুলি বেরিয়ে গেলে আমাদের শরীর সুস্থ ও সবল থাকে ।

রেচন তন্ত্র কাকে বলে ?

রেচনে সাহায্যকারী অঙ্গগুলো মিলিত হয়েছে তন্ত্র গঠন করে তাকে রেচনতন্ত্র বলে। এককোষী প্রাণী দের কোন রেচন তন্ত্র থাকে না ।

রেচন কয় প্রকার ও কি কি ?

১) নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থ ২) নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থ ৩) কার্বন যুক্ত রেচন পদার্থ

নাইট্রোজেন যুক্ত রেচন পদার্থ – উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের উপক্ষার নিকোটিন, কুইনাইন, ডাটুরিন, রেসারপিন এবং প্রাণীদের ক্ষেত্রে ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, বিলিরুবিন ইত্যাদি ।

নাইট্রোজেন বিহীন রেচন পদার্থ – গদ, রজন, তারুখির, ধাতব কেলাস ইত্যাদি এবং প্রাণীদের কার্বন ডাই অক্সাইড কিতনবদি ইত্যাদি।

রেচন এর গুরুত্ব লেখ ?

১ ) দেহের সুস্থতা বজায় রাখা: জীবদেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন দূষিত পদার্থ গুলি দেহ থেকে বের না হলে বিষক্রিয়া ঘটতে পারে। রেচন এর ফলে ওইসব পদার্থ গুলি দেহ থেকে অপসারিত হয় এবং দেহ সুস্থ থাকে।

২ ) প্রোটোপ্লাজমিয় বস্তুর সাম্যতা রক্ষা: রেচন প্রক্রিয়া প্রোটোপ্লাজমীয় বস্তুর পরিমাণগত সমতা বজায় থাকে।

৩ ) জল সাম্য বজায় রাখা: রেচন প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত জল ঘাম ও মূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায় ফলে দেহে জল সাম্য বজায় থাকে।

৪ ) আর্থিক গুরুত্ব: বিভিন্ন উদ্ভিদ রেচন পদার্থ গুলি দৈনন্দিন জীবনে মানুষের অনেক কাজে লাগে। যেমন ঔষধ হিসাবে।

৫ ) প্রাকৃতিক সম্পদের সমতা রক্ষা: রেচন প্রক্রিয়ায় অপসারিত রেচন পদার্থ গুলির মাধ্যমে প্রকৃতিতে পুনরায় প্রাকৃতিক উপাদান ফিরে যায়।

মল কে রেচন পদার্থ বলা হয় না কেন ?

মল জীবদেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় না বলে, মল কে রেচন পদার্থ বলা হয় না ।

ল্যাটেক্স কি ?

ল্যাটেক্স বা তরুক্ষীর উদ্ভিদের একরকমের তরল রেচন পদার্থ । ফণিমনসা , বট , আকন্দ , রবার প্রভৃতি গাছের তরুক্ষীর নালীতে সঞ্চিত থাকে ।

 ট্যানিন কি ?

ট্যানিন উদ্ভিদের কার্বনযুক্ত রেচন পদার্থ ।

উপক্ষার কি ?

উপক্ষার উদ্ভিদের নাইট্রোজেনযুক্ত একরকম রেচন পদার্থ । এটি জলে অদ্রাব্য এবং স্বাদে তিক্ত । কুইনাইন , নিকোটিন , ডাটুরিন , রেসারপিন ইত্যাদি উপক্ষারের উদাহরণ ।

আরও পড়ুন –

Leave a Comment