সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও দেশভাগ

সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও দেশভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর গুলি আলোচনা করছি ।

মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনের গুরুত্ব কি ?

১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২০ শে মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক । উত্তর প্রদেশের আবুল কাশেম এই প্রস্তাবটি সমর্থন করেন । এই অধিবেশনে উত্তর পূর্ব ও উত্তর পশ্চিম মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল । যদিও ‘পাকিস্থান গঠনের’ কথা সরাসরি বলা হয়নি । তথাপি জিন্নার স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাবটি পরে ‘পাকিস্থান প্রস্তাব’ বলে বিবেচিত ।

মুসলিম লীগের দিল্লি অধিবেশন তাৎপর্যপূর্ণ কেন ?

মুসলিম লীগের দিল্লি অধিবেশনে (১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ) জিন্নাহ ভারতীয় মুসলিমদের নিরাপত্তার স্বার্থে চোদ্দ দফা দাবী পেশ করেন । জিন্নাহ – এর এই পদক্ষেপ জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী ছিল । আর এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে ইংরেজ সরকার আরও কিছুদিন ভারতের ওপর তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছিল ।

মুসলিম লীগের প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ?

১৯০৭ সালের ২৬ডিসেম্বর করাচিতে মুসলিম লীগের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

পাকিস্থান শব্দটি প্রথম কে ব্যাবহার করেন ?

কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠরত প্রবাসী ছাত্র চৌধুরী রহমত আলি ‘ Now or Never’ নামক প্রকাশিত পুস্তিকায় প্রথম পাকিস্থান শব্দটি ব্যাবহার করেন । পাকিস্থান শব্দের অর্থ ‘পবিত্র ভূমি’

প্রত্যক্ষ সংগ্রাম বলতে কি বোঝ ?

১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ই আগস্ট জিন্নার নেতৃত্বে মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয় । লর্ড ওয়াভেল ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানালে ক্ষুব্ধ মুসলিম লীগ জিন্নার নেতৃত্বে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দিয়েছিল । এর ফল স্বরুপ হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায় এক নারকীয় দাঙ্গায় মেতে উঠেছিল ।

সি আর ফর্মুলা কী ?

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে ও উভয়দলের মতভেদ দূর করতে রাজাগোপালচারীর সমাধান সূত্র ‘ সি আর ফর্মুলা ‘ নামে পরিচিত । এতে বলা হয় মুসলিম লীগ জাতীয় সরকার গঠনে কংগ্রেস এর সাথে হাত মেলাক । স্বাধীনতা লাভের পর গণভোটের মাধ্যমে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি বিবেচিত হবে ।

ওয়াভেল পরিকল্পনা কী

ভারতকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার দেবার আগে তার রাজনৈতিক ও শাসন তান্ত্রিক কাঠামো সম্পর্কে ভারতের ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ই জুন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের কাছে যে প্রস্তাব গুলি রেখেছিলেন সেগুলি একত্রে ‘ ওয়াভেল পরিকল্পনা ‘ বলা হয় । এখানে বলা হয় সংবিধান রচনা না রচনা না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হবে তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে পর্যন্ত সময়ে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ইংরেজ রাই পালন করবে ।

ভারতের প্রথম ও শেষ ভাইসরয়ের নাম কী ?

ভারতের প্রথম ভাইসরয় হলেন লর্ড ক্যানিং এবং ভারতের শেষ ভাইসরয় হলেন লর্ড মউন্টব্যাটেন ।

স্বাধীন ভারতের প্রথম ও শেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন ?

স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মাউন্টব্যাটেন এবং ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী ।

সিমলা বৈঠক কি

ওয়াভেল পরিকল্পনা বা সিমলা বৈঠক – ভারতের বড়োলাট লর্ড ওয়াভেল ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ই জুন কংগ্রেস ও লীগের কাছে একটি পরিকল্পনা পেশ করেন সিমলায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে , যা ওয়াভেল পরিকল্পনা বা সিমলা বৈঠক নামে পরিচিত । মূলত ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও আজাদ হিন্দ ফৌজের কার্যকলাপ ও মুসলিম লীগের ব্রিটিশ বিরোধিতার ফল স্বরুপ এই বৈঠক আহূত হয়েছিল ।

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কি

ভারতবর্ষে ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলি লর্ড মাউন্টব্যাটেন কে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৪ শে মার্চ ভাইসরয় হিসেবে ভারতে প্রেরণ করেন । মাউন্টব্যাটেন এর ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য যে পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন তা ই মাউন্ট ব্যাটেন পরিকল্পনা নামে পরিচিত ।

সংবিধান সভার প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন ?

সংবিধান সভার প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ ।

আরও পড়ুন – মুসলিম লীগের লক্ষ্য বা উদ্দ্যেশ্য কি ছিল ?

আলিগড় আন্দোলনের জনক কে ? আলিগড় আন্দোলনের উদ্যেশ্য কি ছিল ?

আলিগড় আন্দোলন কাকে বলে ?

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশুনা করার জন্য আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন

Leave a Comment