হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা বর্ণনা কর

আজকে আমরা, হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা এ বিষয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করছি । হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিবরণ দাও এই প্রশ্নটি বরাবর ই পরীক্ষাতে আসে তাই প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্ট এ আমরা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুফল ও কুফল আলোচনা কর এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম । আর সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি উত্তরটি দেখে নাও ।

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা- টিকা লেখ

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বৈশিষ্ট্য

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত আধুনিক । হরপ্পার নগরের দুটি অংশ ছিল একটি উপরের পশ্চিমের উঁচু দুর্গাঞ্চল, অপরটি পূর্বের নিম্নাঞ্চল। পুরো শহরটি ছিল প্রাচীর দ্বারা ঘেরা । উঁচু দুর্গাঞ্চলে শাসক শ্রেণীর লোকেরা বাস করত এবং নিম্নাঞ্চলে বাস করত সাধারণ শ্রেণীর মানুষ ।

১) ঘরবাড়ি- হরপ্পার ঘরবাড়ী গুলি ছিল আগুনে পোড়ানো পাকা ইট দিয়ে তৈরি । দুই কামরা বিশিষ্ট ছোট গৃহ থেকে শুরু করে ২৫-৩০ কামরা বিশিষ্ট একতলা, দুইতলা ও তিনতলা পাকাবাড়ি দেখা যেত । প্রতিটি গৃহে নির্দিষ্ট রান্নাঘর, বসার ঘর, উঠোন, স্নানঘর, শোয়ার ঘর ও শৌচাগার এছাড়া কুয়ো এর অস্তিত্ব ছিল বলে মনে করা হয় । কালিবঙ্গানে বাড়ির দরজা জানালা রাস্তার দিকে ছিল এবং কালিবঙ্গান ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে বাড়ির প্রবেশদ্বার সরু গলির দিকে থাকত । শহরের নিম্নাঞ্চলের ছোট বাড়িগুলিতে শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষ বসবাস করত ।

২) রাস্তাঘাট- ৯ থেকে ৩৪ ফুট প্রসস্থ রাস্তাগুলি শহরের পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণে সমান্তরাল ভাবে বিস্তৃত ছিল । রাস্তাগুলি ছিল পোড়া ইট, চুন সুরকি ও পাথর দিয়ে তৈরি । রাস্তার দু পাশে ফুটপাত এবং রাস্তাগুলি পরিষ্কার রাখার জন্য দুপাশে ডাস্টবিন এর ব্যাবস্থা ছিল । রাস্তার দুপাশে আলোর ব্যাবস্থা ছিল । বেশিরভাগ রাস্তা একে অপরকে সমকোণে ছেদ করায় শহরগুলি বর্গাকার ও আয়তাকার রূপ নিয়েছিল।

৩) শস্যাগার- হরপ্পা সভ্যতায় বেশ কয়েকটি শস্যাগার এর সন্ধান পাওয়া গেছে । হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে সন্ধানপ্রাপ্ত শস্যাগার দুটি ছিল শহরের আবশ্যকীয় খাদ্যের মজুত ভাণ্ডার । ঐতিহাসিক এ. এল. বাসাম এই শস্যাগারকে বর্তমান কালের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হরপ্পায় পাওয়া শস্যাগারটি ২০০ x ১৫০ বর্গফুট উঁচু একটি ভিত্তির ওপর অবস্থিত ছিল ।

৪) জীবনযাত্রার ধরণ- হরপ্পার নগরগুলির সমাজ-সংস্কৃতি প্রায় একই ধরণের থাকলেও নগরগুলির পরিকল্পনা, গঠন রীতি, জীবনযাত্রা প্রনালী প্রভৃতির মধ্যে সাদৃশ্য দেখা যায় .। শহরগুলির রাস্তাঘাটের পরিকাঠামো, নকশা, ঘরবাড়ী ও অট্টলিকা প্রায় একই ধরণের ছিল ।

৫) হরপ্পা সভ্যতার পয়ঃপ্রণালী– নগরের বাড়িগুলির নোংরা জল পোড়ামাটির নির্মিত নল দিয়ে বয়ে রাস্তার ধারের নর্দমায় এসে পড়ত এবং সেই নর্দমার মাধ্যমে শহরের বাইরে চলে যেত । ডঃ ব্যাসাম এর মতে, রোমান সভ্যতার আগে কোনো প্রাচীন সভ্যতায় এত উন্নতমানের পয়ঃপ্রণালী ব্যাবস্থা আবিষ্কৃত হয়নি ।

৬) স্নানাগার- শহরের প্রতিটি বাড়ীতে আলদা করে স্নানাগার ছিল । স্নানাগার এর আয়তন দৈর্ঘ্যে ১৮০ ফুট ও প্রস্থ ১০৮ ফুট। স্নানাগারটির চারিদিকে রয়েছে ৮ ফুট উঁচু ইটের দেওয়াল। এছাড়া স্নানাগারে জল গরম ও ঠাণ্ডা করার ও ব্যাবস্থা ছিল ।

৭) ম্যানহােল- হরপ্পা সভ্যতায় শহরের নর্দমার সঙ্গে অনেক ম্যানহােল যুক্ত ছিল। এগুলির ওপরে ঢাকনা বসানাে থাকত এবং ঢাকনা খুলে নিয়মিত সময়অনুযায়ী এগুলো পরিষ্কার করা হত।

উপসংহার – সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা আধুনিক যুগের মতােই উন্নত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল। সুষ্ঠু নাগরিক পরিকল্পনা নগরবাসীকে সুখস্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাত্রা উপহার দিয়েছিল। পৃথিবীর আর কোনো জায়গায় হরপ্পা সভ্যতার মতো উন্নত জীবনজাত্রার পরিকাঠামো ছিল না । প্রাচীন যুগের এমন উন্নত নগর পরিকল্পনা শুধু প্রাচীন ভারত নয় সমগ্র বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতার এক অনন্য নজির।

হরপ্পা সভ্যতার সময়কাল

হরপ্পা সভ্যতার সময়কাল ২৬০০ থেকে ১৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল ।

হরপ্পা সভ্যতার আবিষ্কারক কে

হরপ্পা সভ্যতা ১৮২৬ সালে দয়ারাম সাহানি প্রথম আবিষ্কার করেন । তিনিই প্রথম খনন কাজের মাধ্যমে এই সভ্যতার আত্মপ্রকাশ করেন ।

হরপ্পা সভ্যতার লোকেদের ভাষা কি ছিল

হরপ্পা সভ্যতার লোকেদের ভাষা ছিল দ্রাবিড় ।

আরও পড়ুন-

সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণ গুলি লেখ

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুফল ও কুফল আলোচনা কর

মিউনিখ চুক্তি কি – টিকা লেখ

স্বাধীন ভারতের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা -(১৯৫১-১৯৫৬ খ্রিঃ)

Leave a Comment