‘শিক্ষার সার্কাস’ একাদশ শ্রেণী (MCQ) ও বড় প্রশ্ন

বন্ধুরা, আজকে আমরা শিক্ষার সার্কাস কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন অর্থাৎ MCQ গুলি এবং বড় প্রশ্ন গুলি আলোচনা করছি ।

'শিক্ষার সার্কাস' একাদশ শ্রেণী (MCQ) ও বড় প্রশ্ন

শিক্ষার সার্কাস

শিক্ষার সার্কাস কবিতাটি কে লিখেছেন এবং শিক্ষার সার্কাস কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?

শিক্ষার সার্কাস কবিতাটি লিখেছেন আইয়াপ্পা পানিক্কর এবং শিক্ষার সার্কাস কবিতাটি আইয়াপ্পা পানিক্কর এর ‘Days and Nights’ নামক ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ।

সব শিক্ষা একটি সার্কাস’ কবি কেন এমন মনে করেন ?

প্রথাগত শিক্ষা শুধু এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তরণকেই বােঝায় কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানের সন্ধান দিতে পারে না বলেই তাকে সার্কাস বলা হয়েছে।

সব শ্রেণি শেষে কবি তবু পরের শ্রেণিতে যেতে চেয়েছেন কেন?

‘শিক্ষার সার্কাস’ কবিতায় সব শ্রেণি শেষে কবি তবু পরের শ্রেণিতে যেতে চেয়েছেন, কারণ প্রতিযােগিতায় জেতার জন্য তিনি আরও ডিগ্রি অর্জন করতে চেয়েছেন।

“আমরা পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হই”—কীভাবে পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হই?

শিক্ষা নামক সার্কাস এর সাহায্যে আমরা পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হই ।

‘শিক্ষার সার্কাস’ কবিতাটি বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন ?

শিক্ষার সার্কাস কবিতাটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন উৎপলকুমার বসু ।

‘শিক্ষার সার্কাস’ কবিতায় কবি শিক্ষাকে কেন সার্কাস- এর সঙ্গে তুলনা করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখাে।

শিক্ষার সার্কাস কবিতাটি আইয়াপ্পা পানিক্কর -এর শিক্ষাবিষয়ক ভাবনার একটি কাব্যিক উপস্থাপনা। কবি লক্ষ করেছেন, এদেশে শিক্ষা যেন এক অন্তঃসারশূন্য ব্যবস্থার অর্থহীন অনুশীলন। যেভাবে সার্কাসে ট্রাপিজের খেলায় একটা দড়ি ছেড়ে আর একটা দড়ি ধরে কুশলী খেলােয়াড়, ঠিক সেভাবেই এক শ্রেণি থেকে আর-এক শ্রেণিতে ওঠার মধ্যেই শিক্ষার সার্থকতা খুঁজে পায় শিক্ষার্থীরা। এখানে পরীক্ষায় পাস করাটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। নিজেকে জ্ঞানের দ্বারা সমৃদ্ধ করার বদলে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠাই সেখানে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষা এখানে ব্যক্তিজীবনের বিকাশের বাহক নয়, ব্যক্তির আত্মসুখের প্রক্রিয়ামাত্র। যেভাবে পরীক্ষায় পাসের মাধ্যমে, এক শ্রেণি থেকে পরের শ্রেণিতে উত্তরণের মাধ্যমে শিক্ষার সার্থকতা খোঁজার চেষ্টা করা হয়, তাকে কবি কিছুতেই মন থেকে মানতে পারেননি। গােটা শিক্ষণ ব্যবস্থাটাই তার কাছে তাই সারবত্তাহীন এক মজাদার উপস্থাপনা বলে মনে হয়েছে। রুশাে প্রকৃতির থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছিলেন—“Go to the nature” কিন্তু আমাদের যান্ত্রিক শিক্ষাপদ্ধতি শুধুই শিক্ষার্থীকে যন্ত্র বানিয়ে তােলে। শিক্ষার্থীর প্রকৃত মানসিক বিকাশ এখানে হয় না। সে কারণেই কবি পানিকর শিক্ষাকে সার্কাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন তার শিক্ষার সার্কাস’ কবিতায়।

“যদি সব শ্রেণি শেষ হয়ে যায়, আমি তবু পরের শ্রেণিতে যাব।” -সব শ্রেণি শেষ হয়ে পরের শ্রেণিতে যাওয়া বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

এভাবেই এক নিরন্তর প্রতিযােগিতার মধ্য দিয়ে পার্থিব সাফল্যের সন্ধান করে মানুষ। জ্ঞান এবং চেতনাহীন মানুষ আত্মসুখের বাসনা চরিতার্থ করার মধ্যেই তখন সাফল্যের পথ খুঁজে যায়। সব শ্রেণি শেষ হয়ে গেলেও পরের শ্রেণি-তে যাওয়ার কথা বলে কবি আসলে সমাপ্তিহীন সাফল্যের পথসন্ধানকেই এখানে বােঝাতে চেয়েছেন। তিনি আরও বােঝাতে চেয়েছেন যে, পরীক্ষায় পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া মােটেও এক জিনিস নয়। তাই আমাদের দেশের ছেলেরা শিক্ষাশেষে শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শীর্ণ হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে। এই কলে-ছাঁটা শিক্ষার ফলে কিছুতেই শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ সম্পূর্ণ হতে পারে না, তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি বা গুণ কোনােমতেই প্রকট বা ব্যক্ত হতে পারে না।

‘শিক্ষার সার্কাস’ কবিতার নামকরণ কতটা সার্থক?

মালায়ালাম ভাষার বিখ্যাত কবি আইয়াপ্পা পানিক্কর এর একটি অনবদ্য কবিতা হল ‘শিক্ষার সার্কাস’ । কবিতার নামকরণ থেকে কবিতার বিষয়বস্তু সম্পর্কে অনুমান করা যেতেই পারে যে কবি শিক্ষাকে সার্কাস এর সাথে তুলনা করতে চেয়েছেন ।

নামকরণ যেহেতু যে-কোনাে রচনায় প্রবেশের প্রাথমিক চাবিকাঠি, তাই নামকরণের ক্ষেত্রঅথচ এর ফলে শিক্ষার্থীর নিজস্ব মানসিক বিকাশ যে রুদ্ধ হয়ে যায়, সেদিকে কারও নজর থাকে না। এই প্রথাগত শিক্ষা গ্রহণ করে উপযুক্ত মানুষ হওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা কেবল সমাজের এক প্রতিযােগী হয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত থাকে। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বা উদ্ভাবনী শক্তি একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে শিক্ষাকে তারা বাহন না করে কেবল বহন করে চলে। জ্ঞানের সঙ্গে সংযােগহীন এই শিক্ষা তাই কবির কাছে কেবল ধোঁকা। এই বিষয়টিই আলােচ্য কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে বলে কবিতার নামকরণ সার্থক হয়েছে।

আরও পড়ুন –

কর্তার ভূত গল্পের নামকরণের সার্থকতা

‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ ছোট গল্পের নিখিল চরিত্রটি পর্যালোচনা করাে।

“কেননা ভবিষ্যৎকে মানলেই তার জন্যে যত ভাবনা, ভূতকে মানলে কোনাে ভাবনাই নেই;”

Leave a Comment