পৃথিবীর আবর্তন গতি কাকে বলে। আবর্তন গতির ফলাফল

আজকে আমরা পৃথিবীর আবর্তন গতি কাকে বলে তা নিয়ে আলোচনা করছি ।

পৃথিবীর আবর্তন গতি কাকে বলে ?

সূর্যকে সামনে রেখে যে নির্দিষ্ট গতিতে পৃথিবী নিজ অক্ষ বা মেরুদণ্ডের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে অবিরামভাবে ঘুরে চলেছে, একেই পৃথিবীর আবর্তন গতি বলে। পৃথিবী একবার নিজ অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে 23 ঘণ্টা 56 মিনিট 4 সেকেন্ড আবর্তন করে।

পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলাফল

১) জোয়ার ও ভাটার সৃষ্টি – মাধ্যাকর্ষণ শক্তি চাঁদ ও সূর্য উভয় এই পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে । কিন্তু চাদের অবস্থান পৃথিবীর থেকে কাছে অবস্থান করায় চাঁদের আকর্ষণ অপেক্ষাকৃত বেশী । আবর্তনের সময় চাঁদ পৃথিবীর সামনে আসে এবং সেই স্থানে সমুদ্রের জলরাশি ফুলে ওঠে অর্থাৎ জোয়ার এর সৃষ্টি হয় । অপরদিকে পৃথিবীর আবর্তনের ফলে বিকর্ষণ শক্তির প্রভাবে জোয়ার এর সৃষ্টি হয় এবং এর সমকোণে অবস্থিত স্থানে সেই সময় ভাটা হয় ।

জোয়ার_ভাটা

আরও পড়ুন – জোয়ার ভাটা কাকে বলে, সৃষ্টির কারণ আলোচনা করো

২) দিন ও রাত্রি হয় – পৃথিবী গােলাকার এবং তার নিজের কোনাে আলাে নেই। সূর্যের আলােতেই পৃথিবী আলােকিত এবং উত্তপ্ত হয়। তাই আবর্তন করার সময় পর্যায়ক্রমে গোলাকার পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের আলাে পড়ে, সেখানে হয় দিন। বিপরীত অংশে সূর্যের আলাে পড়ে না, ফলে সেখানে হয় রাত্রি ।

৩) সময় নির্ধারণ – নিজের অক্ষের ওপর একবার সম্পূর্ণভাবে আবর্তন করতে পৃথিবীর সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন। অর্থাৎ প্রতিটি ঘণ্টাকে ৬০ মিনিটে এবং প্রতিটি মিনিটকে ৬০ সেকেন্ডে ভাগ করে সহজে সময় নির্ধারণ করা যায়।

৪) সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত – পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে বলে পূর্বদিকে সূর্যোদয় এবং পশ্চিমদিকে সূর্যাস্ত হয় ।

৫) নিয়ত বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রভ্রাতের গতিবিক্ষেপ হয় :- নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে পৃথিবীর পরিধি ক্রমশ কমতে থাকে। এজন্য নিরক্ষরেখাতে পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগও সবচেয়ে বেশি হয় এবং মেরুর দিকে ক্রমশ কমে যায়। পৃথিবীর আবর্তন বেগের এই তারতম্যের জন্য নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত প্রভৃতি উত্তর গােলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গালার্ধে বাঁদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয় ।

আরও পড়ুন – আগ্নেয় পর্বত কাকে বলে, উৎপত্তি, প্রকারভেদ এবং বৈশিষ্ট্য

৬) উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ সৃষ্টি :- আবর্তন গতি না থাকলে পৃথিবীর নির্দিষ্ট একটি অর্ধাংশে চিরকাল রাত্রি থাকত ফলে আলাে ও উত্তাপের অভাবে কোনাে কিছুই জন্মাত না। আর, অপর অর্ধাংশে চিরকাল দিন থাকতপ্রচণ্ড উত্তাপে সেখানেও কোনাে কিছু জন্মাত না। আবর্তন গতির জন্য ক্রমে দিনরাত্রি হয় বলে উত্তাপের সমতা বজায় থাকে এবং পৃথিবীতে জীবজগৎ সৃষ্টি হয়েছে।

এতদ্বারা বলা যায় যে পৃথিবীতে আবর্তন গতির প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

পৃথিবীর আবর্তন গতি কত ?

এক কথায় বলা যায়, পৃথিবীর আবর্তন বেগ ঘণ্টায় ১৬৭০ কিলোমিটার বা সেকেন্ডে প্রায় ৪৬৪ মিটার।

Leave a Comment