সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি লেখ

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা ‘ সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি লেখ‘ এই প্রশ্নের উত্তরটি এই পোস্ট এ বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ – প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ে নাও এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার কর ।

সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি লেখ

সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি লেখ

অর্থনৈতিক কারণ –

শিল্পবিপ্লবের পরবর্তীকালে স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি দেশ বাণিজ্যিক কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মাণ করলে এই বাণিজ্যিক লক্ষ্য পরবর্তীকালে শাসনগত লক্ষ্যে রুপান্তরিত হয়ে সাম্রাজ্যবাদের উত্থান ঘটে । উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় – ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যাবসাবাণিজ্যের লক্ষ্য নিয়ে ভারতে এলেও পরে কিন্তু ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয় ।

সামাজিক কারণ –

জনসংখ্যা বৃদ্ধি – উনিশ শতকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকলে উদবিত্ত জনসংখ্যার পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলি দুর্বল দেশগুলিকে আক্রমণ করে সেই সব দেশে নিজেদের সাম্রাজ্যবাদ উত্থানের কাজ শুরু করে ।

জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা – প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স রাইন নদী পর্যন্ত সমগ্র ভূখণ্ডের ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। এর প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কারণ দেখিয়ে জার্মানি একের পর এক অঞ্চলের দখল নেয়। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে জাপান সুদূর প্রাচ্যে বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকায় আধিপত্য বিস্তার করে।

ধর্মপ্রচার –

ইউরোপে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির ধর্মযাজকগণ এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ধর্মপ্রচারের কাজে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতেন । মিশনারিগণ খ্রিস্টধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে তারা আমেরিকায় যান । এভাবেই এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশগুলিতে খ্রিস্টান মিশনারিরা সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার পথ প্রসস্থ করে দেয় ।

রাজনৈতিক কারণ –

রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা – এই সময়ে কোন দেশ সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারে যতটা সক্ষম সেই দেশ তত বেশী শক্তিশালী হিসেবে গণ্য করা হত । সাম্রাজ্যবাদ স্থাপন কে জাতিগত গৌরব বলে আখ্যা মনে করা হত ।

জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা – হিটলারের মতাে রাষ্ট্রনায়কগণ দাবি জানিয়ে বলেন অনার্য জাতির ওপর প্রাধান্য বিস্তারের অধিকার রয়েছে আর্য জাতির। শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে নিজ নিজ জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করে ইউরােপের বিভিন্ন দেশ। এর ফলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য শুরু হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। জার্মানির তরফ থেকে টিউটনিক জাতির, ব্রিটেনের তরফ থেকে অ্যাংলাে-স্যাক্সন জাতির, ফরাসিদের তরফ থেকে লাতিন জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করা হয়।

এছাড়া অনেক সময় পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে উন্নয়নের আশা দেখিয়ে সেখানে সাম্রাজ্যবাদের প্রসার ও উত্থান ঘটান । সাধারণত শক্তিশালী দেশগুলিই দুর্বল ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া দেশগুলির ওপর নিজেদের সাম্রাজ্যবাদের প্রসার ঘটাত ।

আরও পড়ুন –

উপনিবেশবাদ বলতে কী বােঝ? উপনিবেশবাদের ধ্বংসের কারণ কি?

Leave a Comment