হুগলি নদীর উভয় তীরে পাট শিল্পের উন্নতির কারণ

হ্যালো, আজকে আমরা হুগলি নদীর উভয় তীরে পাট শিল্পের উন্নতির কারণ এই প্রশ্নের উত্তরটি আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি । মাধ্যমিক স্তরের এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশ্নটি পরীক্ষায় প্রায়ই এসে থাকে প্রশ্নটি মন দিয়ে পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন ।

এর আগের পোস্টে আমরা পাট চাষের অনুকূল ভৌগলিক পরিবেশ এই প্রশ্নের উত্তরটি আলোচনা করেছিলাম ।

হুগলি নদীর উভয় তীরে পাট শিল্পের উন্নতির কারণ

হুগলি নদীর উভয় তীরে পাট শিল্পের উন্নতির কারণ

পাট উৎপাদনে ভারত পৃথিবীতে প্রথমস্থান অধিকার করেছে । ভারতের পাট শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল হুগলী শিল্পাঞ্চল । ভারতবর্ষের মোট পাট উৎপাদনের ৭৮% পাট উৎপাদন হয় কলকাতার নিকটবর্তী হুগলী নদীর উভয় তীরে । হুগলী নদীর উভয় তীরে উত্তরে বাঁশবেড়িয়া-কল্যাণী থেকে দক্ষিণে বিড়লাপুর-উলবেড়িয়ার মধ্যে ছোট বড় প্রায়ই সব শহরেই পাটকল গড়ে ওঠে । ভারতের প্রথম পাটকল টি গড়ে ওঠে ১৮৫৪ সালে রিষড়াই ।

হুগলী নদীর উভয়তীরে এই পাটশিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি হল-

সহজলভ্য কাঁচাপাট- গাঙ্গেও বদ্বীপ অঞ্চলে ভারতের প্রায় ৭৫% কাঁচাপাট উৎপাদন হয় । তাই এই কাঁচাপাট গুলিকে নদিপথে সহজেই পাটকল গুলিতে আনা যায় । এছাড়াও জলপথে আসাম ও বাংলাদেশ দিয়ে জলপথে প্রচুর কাঁচা পাট আনা হয়, তাই এই অঞ্চলে পাট এর কাঁচামালের কোন অভাব হয় না ।

পর্যাপ্ত জলের জোগান- হুগলী নদীর জল পাটকল গুলিতে প্রয়োজনীয় জলের চাহিদা মেটায় ।

কয়লার সুবিধা- পাটকল গুলি চালানোর জন্য কয়লার প্রয়োজন হলে তা সহজেই রানিগঞ্জের মাধ্যমে সড়কপথে নিয়ে আসা যায় ।

উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থা- হুগলী অঞ্চলটি পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব রেলপথ, হুগলী জলপথ, ন্যাশনাল হাইওয়ে সড়কপথ প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত । কাঁচামাল এর সংরক্ষণ, পাটের আমদানি ও রপ্তানি এই সকল কাজের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই জরুরি, যা এই অঞ্চলেই সহজেই পাওয়া যায় ।

মূলধন- প্রধানত ইংরেজদের মাধ্যমেই এই অঞ্চলের পাটকল গুলি স্থাপিত হয়েছিল তাই এই পাটকলগুলিতে ইংরেজরাই প্রথমে আর্থিক জোগান দিত কিন্তু পরবর্তীকালে ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্থার মাধ্যমে এই পাটকলগুলিতে মূলধন প্রয়োগ করা হয় । তাই মূলধন এর জোগান পেতে এই শিল্পের কোনরকম অসুবিধা হয়নি ।

পর্যাপ্ত বিদ্যুৎশক্তি- হুগলী শিল্পাঞ্চলের নিকটবর্তী বজবজ, মেজিয়া, টিটাগড় প্রভৃতি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পাটকলগুলিকে চালানোর পর্যাপ্ত বিদ্যুৎশক্তি পাওয়া যায় ।

সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক- হুগলীর নিকটবর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড, অসম, বিহার প্রভৃতি রাজ্য থেকে দক্ষ শ্রমিক খুব সহজেই পাওয়া যায় যা পাট শিল্পের উন্নতির প্রধান কারণ ।

পাট শিল্পের সমস্যা গুলি লেখ?

পাট শিল্পের উন্নতির পাশাপাশি আজকের দিনে পাটশিল্পে বেশ কিছু সমস্যাও দেখা দিচ্ছে । যেমন-

১) আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা কমে যাওয়া । পাটের চাহিদা কমে যাওয়া তে পাট শিল্পপতিদের নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ।

২) আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স, জাপান, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশে পাটজাত দ্রব্যের দাম অনেক কম এবং গুণগত মান অনেক বেশী হওয়ায় মানুষ সেইসব অঞ্চলের পাট ই বেশী পছন্দ করে ।

৩) এছাড়া শিল্পাঞ্চল গুলিতে আধুনিকরণের অভাব অর্থাৎ পাটকেন্দ্র গুলিতে অধিকাংশ যন্ত্রই পুরনো হওয়ায় উৎকৃষ্ট মানের পাট উৎপাদনে বাধা দেয় ।

আরও পড়ুন-

ভারতকে মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয় কেন?

ক্ষয়চক্র কাকে বলে – তৃতীয় অধ্যায় ভূগোল SAQ

আগ্নেয়গিরি কাকে বলে? আগ্নেয়গিরি কয় প্রকার ও কি কি?

Leave a Comment