সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ ও ফলাফল

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ ও ফলাফল কি তা নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন । সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃতি নিয়েও এই পোস্টে আলোচনা করা হবে । প্রশ্নের উত্তর টির মান ১০ ।

এর আগের পোস্টে আমরা ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম ।

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ ও ফলাফল

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ ও ফলাফল

997 খ্রিস্টাব্দে সুবক্তগিনের মৃত্যুর পর তার পুত্র মামুদ সুলতান হিসেবে গজনীর সিংহাসনে বসেন । সুলতান মামুদ 1000 থেকে 1027 খ্রীঃ মধ্যে মোট 17 বার ভারত আক্রমণ করেন । এই সময় আফগানিস্থানের সাথে ভারতের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল । সুতরাং মামুদ ভারত আক্রমণ নিয়ে কোন দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা করেননি । মামুদের ভারত আক্রমণের লক্ষ্য ছিল এদেশের অতুল ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্য ।

মামুদ 1000 খ্রীঃ প্রথম ভারত আক্রমণ করেন । এই সময় তার বাহিনী বা দুর্গ ছিল পেশোয়ার এর মধ্যে । তার দ্বিতীয় অভিযান প্রেরিত হয় 1001 খ্রীঃ শাহী রাজ্যের বিরুদ্ধে এবং শাহীরাজ জয়পাল পরাজিত ও বন্দি হন । জয়পাল কর্তৃক ২ লক্ষ ৫০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ও ২৫ টি যুদ্ধবান হাতি প্রদানের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মামুদ তাকে মুক্তি দেন । 1004 খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু আক্রমণ করে আনন্দপালকে পরাজিত করে । 1005 থেকে 1006 খ্রীঃ চতুর্থবার এবং 1007 ও 1008 খ্রীঃ ভারত আক্রমণ করেন প্রচুর সম্পত্তি নিয়ে গজনী তে ফিরে যান ।

ভারতবর্ষের মন্দিরগুলিতে প্রচুর ধনসম্পদ রক্ষিত থাকত, যা মামুদকে প্রলোব্ধ করেছিল । 1010 থেকে 1026 খ্রীঃ পর্যন্ত মামুদের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল মথুরা, থানেশ্বর, কনৌজ ও সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন । 1000 খ্রীঃ মুলতানের শাসক আবুল ফতেদাউদ কে বন্দি করে গজনী তে পাঠান । 1015 তে কাশ্মীর উপত্যকা, 1018 তে কনৌজ ও মথুরা লুঠ, 1020 খ্রীঃ চান্ডল্য বংশীয় বিদ্যাধরের বিরুদ্ধে এবং 1021 খ্রীঃ শাহীরাজ ত্রিলোচন পাল ও পুত্র ভীমপালের বিরুদ্ধে অভিযান চালান । 1022 খ্রীঃ তিনি কালিঞ্জর দুর্গ আক্রমণ করেন । মামুদের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য অভিযান হল 1025-1026 খ্রীঃ কাথিয়াবাড় অঞ্চলে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির এর বিরুদ্ধে । এই মন্দির এই ছিল সবচেয়ে বেশী সম্পদ ও ঐশ্বর্য । আরব লেখ অলকাজউইন এর বিবরণ থেকে জানা যায় যে সোমনাথ মন্দিরে ২০ হাজার দিনার মূল্যের অধিক সোনা ও রুপার তৈরি বেশকিছু মূর্তি ও মুল্যবান রত্ন খোচিত পাত্রগুলি লুণ্ঠন করে স্বদেশে নিয়ে গিয়েছিলেন । তার শেষ অভিযান 1027 খ্রীঃ জাঠদের বিরুদ্ধে এবং গজনীতে ফিরে যান ও সেখানে 1030 খ্রীঃ তার মৃত্যু হয় । এভাবে 1000-1027 খ্রীঃ মধ্যে ভারতের বহু মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠন করার জন্য তাকে ‘বাৎসিকান’ বা ‘নগর ধ্বংসকারী’ বলা হয় ।

মামুদের ১৭ বার ভারত আক্রমণের ফলে ভারতীয় হিন্দুরাজারা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে । তবে একথা ঠিক মামুদের সমকক্ষ কোনো ভারতীয় ছিল না । ফলে তারা তাকে প্রতিহত করার কোন শক্তি ও সাহস পায়নি । এই সময়ে ভারতবর্ষের ইতিহাসে উত্তর ভারতীয় রাজাদের অদূরদর্শিতা লক্ষ্য করা যায় ।

মামুদের ভারত অভিজানের প্রকৃতি বা উদ্দেশ্য নিয়ে ঐতিহাসিকেরা একমত নন । মামুদের সভা ঐতিহাসিক উতবীর বক্ত্যবের ওপর নির্ভর করে কোন কোন ঐতিহাসিক বলেছেন যে, মামুদের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্ম প্রচার করা । কিন্তু ভারতবর্ষের বহু অভিযানে সফল হয়েও মামুদ ধর্মান্তরিত করার কোন চেষ্টা , এরককম প্রমাণ পাওয়া যায় না । তাই অধ্যাপক মহম্মদ হাবিব বলেছেন, “অত্যন্ত্য জোরের সাথে বলা যায় যে সুলতান মামুদ ধর্মানুবাদ ছিলেন না ।

কিন্তু ঐতিহাসিকদের এই বিতর্ক সমর্থন করা যায় না । মামুদ কেবলমাত্র হিন্দু শাসকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়নি । মুলতানে মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান ধরেছিলেন । ধর্মরত্নের প্রতি তার অদম্য আকর্ষণ ছিল । কারণ বিভিন্ন কারণের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় যে তার ভারত আক্রমণের প্রকৃতিতে ধর্মনৈতিক উদ্দেশ্য গৌণ হয়ে দাড়ায় । অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যেই অভিযানের প্রকৃতিকে মুখ্য প্রেরণা যুগিয়েছিল ।

তবে সুলতান মামুদের ভারত অভিযানের কোন রাজনৈতিক দিক নেই মনে করলে ভুল করা হবে । যদি তিনি ভারতের কোথাও সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেননি । ভারতীয় নরপতিদের কাছ থেকে কোন স্থায়ী কর ও আদায় করতে পারেননি । পাঞ্জাব ছাড়া কোন হিন্দু রাজ্য সাম্রাজ্যভুক্ত করেননি । কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনিই ভারতবর্ষে প্রথম সুলতানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পথ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন ।

বন্ধুরা, আজকে আমরা সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করলাম । আশা করি পোস্ট টি তোমাদের ভালো লেগেছে । আমাদের ওয়েবসাইট এ শিক্ষামূলক ব্লগ পোস্ট করা হয় ।

আরও পড়ুন-

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা

ত্রিশক্তি সংগ্রাম কি? কারণ ও ফলাফল

অস্ত্র আইন কী? অস্ত্র আইন কবে পাশ হয়?

Leave a Comment