সামন্ততন্ত্র বলতে কি বোঝ? সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা সামন্ততন্ত্র বলতে কি বোঝ এবং সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য কি তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । উচ্চমাধ্যমিক স্তরের এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশ্নটি পরীক্ষাতে প্রায়ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি লেখ এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

সামন্ততন্ত্র বলতে কি বোঝ

সামন্ততন্ত্র বলতে কি বোঝ

অষ্টম শতকে সামন্ততন্ত্র বিকাশলাভ করেছিল । মধ্যযুগে ইউরোপের ইতিহাসে সামন্ততন্ত্র এত বেশী আলোচিত ছিল যে ‘মধ্যযুগকে’ ইউরোপের ইতিহাসের সামন্ততন্ত্রের যুগ ও বলা হয় । সামন্ততন্ত্র হল এক বিশেষ ধরণের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো যেখানে কেন্দ্রীয় শক্তির অধীনে থাকা বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির বিকাশ ঘটে । অথবা ভূমি নিয়ন্ত্রণ ও ভূমি মালিকানাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক রাজনৈতিক ও অর্থসামাজিক ব্যাবস্থায় হল সামন্ততন্ত্র ।

ইংরাজি শব্দ ‘ফিউডালিজম’ এর বাংলা প্রতিশব্দ হল সামন্ততন্ত্র । ফিউডালিজম কথাটি এসেছে ল্যাতিন শব্দ ‘ফিউডালিস’ থেকে । সামন্ততন্ত্র সম্পর্কে পণ্ডিত মহলে বিতর্ক আছে এবং বিভিন্ন পণ্ডিতগণ ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে, যেমন-

কার্ল মার্কসের মতে- কার্ল মার্কসের মতে, “স্বাধীনতাহীন শ্রমজীবী মানুষের দ্বারা বৃহৎ ভূসম্পত্তিতে কৃষি ও হস্তশিল্পজাত পণ্যসামগ্রী উৎপাদন করার ব্যবস্থাই হল সামন্তব্যবস্থা”।

অধ্যাপক এ কে নাজমুল এর মতে “সামন্তপ্রথা বলতে এমন এক সমাজ ও সংস্কৃতি কে বোঝায় যেখানে ভূমিই হচ্ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি” ।

সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

মধ্যযুগে ইউরোপের অর্থনৈতিক কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে । সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম ছিল । সামন্ততন্ত্রের বৈশিষ্ট্য গুলি নীচে আলোচনা করা হল-

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ– সামন্ততন্ত্রের যথাযথ বিন্যাসকে লক্ষ্য করলে এদের মধ্যে স্তরবিন্যাস দেখা যায় । সামন্ততন্ত্রের সবচেয়ে উঁচুতে রাজা ছিলেন । রাজা ছিলেন সমস্ত জমির মালিক এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী । যেহেতু রাজার পক্ষে সব জমি চাষ করা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তব্য পালন করা সম্ভব নয়, তাই তিনি বেশকিছু সামন্ততন্ত্র নিয়োগ করেন । এই সামন্ততন্ত্রদের তিনি জমি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ভাগ করে দেন । এক্ষেত্রে রাজা ছিলেন সামন্তপ্রভু এবং এরা ছিলেন সামন্ত ।

পারস্পারিক সম্পর্ক- ভূমিকে কেন্দ্র করে গঠিত হওয়া এই সামন্ততন্ত্র ব্যাবস্থায় সামন্তপ্রভু এবং প্রজাদের মধ্যে পারস্পারিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস ও আনুগত্যের বন্ধন ছিল । এরা সকলেই নিজের নিজের কাজ দায়িত্ব সহকারে পালন করত ।

ভুমিদাসদের শোচনীয় ব্যাবস্থা- ডিউক, ব্যারন, রাজা, নাইট এরা কেউ তাদের নিজের জমিতে চাষ করত না । জমিতে চাষ করতে এদের অধীনে থাকা ভূমিদাসেরা । ভূমিদাসদের জীবন ছিল দুঃখ ও দুর্দশাতে ভরা । এদের অবস্থা ক্রীতদাসদের থেকেও করুন ছিল । জমি বিক্রি হওয়ার সাথে সাথে এদের ও জমির সাথে বিক্রি করে দেওয়া হত ।

বাণিজ্যের অবনতি- সামততান্ত্রিক ব্যাবস্থায় কৃষির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়াও বাণিজ্যের অবনতি ঘটে ।

ভারতের সামন্তপ্রথার বৈশিষ্ট্য

ভারতে সামন্তপ্রথার বৈশিষ্ট্য গুলি হল-

নগরায়নের অভাব– সামন্ততান্ত্রিক কালে কৃষির ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপিত হয় এবং নগরের প্রতিষ্ঠা এবং বিস্তার সামন্ততন্ত্রের অধীনে ছিল না । যার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সামন্ততান্ত্রিক যুগে গ্রামগুলির বিকাশ ঘটে এবং নগরায়নের বিকাশ ব্যাহত হয় ।

জমির মালিকানা- জমির ওপর সামন্ততন্ত্রদের অধিকার থাকলেও জমির ওপর কোন নির্দিষ্ট ব্যাক্তির মালিকানা ছিল না । জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল রাষ্ট্রের এবং কৃষকদের কোন অধিকার ই ছিল না ।

কৃষিভিত্তিক সমাজ- এই সময় ভারতবর্ষে কৃষির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সমাজের বিপুল সংখ্যক মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল । কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল ।

সেচ ব্যাবস্থার অভাব – কৃষিকাজের জন্য জলসেচের প্রয়োজন এবং সেচ ব্যাবস্থা ছিল রাষ্ট্রের অধীনে, ফলে সেচ ব্যাবস্থার অভাব দেখা যায় ।

আরও পড়ুন-

উপনিবেশবাদ বলতে কী বােঝ? উপনিবেশবাদের ধ্বংসের কারণ কি?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল?

Leave a Comment