শিকার কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর MCQ & SAQ ক্লাস 12

হ্যালো, বন্ধুরা আজকে আমরা শিকার কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর গুলি আলোচনা করছি । শিকার কবিতাটি উচ্চমাধ্যমিক এর একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষাতে প্রশ্ন আসেই ।

শিকার কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর MCQ & SAQ ক্লাস 12

শিকার কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর ক্লাস ১২

শিকার’ কবিতাটি কার লেখা?

শিকার কবিতাটি বাংলার কবি ‘জীবনানন্দ দাশ’ এর লেখা ।

‘শিকার’ কবিতায় প্রদত্ত দুটি গাছের নাম লেখ ?

শিকার কবিতায় প্রদত্ত দুটি গাছ হল পেয়ারা ও নোনার ।

‘শিকার’ কবিতায় ভােরবেলার আকাশ ও গাছপালা দেখে কবির কেমন মনে হয়েছিল ?

কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা শিকার কবিতায় ভােরবেলার আকাশ ও গাছপালা দেখে কবির ভােরের আকাশকে ঘাসফড়িঙের দেহের মতাে কোমল নীল এবং গাছপালাকে টিয়ার পালকের মতাে সবুজ মনে হয়েছিল।

“চারিদিকে পেয়ারা ও নােনার গাছ” -পেয়ারা ও নােনার গাছের রঙকে কবি কার সঙ্গে তুলনা করেছেন?

কবি পেয়ারা ও নােনার গাছের রঙকে কবি টিয়াপাখির পালকের সবুজ রঙের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

‘শিকার’ কবিতায় “..টিয়ার পালকের মতাে সবুজ।” -কী?

‘শিকার’ কবিতায় “..টিয়ার পালকের মতাে সবুজ পেয়ারা ও নােনার গাছকে বলা হয়েছে ।

“একটি তারা এখনও আকাশে রয়েছে।”—আকাশের তারাকে কেন্দ্র করে কবির কোন্ ভাবনা এখানে প্রকাশিত হয়েছে?

ভােরের আকাশে তারাটির উপস্থিতিকে কবি তুলনা করেছেন পাড়াগাঁর বাসরঘরের গােধূলিমদির মেয়েটির সঙ্গে কিংবা হাজার বছর আগের মিশরের মানুষীর বুকের থেকে কবির নীল মদের গেলাসে রাখা মুক্তার সঙ্গে।

“…তার বুকের থেকে যে মুক্তা…”-কার বুকের মুক্তার কথা বলা হয়েছে?

এখানে মিশরের মানুষীর বুকের মুক্তার কথা এখানে বলা হয়েছে ।

‘হাজার হাজার বছর আগে এক রাতে’ কী হয়েছিল?

শিকার কবিতাই হাজার হাজার বছর আগে এক রাতে মিশরের মানুষী তার বুকের থেকে এক মুক্তা তুলে কবির নীল মদের গেলাসে রেখেছিল।

“একটি তারা এখনও আকাশে রয়েছে..” -কবি কোন তারার কথা বলেছেন?

“একটি তারা এখনও আকাশে রয়েছে..” বলতে কবি ভােরের আকাশে শুকতারার কথা বলতে চেয়েছেন।

‘শিকার’ কবিতায় দেশােয়ালিরা সারারাত মাঠে আগুন জ্বালে কেন?

জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতায় দেশােয়ালিরা সারারাত মাঠে আগুন জ্বালে শীতের রাতে তাদের শরীরকে গরম রাখার জন্য।

”সারারাত মাঠে আগুন জ্বেলেছে”—সেই আগুন দেখতে কেমন?

জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতায় সারারাত মাঠে যে আগুন জ্বলেছিল তা দেখতে ছিল মােরগফুলের মতাে লাল।

সূর্যের আলােয় দেশােয়ালিদের জ্বালা আগুনের রং কেমন ছিল?

‘শিকার’ কবিতায় দেশােয়ালিদের জ্বালানাে আগুনের রং সূর্যের আলােয় রােগা শালিকের ইচ্ছার মতাে বিবর্ণ ছিল।

‘মােরগফুলের মতাে লাল আগুন’—এখানে কোন্ আগুনের কথা বলা হয়েছে?

এখানে হিমের রাতে শরীর গরম রাখার জন্য দেশােয়ালিদের জ্বালানাে লাল আগুনের কথা বলা হয়েছে।

“কুঙ্কুমমের মতাে নেই আর;” -কীসের মতাে হয়ে গেছে?

আগুনের রং রােগা শালিকের বিবর্ণ ইচ্ছার মতাে হয়ে গেছে।

‘শিকার’ কবিতায় ময়ূরের ডানার রং কী ছিল?

‘শিকার’ কবিতায় ময়ূরের ডানার রং ছিল সবুজ-নীল।

“এখনও আগুন জ্বলেছে তাদের”—কেন এখনও’ আগুন জ্বলছে?

কবি জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতাই দেশােয়ালিরা শরীরকে গরম রাখার জন্য রাতে যে আগুন জ্বালিয়েছিল দোমড়ানাে শুকননা অশ্বথপাতা সেই আগুনকে ভাের অবধি জ্বালিয়ে রেখেছিল।

“সূর্যের আলােয় তার রং…”—তার রং এখন কেমন?

জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতায় দেশােয়ালিদের জ্বালানাে আগুনের রং সূর্যের আলােয় রােগা শালিকের ইচ্ছার মতাে বিবর্ণ ছিল।

“কচি বাতাবিলেবুর মতাে…” -কীসের কথা বলা হয়েছে?

‘শিকার’ কবিতায় ‘কচি বাতাবিলেবুর মতাে’ সবুজ সুগন্ধি ঘাসের কথা বলা হয়েছে।

‘শিকার’ কবিতায় সুন্দর বাদামি হরিণটি কী খাচ্ছিল?

জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতায় সুন্দর বাদামি হরিণটি কচি বাতাবিলেবুর মতাে সবুজ, সুগন্ধি ঘাস ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছিল।

“একটা অদ্ভুত শব্দ।” -শব্দটা কীসের?

‘একটা অদ্ভুত শব্দ’ বলতে শিকারির বন্দুকের গুলির শব্দের কথা বলা হয়েছে।

“নদীর জল মচকাফুলের পাপড়ির মতাে লাল।”—এইরকম রঙের কারণ কী?

জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতায় ভােরবেলা শিকারির গুলিতে বিদ্ধ হরিণের রক্তে নদীর জল ‘মচকাফুলের পাপড়ির মতাে লাল’ হয়ে উঠেছিল।

“আগুন জ্বলল আবার…” -আবার আগুন জ্বলার কথা বলা হয়েছে কেন?

জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতায় প্রথমবার আগুন জ্বালিয়েছিল দেশােয়ালিরা, তাই শব্দটির সাহায্যে শিকারিদের আগুন জ্বালানােকে বােঝানাে হয়েছে।

“নিস্পন্দ নিরপরাধ ঘুম।” -ঘুমকে ‘নিরপরাধ’ বলা হয়েছে কেন?

জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতায় ঘুমকে ‘নিরপরাধ’ বলা হয়েছে, কারণ হরিণের মৃত্যু তার নিজের অপরাধের কারণে ঘটেনি, ঘটেছে মানুষের লালসার কারণে।

“ ঘুমহীন ক্লান্ত বিহুল শরীরটাকে স্রোতের মতাে / একটা আবেশ দেওয়ার জন্য ” হরিণটি কী করল ? ” ( ক ) নরম ঘাসের উপর শুয়ে পড়ল ( খ ) নদীর তীক্ষ্ণ শীতল জলে নামল । ( গ ) অর্জুন বনের ছায়ায় বসে রইল । ( ঘ ) দেশােয়ালিদের জ্বালানাে আগুনের উত্তাপ নিল ।

উত্তর – ( খ ) নদীর তীক্ষ্ণ শীতল জলে নামল

একটি তারা এখন আকাশে রয়েছে” – একটি তারা’-র সঙ্গে কবি তুলনা করেছেন
(ক) একটি ফুলের (খ) একটি মেয়ের (গ) একটি নদীর (ঘ) একটি গানের

উত্তর – একটি মেয়ের

নীল মদের গেলাসে কী রাখা হয়েছিল?
(ক) রুপো (খ) সোনা (গ) প্রবাল (ঘ) মুক্তা

উত্তর – মুক্তা

বড় প্রশ্ন –

” রোগা শালিকের হৃদয়ের বিবর্ণ ইচ্ছার মতো” – উপমাটি কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ? কবিতার ভিত্তিতে উপমাটি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ তা লেখ ।

চিত্ররূপময় কবি জীবনানন্দ দাশ শিকার কবিতায় শরীর গরম রাখার জন্য জালানো আগুনের প্রসঙ্গে উক্ত উপমাটি ব্যবহার করেছেন। প্রখর রুদ্র দেবের প্রভাবে টকটকে লাল আগুন ও ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে, এই কথা বোঝাতে গিয়ে কবি রোগা শালিকের কথা উল্লেখ করেছেন।

যখন ভোরের আলোয় সমস্ত শান্ত প্রকৃতি চারিদিক ঝলমল করে ওঠে তখন শরীর গরম রাখার গনগনে আগুন ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে যায়, ঠিক যেন আগুন তার জীবনের সমস্ত রং কে হারিয়ে ফেলে। যে আগুন সমস্ত কিছুকে এক মুহূর্তে বিলীন করতে পারে তার জীবনও যে অন্য কোন তেজের কাছে বিলীন হতে পারে কবি এই কথায় বোঝাতে চেয়েছেন।

হরিণের মাংস কে পোড়ানো যার উদ্দেশ্য সেই আগুন কোন এক রোগা শালিকের সমস্ত শেষ হয়ে যাওয়া ভালোবাসার মতো বিবর্ণ হয়ে গেছে শিকার কবিতায়। কবি শান্ত প্রকৃতিকে আরও শান্ত করতে প্রখর আগুন কে নিস্তেজ করে দিয়েছেন রুদ্রদেব কে দিয়ে।

কবিতায় চির সবুজ প্রকৃতির প্রাণ হরিণকে পোড়ানোর জন্য যে আগুন তাকে প্রকৃতি রক্ষার জন্য খানিক নিস্তেজ করে তুলেছেন কবি। কিন্তু কবিতায় তাকে আবার জ্বলতে হয়েছে নাগরিক স্বার্থের কারণে। প্রকৃতিপ্রেমী কবি শিকার কবিতায় শিকার ঘটনাটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে এই বৈপরীত্য উপমা ব্যবহার করেছেন।

আরও পড়ুন –

নানা রঙের দিন নাটকে কালীনাথ চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো

নানা রঙের দিন নাটক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ & SAQ) ছোট ও বড়

বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়াে প্রশ্ন উত্তর (একাদশ শ্রেণী)

‘জ্ঞানচক্ষু‘ গল্প অনুসরণে তপন চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো

‘শিক্ষার সার্কাস’ একাদশ শ্রেণী (MCQ) ও বড় প্রশ্ন

কর্তার ভূত গল্পের নামকরণের সার্থকতা

‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ ছোট গল্পের নিখিল চরিত্রটি পর্যালোচনা করাে।

“কেননা ভবিষ্যৎকে মানলেই তার জন্যে যত ভাবনা, ভূতকে মানলে কোনাে ভাবনাই নেই;”

Leave a Comment