স্বদেশী আন্দোলনের কারণ ও ফলাফল

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা স্বদেশী আন্দোলনের কারণ ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করছি । স্বদেশী আন্দোলনের কারণ ও ফলাফল দশম শ্রেণীর ইতিহাসের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষাতে এই প্রশ্নটি বার বার ই এসে থাকে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং নিজের বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্ট এ আমরা তিতুমিরের বিদ্রোহ অথবা তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম ।

স্বদেশী আন্দোলনের কারণ ও ফলাফল

স্বদেশী আন্দোলনের কারণ ও ফলাফল

ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল এর বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমগ্র বঙ্গ জুড়ে গড়ে ওঠে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন । এই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন দেওয়ার উদ্দ্যেশ্যে সমগ্র দেশ জুড়ে শুরু হয় স্বদেশী আন্দোলন ।

স্বদেশী আন্দোলনের কারণগুলি হল নিম্নলিখিত-

১) কার্জনের বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত – স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান কারণ হল স্বদেশী আন্দোলন । লর্ড কার্জন বাংলার প্রেসিডেন্সিকে পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং বঙ্গদেশ নামে দুটি আলাদা প্রদেশে ভাগ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যার ফলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে জুলাই শুরু হয় স্বদেশী আন্দোলন ।

২) বাঙালির ঐক্য ও সংহতির বিনাশ- লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন এর মধ্য দিয়ে বাঙালির ঐক্য ও সংহতি বিনাশ করতে চেয়েছিলেন । নবজাগরণে উদ্ভুব্দ বাঙালি জাতি নিজেদের ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করতে এবং বাংলাকে বিভক্ত করার হাথ থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে শুরু করে স্বদেশী আন্দোলন ।

৩) পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিবাদ- কার্জনের বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কৃষ্ণকুমার মিত্র সম্পাদিত সঞ্জীবনী পত্রিকাতে সর্বপ্রথম ‘বঙ্গের সর্বনাশ’ শিরোনামে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয় । একে একে বেঙ্গল গেজেট, সন্ধ্যা বন্দেমাতরম, হিতবাদী প্রভৃতি দেশীয় পত্রিকা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সরব হলে স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমি রচিত হয় ।

৪) সভাসমিতির দায়ভার- বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রথমে নরমপন্থী ও পরে চরম্পন্থী নেতাদের নিয়ে সভাসমিতি গঠিত হয় । সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক জনসভার আয়োজন করা হয় অপরদিকে আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে কলকাতায় আরও একটি বিশাল জনসভা হয় । এইভাবে একের পর এক জনসভা স্বদেশী আন্দোলনের পথকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল ।

এবার, আমরা স্বদেশী আন্দোলনের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করছি ।

স্বদেশী আন্দোলনের ফলাফল / স্বদেশী আন্দোলনের গুরুত্ব

স্বদেশী আন্দোলনের গুরুত্ব বা ফলাফল গুলি হল-

১) নবযুগের সূচনা- স্বদেশী আন্দোলন প্রকৃত অর্থেই ভারতে জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন । স্বদেশী আন্দলননেই ছিল সর্বপ্রথম স্বরাজের আদর্শে ঘোষিত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন । এই আন্দোলনের ফলে রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা ঘটে ।

২) নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মতবিরোধ– ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জাতীয় কংগ্রেসের নরমপন্থি ও চরমপন্থি দের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় । এই মতভেদ জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনের মধ্যে দিয়ে কংগ্রেসের বিভাজন ঘটে ।

৩) বঙ্গভঙ্গ রদ- স্বদেশী আন্দোলন ব্রিটিশ শক্তির ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে যার ফলে শেষপর্যন্ত ব্রিটিশ বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় । ব্রিটিশ সরকারের প্রতি একটানা প্রতিবাদের ফলে ব্রিটিশ প্রশাসন ভীত হয়ে পড়ে । অবশেষে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ১২ ই ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় ।

৪) সাংস্কৃতিক জাগরণে- স্বদেশী আন্দোলন বাংলায় সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক নব উন্মাদনার সৃষ্টি করে । স্বদেশী যুগের কবিতা, নাটক ও গানগুলি পরবর্তীকালের জাতীয় আন্দোলনকে দেশবাসীকে যোগদানের প্রেরণা জোগায় ।

আরও পড়ুন-

মিহিরকুল কে ছিলেন – ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

মিউনিখ চুক্তি কি – টিকা লেখ

অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ কি?

Leave a Comment