‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ ছোট গল্পের নিখিল চরিত্রটি পর্যালোচনা করাে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ ছোটগল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র নিখিল হল মৃত্যুঞ্জয়ের অফিসের একজন সমপদস্থ সহকর্মী । গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় হলেও নিখিলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খুবই উজ্জ্বল ভাবে দেখা গিয়েছে । নিখিলের চরিত্রের প্রধান দিক গুলি নীচে দেওয়া হল-

'কে বাঁচায়, কে বাঁচে' ছোট গল্পের নিখিল চরিত্রটি পর্যালোচনা করাে।
কে_বাঁচায়_কে_বাঁচে

‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ ছোট গল্পের নিখিল চরিত্রটি

বন্ধুবৎসল – নিখিল শুধুমাত্র মৃত্যুঞ্জয়ের সহকর্মী নয় একজন সুহৃদয় বন্ধুও । মৃত্যুঞ্জয় নিখিল কে খুব ভালো ভাবে চিনে নিয়েছিল । মৃত্যুঞ্জয় যখন নিরন্ন মানুষদের খোঁজে ফুটপাতে ফুটপাতে ঘুরে বেড়াতে লাগল তখন নিখিলই তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি নিখিলেই অফিসে বলে মৃত্যুঞ্জয়ের ছুটির ব্যবস্থা করে দিয়েছিল । নিখিল স্বার্থপর ছিল না। সে প্রতিমাসে তিন জায়গায় অর্থসাহায্য পাঠাত। তা ছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে সে মৃত্যুঞ্জয়কে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট থেকেছে। সে মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছে এবং মৃত্যুঞ্জয় অফিস যাওয়া বন্ধ করলে তার ছুটির ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাবােধ : নিখিল ছিল এক নিঃস্বার্থ পরায়ন ব্যাক্তি । অফিসের সমপদস্থ সহকর্মী মৃত্যুঞ্জয়ের মাইনে নিখিলের থেকে সামান্য কিছু বেশি হলেও অন্য সকলের মতাে নিখিল তাকে বেশ পছন্দই করত। হয়তাে তাতে কিছুটা অবজ্ঞামিশ্রিত ভালোবাসা জড়িয়ে থাকত। তবে মৃত্যুঞ্জয়ের মানসিক শক্তির কাছে নিখিল কিছুটা যেন নিস্তেজ ছিল। মাঝেমাঝে তার এই ভেবে আপশােশ হত যে সে যদি নিখিল না হয়ে মৃত্যুঞ্জয় হত, তাহলে মন্দ হত না।

বাস্তববাদ সম্পন্ন ব্যাক্তি – নিখিল এক হৃদয়বান যুবক কিন্ত তা হলেও পুরোপুরি আবেগ দ্বারা পরিচালিত নয় । বাস্তববুদ্ধি দিয়ে সে বুঝেছিল যে মৃত্যুঞ্জয় বা সে তাদের যথাসাধ্য শক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়ালেও সমস্ত নিরন্ন মানুষদের মুখে তারা অন্ন জোগাতে পারবে না ।নিখিল দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেলও প্রিয় বন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ের মতাে ভেঙে পড়েনি। সে মৃত্যুঞ্জয়ের মতাে বাস্তব জ্ঞানহীন ছিল না। মৃত্যুঞ্জয় মাইনের পুরাে টাকা রান-তহবিলে দান করলে সে তার প্রতিবাদ করেছে এ কথা ভেবে “এ ভাবে দেশের লােককে বাঁচানাে যায় না ” । নিখিলের মতে “দশ জন মানুষকে না খাইয়ে মারার থেকে নিজেকে না খাইয়ে মারা অনেক বড় পাপ “

সংগ্রামী মনোভাব – বাস্তব দৃষ্টিতে নিখিল জানত যে দুর্ভিক্ষ মনুষ সৃষ্ট । তাই দুর্ভিক্ষের সময়ে দেওয়াটা একটা পাপ বলে তিনি মনে করেন । তার মতে হাত পাতা কখনও কাম্য নয় । কালোবাজারীদের গুদামে মজুত খাদ্য ছিনিয়ে এনে পীরিতদের বাঁচানো উচিত ।

সংসার-উদাসীন : মৃত্যুঞ্জয়ের অফিসের সহকর্মী-বন্ধু ছিল নিখিল। প্রখর বুদ্ধিমান, রােগা চেহারার এই যুবকটি ছিল কিছুটা অলস প্রকৃতির। দুই সন্তানের পিতা নিখিলের সংসারে বিশেষ মন ছিল না বলে কেউ কেউ মনে করতেন। বইপত্র পড়ে এবং নিজের ভাবনার জগতে বিচরণ করেই অবসর সময় কাটাত এই অন্তর্মুখী যুবকটি।

Read More : click here

Leave a Comment