সঙ্গম সাহিত্য সম্পর্কে একটি টীকা লেখ।

হ্যালো, আজকে আমরা সঙ্গম সাহিত্য সম্পর্কে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । অর্থাৎ সঙ্গম সাহিত্য সম্পর্কে একটি টিকা লিখছি । এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা চিনের ওপর আরোপিত বিভিন্ন অসম চুক্তি গুলি আলোচনা করেছিলাম ।

সঙ্গম সাহিত্য সম্পর্কে একটি টীকা লেখ।

সঙ্গম সাহিত্য

খ্রীঃ প্রথম তিনশো বা চারশো বছর ধরে তামিল দেশে যে সাহিত্য রচিত হয় তার নাম সঙ্গম সাহিত্য । এই সাহিত্য তামিলদেশে যে সাহিত্য রচিত হয় তার নাম সঙ্গম সাহিত্য । এই সাহিত্য তামিলদেশ ও জগতের নিখুঁত বর্ণনা নেয় । চম্পকলক্ষ্মী মন্তব্য করেছেন যে পুরনো প্রস্তর যুগের শেষদিকে এই সঙ্গম সাহিত্য রচিত হয় । পুরনো প্রস্তর যুগে মানুষজন, সম্প্রদায়, তাদের বৃহৎ কৃষিক্ষেত্র, স্থানীয় প্রধান ও কৃষকদের পরিচয় এতে পাওয়া যায় । এখানকার মানুষজন কৃষি পশুপালন, মৎস্যশিকার ইত্যাদির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত । এযুগের মানুষ লোহার ব্যাবহার শিখেছিল, এমন পরিবেশ ছিল সমরাষ্ট্র ও যুদ্ধের অনুকূল । সংগম সাহিত্যে একটি সাহিত্য সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া গেছে । তামিল জগৎ এই সাহিত্যে ৮ বা ৯ টি ভাগ ছিল । সাহিত্য সংকলনগুলিতে ১২৭৯ টি কবিতা আছে । এগুলি রচনা করেন ৮৭৩ জন কবি । এদের মধ্যে মহিলা কবিরাও ছিলেন । সংগম স্থল কবি সম্মেলন, কবিদের অ্যাকাডেমি, পাণ্ডব চোর ও চোল রাজারা এদের উৎসাহের সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ।

সংগম সাহিত্যের তামিলদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সংস্কৃতির জীবনের চিত্র ১৮০০ বছর পূর্বে সংগম সাহিত্যে প্রাপ্ত তামিল জীবনের চিত্র অঙ্কন করেছেন । এই গ্রন্থে তামিল রাজা ও রাজ্যগুলির বর্ণনা আছে । সংগম কবিতাগুলির প্রধান বিষয় হল প্রেম ও যুদ্ধ । সংগমযুগে তামিল অঞ্চলে যুদ্ধ লেগেই থাকত । পুরনো কবিতাগুলির বীর নায়কদের ছিল যম ও খ্যাতি । এযুগে তামিলরা বিশ্বাস করত দেবীর যুদ্ধক্ষেত্রে । যুদ্ধে পরাস্থ হলে একজন রাজা সাধারণভাবে, আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা করা স্বেছাসেবীর যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বদেশীয় নিহত হতেন তাদের নামে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হত । সংগম যুগে রাজতান্ত্রিক শাসনব্যাবস্থা ছিল ।

প্রাচীন তামিল রাষ্ট্রব্যাবস্থায় রাজা ছিলেন বংশানুক্রমিক রাষ্ট্র প্রধান তবে সম্ভবত নিরভকুশ স্বৈরাচারী শাসক ছিলনা । তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ ছিল কারণ ৫টি কাউন্সিল বা সভার অস্তিত্বের কথা জানা যায় । এই সভাগুলি গঠন করতেন পুরোহিত, চিকিৎসক ও জ্যোতিষীরা । এই সভা জনগণের অধিকার ও সুযোগ সুবিধা করতেন । পুরোহিত ধর্মীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন । চিকিৎসক জনগণের ও রাজার চিকিৎসা করতেন । জ্যোতিষি সরকারী অনুষ্ঠানের শুভসময় নির্ধারণ করতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনার ভবিষ্যৎবাণী করতেন । মন্ত্রীরা রাষ্ট্রে রাজস্বসংগ্রহ ও ব্যায় নিয়ে ব্যাস্ত থাকত তারা বিচার ব্যাবসা তদারকিত করত । রাজার হাতে সব ক্ষমতা সমর্পণ করা এবং ৫টি কাউন্সিল গঠনের প্রথা পান্ড, চোল ও চোরদের রাজনৈতিক ব্যাবসায় গৃহীত হয় । এই সভাগুলি ছিল স্বায়ত্তশাসিত এবং প্রত্যেক স্বতন্ত্র ও স্বাধীন কেউ কারোর ওপর নির্ভর ছিল না ।

রাজার আয়ের প্রধান উৎস ছিল শুল্ক । পথ শুল্ক ও ভূমিকর রাজকর্মচারীরা সংগ্রহ করত । বড়ো রাস্তাগুলি ও রাজ্যের সীমান্তে শুল্ক আদায়ের ব্যাবসা ছিল । ভূমি কর নগদে বা উৎপন্ন শস্যে দেওয়া যেত । অন্যান্য উৎস থেকেও রাজার আয় হত । অধীনস্ত সামন্তরাজা ও প্রধানরা রাজাকে কর দিত । সামরিক অভিযানের সময়ে লুণ্ঠিত দ্রব্যের ভাগ পেতেন রাজা । বন, মৎস্য়চাষ ও হাতি থেকেও রাজার আয় হত ।

আরও পড়ুন-

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন এর প্রেক্ষাপট, বৈশিষ্ট্য, শর্ত, ত্রুটি ও গুরুত্ব

স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা

গিয়াসুদ্দিন বলবনের নরপতিত্বের আদর্শ ব্যাখা কর

আজকের এই পোস্টে আমরা সঙ্গম সাহিত্য সম্পর্কে একটি টীকা লিখলাম । আশা করি এই প্রশ্নের উত্তরটি তোমাদের খুবই ভালো লেগেছে । উত্তরটি অনেক ভালো ভাবে অর্থাৎ বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা আছে । যদি এই পোস্ট টি তোমাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদের পেজ টি ফলো করুন এবং আমাদের পেজ এ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয় । ধন্যবাদ ।

Leave a Comment